hadith book logo

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাদকাসক্তির প্রভাব ও তার সমাধান

লেখকঃ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মো. মোশাররফ হোসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৮

মাদকতা নির্মূলে আল-কুরআন

মাদক নিষিদ্ধকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে আল্লাহর দেওয়া বিভিন্ন নেয়ামত থেকে মানুষ কিভাবে উপকৃত হয়ে থাকে তা তুলে ধরা হয়েছে [দেখুন আল-কুরআন, সুরা নাহল, আয়াত ৬৭।] কিন্তু ইঙ্গিতে একথাও বলে দেয়া হয়েছে যে, মদ পবিত্র রিযিক রূপে গণ্য হতে পারে না তাই তা নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। মদের প্রতি ঘৃণার বীজ লোকদের মনে বপন করাই ছিল এই আয়াতের মূল উদ্দেশ্য। [মাওলানা আবদুর রহীম, অপরাধ প্রতিরোধে ইসলাম, (ঢাকা: খায়রুন প্রকাশীন, ১৯৯৭), পৃ. ২৪২-২৪৩)]

দ্বিতীয় পর্যায়ে নাযিলকৃত আয়াতটিতে বলা হয়েছে, এতে বড় গুনাহ্ রয়েছে, উপকারও আছে বটে। তবে উপকারের তুলনায় গুনাহ অনেক বড়। [দেখুন আল-কুরআন, সুরা আল বাকারা, আয়াত ২১৯।] এতে মদ্যপানের দরুন যে সব পাপ ও ফাসাদ সৃষ্টি হয়, তা বর্ণনা দিয়েই ক্ষান্ত করা হয়েছে। মদ্যপান হারাম করা হয়নি, বরং এই মর্মে একটা পরামর্শ বলা যায় যে, এটা বর্জনীয় বস্তু। কিন্তু বর্জন করার কোনো নির্দেশ এতে দেয়া হয়নি। [মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী, তাসীরে মা আরেফুল-কোরআন, প্রথম খন্ড, পৃ. ৫৮৩-৮৪।] তবে এই আয়াত নাযিলের পর কেউ কেউ মদ পান করতো, আবার কেউ কেউ ছেড়ে দিলেন। [ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, মৌলিক সমস্যা সমাধানে ইসলামী আইন, (ঢাকা: ইসলামী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জানুয়ারী, ২০০৬), পৃ. ৪৫২।]

উপরোক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলো। তারপর কিছু কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্থাৎ নামাযের সময়ে মদ পান নিষিদ্ধ করা হল [দেখুন আল-কুরআন, সুরা আন-নিসা, আয়াত ৪৩।], ফলে একদল তা সব সময়ের জন্য বর্জন করল। অন্য একদল সালের সময় ব্যতীত অন্য সময়ে পান করতে থাকলেন। [আবু তাইয়্যেব সিদ্দিক ইবনে হাসান, ফাতহু আল-বয়ান ফি মাকাসিদি আল-কুরআন, (বাইরুত: লেবাবন: দারু আল-ফিতাব আল-ইলমিয়্যাহ, প্রথম সংস্করণ ১৯৯৯), ২য় খন্ড, পৃ. ৩১০।]

চতুর্থ পর্যায়ে মদকে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করা হলো। [দেখুন, আল-কুরআন, সূরা মায়েদা, আয়াত ৯০-৯১।]