hadith book logo

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাদকাসক্তির প্রভাব ও তার সমাধান

লেখকঃ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মো. মোশাররফ হোসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৯

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য বিনষ্ট:

স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি একধাপ এগিয়ে গেলে দুই ধাপ পিছিয়ে আসে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ক্ষুদ্র এ রাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সাথে তাল মিলিয়ে সমানভাবে এগুতে পারছে না। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর সাথে রয়েছে বড় ধরনের ব্যবধান। বিশেষ করে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের সাথে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাৎ। ঠিক এ অবস্থায় ভারত থেকে প্রতিদিন চোরাই পথে আসছে কোটি কোটি টাকার ফেনসিডিল এবং পাচার হয়ে যাচ্ছে দেশীয় সম্পদ। সীমান্তের ফাঁক গলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ লাখ বোতল ফেনসিডিল আসে এখানে। [দৈনিক সংগ্রাম, ২৭ অক্টোবর, ২০০৪, পৃ. ৩।] প্রতি বোতল ফেনসিডিল বোতলের দাম ২০০ টাকা [এটি সর্বনিম্ন রেট, প্রতি বোতল ফেনসিডিল বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। দেখুন দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ অক্টোবর, ২০০৪, পৃ. ৩। আবার বরগুনা শহরে বিক্রি হয় বোতল প্রতি ২২৫ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। দেখুন প্রথম আলো, ২৬ জুন, ২০০৫, পৃ. ৪। বর্তমানে প্রতিবোতল ফেনসিডিলের দাম তার চাইতে অনেক বেশী।] ধরলে প্রতিদিন খরচ হয় ২০ কোটি টাকা, বাৎসরিক হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৩শত কোটি টাকা। এভাবে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের কবলে পড়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে।

দেশে চোরাই পথে মালামাল আসলে যেমন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা এতে সরকার কর ও টেক্স থেকে বঞ্চিত হয় এবং সরকারের সুনির্দিষ্ট আমদানী ও রপ্তানী বাধাগ্রস্ত হয়। এর সাথে দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে গেলে বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ে সরকারকে বিপাকে পড়তে হয়।