hadith book logo

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাদকাসক্তির প্রভাব ও তার সমাধান

লেখকঃ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মো. মোশাররফ হোসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১১

আর্থিক দেউলিয়াপনা বৃদ্ধি:

একজন নিয়মিত মাদকসেবীর চাহিদার প্রথমেই থাকে মাদক। যদি সে রিক্সা চালক হয়, তাহলে প্রথমেই তার মাদকের প্রয়োজনীয় অর্থ রেখে বাকীটা অন্যান্য খাতে খরচ করবে। যদি রোজগার কম হয়, তাহলে ভাত-পানি না খেয়ে মাদক সেবন করবে। এভাবে মাদকাসক্তি ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক দিককে ক্রমাবনতির দিকে নিয়ে যায় এবং তাকে অর্থনৈতিক দিক দিয়েও পঙ্গু করে দেয়। মদখোর যখন সব সম্পত্তি হারিয়ে ফেলে, তখন আন্তরিক দারিদ্রতায় ও অবস্থানিক দরিদ্রতায় নিপতিত হয়। তার জীবন পর্যুদস্ত দরিদ্র ও রাস্তায় পড়া ভিক্ষুকের ন্যায় হয়ে যায়। তার পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না, নিঃস্ব হয়ে পড়ে। [আল-জাযীরী: কিতাব আল-ফিকহ আলা-মাযাহিব আল-আরবা‘আ, বৈরুত: দারুল মা‘আরিফা ১৩৯৩, হি. ৫ম খ., পৃ. ২৭।] পরিসংখ্যানে দেখা যায় প্রতিজন মাদকাসক্ত গড়ে মাসে প্রায় ৪০০০ টাকা খরচ করে। [খুশী মোহন বিশ্বাস, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও এর নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের ভূমিকা (ঢাকা: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-০৮ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত স্যুভেনির), পৃ. ৪৮; মে রেজাউল ইসলাম, প্রাগুক্ত, পৃ. ১৮৫।] বাংলাদেশে ফেনসিডিল বোতল প্রতি বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। হেরোইন এক পুরিয়ার দাম ১০০ থেকে ১২৫ টাকা। [দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ অক্টোবর, ২০০৪, পৃ. ৩।] ক্লায়েন্ট মনিটরিং সিস্টেমে পরিচালিত সহকারী এক জরিপে জানা গেছে, প্রতিজন মাদকাসক্ত গড়ে মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা খরচ করে। [দৈনিক সংগ্রাম, ২৮ অক্টোবর, ২০০৪, পৃ. ৩।] দেশে নূন্যতম ৫০ লাখ মাদকাসক্ত ধরলেও এ রাষ্ট্রে মাদক ব্যবহার বাবদ মাসিক মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার কোটি টাকা। বছরে ব্যয় হয় ২৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ অপচয়ের এ রাস্তা ধরে প্রতি বছর অসহায় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আশংকাজনকহারে বেড়েই চলেছে।