hadith book logo

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাদকাসক্তির প্রভাব ও তার সমাধান

লেখকঃ ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান, মো. মোশাররফ হোসাইন • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

চোরাচালান, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার:

মাদকাসক্তির সাথে চোরাকারবারের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে যা দেশের সুষ্ঠু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করে। এ ছাড়া দেশীয় মুদ্রা পাচারের সাথেও মাদকাসক্তির যোগসূত্র রয়েছে। পাশ্চাত্য দেশগুলোতে আফিমজাত মাদকদ্রব্য হেরোইনের চাহিদা বিপুল এবং দিনে দিনে এ চাহিদা বাড়ছে বৈ কমছে না। উৎপন্নকারী দেশগুলোর সাথে ব্যবহারকারী দেশগুলোতে মাদকদ্রব্যের মূল্যের রয়েছে আকাশ পাতাল তফাৎ। এ অঞ্চলে এক কেজি হেরোইনের দাম যেখানে ৫(পাঁচ) লক্ষ টাকা বা তারও কম, পশ্চিমা দেশগুলোতে এর দাম কোটি টাকা। এ বিপুল মুনাফা আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্য চোরাচালানী সংগঠনগুলোকে করেছে আরো সুসংগঠিত আরো শক্তিশালী। [খ.ম. আমিনুল ইসলাম, বিচ্যুতি ও অপরাধ, ঢাকা, আজিজিয়া বুক ডিপো, প্রথম প্রকাশ মার্চ-২০০৫, পৃ. ১২১।] মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস ২৬ জুন, ২০০৫ পালন উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশে ৬ হাজার কোটি টাকা মাদক ব্যবসা হচ্ছে। অথচ মূল হোতারা ধরাছোয়ার বাইরে থাকছে। ধরা পড়ছে খুচরা মাদক বিক্রেতা কিংবা মাদকসেবীরা। [প্রথম আলো, ২৬ জুন ২০০৫, পৃ. ১।]

মাদকাসক্তির ফলে মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য চোরাচালানও বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি বছর প্রচুর টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। সরকার বঞ্চিত হয় শুল্ক হতে। একটি তথ্যে জানা যায়, আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসাযী ও চোরাচালানকারীরা বাংলাদেশের নেশার বাজার থেকে প্রতিবছর কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। [এম. ইমদাদুল হক, মাদকাসক্তি: জাতীয় ও বিশ্ব পরিপ্রেক্ষিত, ঢাকা, ছায়া প্রশাশনী, ১৯৯৩, পৃ. ১৮৫।] ফলে দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রতিকুলতা মোকাবিলা করতে হচ্ছে।