১
কোরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান সামঞ্জস্যপূর্ণ না অসামঞ্জস্যপূর্ণ
লেখকঃ ডঃ জাকির আবদুল করিম নায়েক • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩১
১১. ভ্রূণতত্ব মুসলমানরা উত্তর চায়
একদল মুসলিম পণ্ডিত ইয়েমেনের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ শেখ আবদুল মজীদ যিন্দানীর নেতৃত্বে পবিত্র কোরআন মজীদ এবং বিশুদ্ধ হাদীস থেকে ভ্রূণতত্ত্ব সহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করে তা ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন। ভ্রূণতত্ব বলতে বুঝায়, জন্মের পূর্বে মানুষের বিকাশ সম্পর্কিত বিদ্যা। এ ক্ষেত্রে তারা কোরআনের নিম্নোক্ত উপদেশকে সামনে রেখেছেন।
فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
“অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে”-সূরা আল নহল-৪৩ -সূরা আল আম্বিয়া-৭
কোরআন এবং হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করে ইংরেজীতে অনুবাদের পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান যুগে ভ্রূণতত্বে সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডঃ কেইথ মুরকে সেগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করতে বলা হয়। ডঃ মুর ভালভাবে সেগুলো অধ্যায়নের পর বলেনঃ কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে যা এসেছে, ভ্রূণবিদ্যার ক্ষেত্রে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সেগুলোর অধিকাংশের পূর্ণ মিল রয়েছে, কোন বেমিল বা বৈসাদৃশ্য নেই। তিনি কিছু সংখ্যক আয়াতের মর্মের যথার্থতা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি সেগুলোর বক্তব্য সত্য না মিথ্যা বলতে পারছেন না। কেননা সে তথ্যগুলো সম্পর্কে তিনি নিজেও ওয়াকিফহাল নন। আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন উল্লেখ দেখা যায়না। এরকম একটি আয়াত হলঃ
اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ . خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ
“পড় তোমার প্রভূর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।” -সূরা আলাক-১-২
আরবী ভাষায় علقة শব্দের অর্থ হল, জমাট রক্ত। এর অপর অর্থ হল, দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে- এমন আঠালো জিনিস। যেমন, জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।
ডঃ মুর জানেন না যে, প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণকে কি জোঁকের মত দেখায়? তিনি এটা যাচাই করার জন্য এক শক্তিশালী মাইক্রোস্কোফের সাহায্যে ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা গবেষণা করেন এবং বলেন যে, ভ্রূণের চিত্র দেখতে জোঁকের আকৃতির মত। তিনি এ দুটোর মধ্যে অদ্ভুত সামঞ্জস্য দেখে অভিভূত হয়ে যান। একইভাবে, তিনি ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআন থেকে আরো বেশী জ্ঞান অর্জন করেন যা তার জানা ছিল না।
ডঃ মুর কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রণতত্ব সম্পর্কিত ৮০টি প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, কোরআন ও হাদীসে উল্লেখিত তথ্যগুলো ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল। তিনি আরো বলেন, আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর আগে এ সকল প্রশ্ন করা হত, তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সে গুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।
তিনি সৌদী আরবের দাম্মামে, ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত এক চিকিৎসা সম্মেলনে বলেন, কোরআনে মানুষের বিকাশ সম্পর্কিত বর্ণনার ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে, মোহাম্মদের কাছে এ সকল বর্ণনা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে। কেননা, পরবর্তী বহু শতাব্দী পরেও এর অধিকাংশ জ্ঞান আবিষ্কৃত হয়নি। এর দ্বারা আমার কাছে একথা প্রমাণিত যে, মোহাম্মদ অবশ্যই আল্লাহর নবী।
ডঃ কেইথ মুর আগে ‘The Developing Human’ নামক একটা বই লিখেছিলেন। কিন্তু কোরআন থেকে জ্ঞান সংগ্রহের পর তিনি তার ঐ বইয়ের ৩য় সংস্করণ প্রকাশ করেন। বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বইটি বিশ্বের বড় বড় অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ভ্রূণ বিদ্যার পাঠ্য বই হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
আমেরিকার হিউষ্টনে বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ জোয়লিগ সিম্পসন ঘোষণা করেন যে, ৭ম শতাব্দীতে, বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উৎস ও ভিত্তি থেকে মোহাম্মদের বর্ণিত হাদীসগুলো গৃহীত হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে, ধর্মের (ইসলামের) সাথে জন্ম সংক্রান্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই। অধিকন্তু ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম তার অবতীর্ণ জ্ঞান দিয়ে কিছু প্রচলিত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীকে পথ প্রদর্শন করতে পারে।------ কোরআনের বর্ণনাগুলো পরবর্তী শতাব্দী গুলোতে যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে। এর দ্বারা একথার সমর্থন পাওয়া যায় যে, কোরআনের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত।”
فَسۡـَٔلُوۡۤا اَہۡلَ الذِّکۡرِ اِنۡ کُنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ
“অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর, যদি তোমাদের জানা না থাকে”-সূরা আল নহল-৪৩ -সূরা আল আম্বিয়া-৭
কোরআন এবং হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কিত বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করে ইংরেজীতে অনুবাদের পর কানাডার টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্রূণতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বর্তমান যুগে ভ্রূণতত্বে সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডঃ কেইথ মুরকে সেগুলোর ব্যাপারে মন্তব্য করতে বলা হয়। ডঃ মুর ভালভাবে সেগুলো অধ্যায়নের পর বলেনঃ কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে যা এসেছে, ভ্রূণবিদ্যার ক্ষেত্রে আবিষ্কৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যের সাথে সেগুলোর অধিকাংশের পূর্ণ মিল রয়েছে, কোন বেমিল বা বৈসাদৃশ্য নেই। তিনি কিছু সংখ্যক আয়াতের মর্মের যথার্থতা সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি। তিনি সেগুলোর বক্তব্য সত্য না মিথ্যা বলতে পারছেন না। কেননা সে তথ্যগুলো সম্পর্কে তিনি নিজেও ওয়াকিফহাল নন। আধুনিক ভ্রূণ বিদ্যায় বা লেখায় সেগুলোর কোন উল্লেখ দেখা যায়না। এরকম একটি আয়াত হলঃ
اِقۡرَاۡ بِاسۡمِ رَبِّکَ الَّذِیۡ خَلَقَ . خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ عَلَقٍ
“পড় তোমার প্রভূর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে।” -সূরা আলাক-১-২
আরবী ভাষায় علقة শব্দের অর্থ হল, জমাট রক্ত। এর অপর অর্থ হল, দৃঢ়ভাবে আটকে থাকে- এমন আঠালো জিনিস। যেমন, জোঁক কামড় দিয়ে আটকে থাকে।
ডঃ মুর জানেন না যে, প্রাথমিক অবস্থায় ভ্রূণকে কি জোঁকের মত দেখায়? তিনি এটা যাচাই করার জন্য এক শক্তিশালী মাইক্রোস্কোফের সাহায্যে ভ্রূণের প্রাথমিক অবস্থা গবেষণা করেন এবং বলেন যে, ভ্রূণের চিত্র দেখতে জোঁকের আকৃতির মত। তিনি এ দুটোর মধ্যে অদ্ভুত সামঞ্জস্য দেখে অভিভূত হয়ে যান। একইভাবে, তিনি ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে কোরআন থেকে আরো বেশী জ্ঞান অর্জন করেন যা তার জানা ছিল না।
ডঃ মুর কোরআন ও হাদীসে বর্ণিত ভ্রণতত্ব সম্পর্কিত ৮০টি প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, কোরআন ও হাদীসে উল্লেখিত তথ্যগুলো ভ্রূণতত্ব সম্পর্কে সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল। তিনি আরো বলেন, আমাকে যদি আজ থেকে ৩০ বছর আগে এ সকল প্রশ্ন করা হত, তাহলে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের অভাবে আমি সে গুলোর অর্ধেকেরও উত্তর দিতে পারতাম না।
তিনি সৌদী আরবের দাম্মামে, ১৯৮১ সালে অনুষ্ঠিত এক চিকিৎসা সম্মেলনে বলেন, কোরআনে মানুষের বিকাশ সম্পর্কিত বর্ণনার ব্যাখ্যা করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে, মোহাম্মদের কাছে এ সকল বর্ণনা আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে। কেননা, পরবর্তী বহু শতাব্দী পরেও এর অধিকাংশ জ্ঞান আবিষ্কৃত হয়নি। এর দ্বারা আমার কাছে একথা প্রমাণিত যে, মোহাম্মদ অবশ্যই আল্লাহর নবী।
ডঃ কেইথ মুর আগে ‘The Developing Human’ নামক একটা বই লিখেছিলেন। কিন্তু কোরআন থেকে জ্ঞান সংগ্রহের পর তিনি তার ঐ বইয়ের ৩য় সংস্করণ প্রকাশ করেন। বইটি একক লেখকের সর্বোত্তম চিকিৎসা বই হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বইটি বিশ্বের বড় বড় অনেক ভাষায় অনুদিত হয়েছে এবং ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের জন্য ভ্রূণ বিদ্যার পাঠ্য বই হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
আমেরিকার হিউষ্টনে বেলর কলেজ অব মেডিসিনের ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ জোয়লিগ সিম্পসন ঘোষণা করেন যে, ৭ম শতাব্দীতে, বিদ্যমান বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের উৎস ও ভিত্তি থেকে মোহাম্মদের বর্ণিত হাদীসগুলো গৃহীত হয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল যে, ধর্মের (ইসলামের) সাথে জন্ম সংক্রান্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোন বিরোধ নেই। অধিকন্তু ধর্ম অর্থাৎ ইসলাম তার অবতীর্ণ জ্ঞান দিয়ে কিছু প্রচলিত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীকে পথ প্রদর্শন করতে পারে।------ কোরআনের বর্ণনাগুলো পরবর্তী শতাব্দী গুলোতে যথার্থ প্রমাণিত হয়েছে। এর দ্বারা একথার সমর্থন পাওয়া যায় যে, কোরআনের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত।”