১
শয়তান থেকে বাঁচার কৌশল
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১২
মোবাইলের অপব্যবহার
বর্তমান যুগে মোবাইল একটি অতি পরিচিত নাম। অত্যাধুনিক নানা প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ মোবাইল এখন বাজারে পাওয়া যায়। সম্প্রতি ইন্টারনেট প্রযুক্তিও এ মোবাইলে সংযুক্ত হয়েছে। টিভি, ভিসিডি, কম্পিউটার এসবের কাজ এখন মোবাইলের মাধ্যমেও করা যায়। কিন্তু এই মোবাইল নামক ক্ষুদ্র যন্ত্রটির অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এভাবে শয়তান তার উদ্দেশ্য হাসিল করছে। যেমন-
১. অবৈধ সম্পর্কের অবাধ বিস্তার :
পারিবারিক শাসনের কারণে যারা এতদিন প্রেম বা ভালোবাসার কবলে পড়েনি, তারাও আজ মোবাইলের মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলছে। যে যুবক টাকার অভাবে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে না, এখন সেও মোবাইলের স্বত্ত্বাধিকারী হয়েছে। নিজের মোবাইল সেটে সজোরে গান শুনছে।
২. গান-বাদ্যের বিস্তার :
রিংটোন মোবাইলের অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মোবাইলে লোড করা অধিকাংশ রিংটোনই বাংলা, ইংরেজি বা হিন্দি গানের মিউজিক হয়ে থাকে। অথচ গান-বাদ্যে অংশগ্রহণ করা বা শুনা উভয়ই গুনাহের কাজ। অশ্লীল গান তো আরো মারাত্মক পাপের বিষয়। যারা কোনদিন গান-বাজনা শুনেননি এবং নিজের ধার্মিকতাকে রক্ষা করেছেন, তারাও এ পর্যায়ে মোবাইলে গান বা মিউজিক শুনতে একরকম বাধ্যই হন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদে পর্যন্ত গানের রিংটোন বেজে উঠে। মোবাইল বন্ধ না করে সালাত শুরু করলে, কল এসে পড়লে গানের আওয়াজ শুধু এর বাহকের নয়, সকল মুসল্লীর সালাতে ব্যঘাত ঘটায়।
অনেকে গান চালু করে কানে এয়ারফোন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। যদি এই গান শুনা অবস্থায় কেউ মারা যায় তাহলে তার কী অবস্থা হবে, এক বার ভেবে দেখেছেন কি?
আল্লাহ তা’আলা বলেন-
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِيْ لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ ﴾
এক শ্রেণির লোক রয়েছে যারা কোনরূপ ইল্ম ছাড়াই (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করার জন্য অনর্থক কথা ক্রয় করে। [সূরা লুকমান- ৬।]
অধিকাংশ মুফাস্সিরগণের মতে, এ আয়াতে লাহওয়াল হাদীস দ্বারা গান-বাজনাকে বুঝানো হয়েছে।
হাসান বসরী (রহ.) বলেন, (এই আয়াত) গান ও বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে অবর্তীণ হয়েছে।
৩. বাদ্যযন্ত্র : আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেন-
﴿وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ﴾
তাদের মধ্য হতে তুমি যাদেরকে স্বীয় স্বর দ্বারা বিপথগামী করতে পার তাদেরকে বিপথগামী করতে থাকো। [সূরা বনী ইসরাঈল- ৬৪।]
এখানে স্বর অর্থ : গান ও বাদ্যযন্ত্র।
মোবাইল ব্যবহারকারীদের করণীয় :
১. মোবাইলে কথা বলার শুরুতে ও সমাপ্তিতে বিশুদ্ধভাবে সালাম দিন। অপর পাশ থেকে আগে সালাম দিলে, শুদ্ধভাবে সালামের জবাব দিন।
২. অযথা মিস কল দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. দু-একবার রিং করার পর রিসিভ না করলে, অপর পক্ষ কোন জরুরি কাজে আছে ভেবে আপাতত বিরত থাকুন। প্রয়োজনে পরে আবার কল করুন।
৪. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জামা‘আতের সময় কাউকে কল করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. গভীর রাতে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন করে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো থেকে বিরত থাকুন।
৬. মোবাইলে যাতে কখনো কোন নাজায়েয বিষয়ের অবতারণা না হয়, সে ব্যাপারে সবসময় সাবধান থাকুন।
৭. মোবাইলের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
১. অবৈধ সম্পর্কের অবাধ বিস্তার :
পারিবারিক শাসনের কারণে যারা এতদিন প্রেম বা ভালোবাসার কবলে পড়েনি, তারাও আজ মোবাইলের মাধ্যমে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলছে। যে যুবক টাকার অভাবে ভালোভাবে লেখাপড়া করতে পারে না, এখন সেও মোবাইলের স্বত্ত্বাধিকারী হয়েছে। নিজের মোবাইল সেটে সজোরে গান শুনছে।
২. গান-বাদ্যের বিস্তার :
রিংটোন মোবাইলের অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মোবাইলে লোড করা অধিকাংশ রিংটোনই বাংলা, ইংরেজি বা হিন্দি গানের মিউজিক হয়ে থাকে। অথচ গান-বাদ্যে অংশগ্রহণ করা বা শুনা উভয়ই গুনাহের কাজ। অশ্লীল গান তো আরো মারাত্মক পাপের বিষয়। যারা কোনদিন গান-বাজনা শুনেননি এবং নিজের ধার্মিকতাকে রক্ষা করেছেন, তারাও এ পর্যায়ে মোবাইলে গান বা মিউজিক শুনতে একরকম বাধ্যই হন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদে পর্যন্ত গানের রিংটোন বেজে উঠে। মোবাইল বন্ধ না করে সালাত শুরু করলে, কল এসে পড়লে গানের আওয়াজ শুধু এর বাহকের নয়, সকল মুসল্লীর সালাতে ব্যঘাত ঘটায়।
অনেকে গান চালু করে কানে এয়ারফোন লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। যদি এই গান শুনা অবস্থায় কেউ মারা যায় তাহলে তার কী অবস্থা হবে, এক বার ভেবে দেখেছেন কি?
আল্লাহ তা’আলা বলেন-
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِيْ لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيْلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ ﴾
এক শ্রেণির লোক রয়েছে যারা কোনরূপ ইল্ম ছাড়াই (মানুষকে) আল্লাহর পথ থেকে ভ্রষ্ট করার জন্য অনর্থক কথা ক্রয় করে। [সূরা লুকমান- ৬।]
অধিকাংশ মুফাস্সিরগণের মতে, এ আয়াতে লাহওয়াল হাদীস দ্বারা গান-বাজনাকে বুঝানো হয়েছে।
হাসান বসরী (রহ.) বলেন, (এই আয়াত) গান ও বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে অবর্তীণ হয়েছে।
৩. বাদ্যযন্ত্র : আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে লক্ষ্য করে বলেন-
﴿وَاسْتَفْزِزْ مَنِ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ﴾
তাদের মধ্য হতে তুমি যাদেরকে স্বীয় স্বর দ্বারা বিপথগামী করতে পার তাদেরকে বিপথগামী করতে থাকো। [সূরা বনী ইসরাঈল- ৬৪।]
এখানে স্বর অর্থ : গান ও বাদ্যযন্ত্র।
মোবাইল ব্যবহারকারীদের করণীয় :
১. মোবাইলে কথা বলার শুরুতে ও সমাপ্তিতে বিশুদ্ধভাবে সালাম দিন। অপর পাশ থেকে আগে সালাম দিলে, শুদ্ধভাবে সালামের জবাব দিন।
২. অযথা মিস কল দেয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. দু-একবার রিং করার পর রিসিভ না করলে, অপর পক্ষ কোন জরুরি কাজে আছে ভেবে আপাতত বিরত থাকুন। প্রয়োজনে পরে আবার কল করুন।
৪. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জামা‘আতের সময় কাউকে কল করা থেকে বিরত থাকুন।
৫. গভীর রাতে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফোন করে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো থেকে বিরত থাকুন।
৬. মোবাইলে যাতে কখনো কোন নাজায়েয বিষয়ের অবতারণা না হয়, সে ব্যাপারে সবসময় সাবধান থাকুন।
৭. মোবাইলের অপব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।