hadith book logo

শয়তান থেকে বাঁচার কৌশল

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৫

শয়তান সৃষ্টির উদ্দেশ্য

আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুর মধ্যেই তাঁর হেকমত নিহিত রয়েছে, যা তিনিই ভালো জানেন। আর তাঁর সেই হেকমতের অংশ হলো, ইবলিসকে সৃষ্টি করা। তিনি এর মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা ও কুদরতকে প্রকাশ করেছেন। তিনি যেমন সৃষ্টি করেছেন রাতের বিপরীত দিন, আলোর বিপরীত অন্ধকার, রোগের বিপরীত ঔষধ, পানির বিপরীত আগুন এবং মন্দের বিপরীত ভালো। ঠিক তেমনিভাবে ফেরেশতাদের বিপরীত শয়তান সৃষ্টি করেছেন। কেননা ফেরেশতারা কেবল মঙ্গলজনক কাজে নিয়োজিত থাকে; আর শয়তান কেবল অমঙ্গলজনক কাজে নিয়োজিত থাকে। আর এটা হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার কুদরতের পূর্ণতা। তিনি এর দ্বারা এ কথা প্রমাণ করেছেন যে, তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের বিপরীত বস্তুও সৃষ্টি করতে সক্ষম।

তাছাড়া আল্লাহ তা‘আলার একটি গুণ হচ্ছে যে, তিনি অনুগ্রহকারী। আবার এর বিপরীতে তাঁর আরেকটি গুণ হচ্ছে, তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। তাঁর এ উভয় গুণের পূর্ণতা বাস্তবায়ন হয়েছে শয়তান সৃষ্টির ফলে। তিনি যেমন তাঁর নেক বান্দাদেরকে পুরস্কৃত করবেন, তেমনিভাবে তিনি শয়তানের অনুসারীদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন।

আল্লাহ সত্য ও অসত্য দুটো পথই দেখিয়ে দিয়েছেন, যে যেটা বেছে নেবে সে সে অনুযায়ী শাস্তি বা পুরস্কার পাবে। সত্য পথ দেখানোর জন্য তিনি যেমন দূত পাঠিয়েছেন, তেমনি মিথ্যার উস্কানি দিতে শয়তানকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন। আর সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করতে তিনি মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন এবং আসমানী কিতাবও দিয়েছেন।

আমরা জাগতিক বিচারেও দেখি যে, পরীক্ষা যত কঠিন হয়, তাতে উত্তীর্ণ হলে তার ফলাফলও তত দামী হয়। জান্নাত আল্লাহর এক অসীম অনুগ্রহ ও অচিন্তনীয় পুরস্কার। এটা পেতে আমাদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে, সাধনা করতে হবে, শয়তানের সাথে যুদ্ধ করতে হবে। শয়তান যদি না-ই থাকত, তবে এ পরীক্ষা থাকত না।