১
শয়তান থেকে বাঁচার কৌশল
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৩
রমাযান মাসে শয়তান কীভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করে
عَنْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ اِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ اَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ اَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتْ الشَّيَاطِينُ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন রমাযান মাস আগমন করে তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। [সহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৪৮; ইবনে হিববান, হা/৩৪৩৪; সুনানুল বায়হাকী কুবরা, হা/৮২৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৭৮০।]
এ হাদীসে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা রমাযান মাসে শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে দেন। সুতরাং খুব সহজেই এই প্রশ্ন আসে যে, শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার পরেও মানবজাতি পাপকাজে লিপ্ত থাকে কীভাবে?
এর উত্তর হলো :
(১) শয়তান যাকে ১১ মাস কুমন্ত্রণা দিতে পারে তাকে একমাস কুমন্ত্রণা না দিলেও সে পাপকাজ করে যায়। কারণ সারা বছর শয়তানের কাজ করলে শয়তানী কাজ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। এজন্য একমাস শয়তান বাঁধা থাকলেও পূর্বের অভ্যাসের কারণে মানুষ পাপকাজ করে।
(২) শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ বলেই শয়তান একেবারে শেষ হয়ে যায়নি বা মরে যায়নি; বরং সে এখনো জীবিত আছে এবং দীর্ঘ ১১টি মাস সে তার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ওই ১১ মাস শয়তান যেসব মানুষকে পাপে জড়াতে পেরেছে তার প্রভাব মানুষকে রমাযান মাসেও প্রভাবিত করে।
যেমন, কোন ব্যক্তি যদি ১ঘণ্টা দৌড়ায় এবং হঠাৎ সে থেমে যায়, তাহলে সে ১ মিনিটেই দৌড়ের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। ঠিক তেমনিভাবে ১টি মাসের জন্য শয়তানের কার্যক্ষমতা অক্ষম করে দিলেও তার প্রভাব থেকে যায়।
(৩) নবী ﷺ বলেছেন, শয়তানরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ তারা স্বল্প জায়গায় ঘোরাফেরা করতে পারে। সুতরাং কেউ যদি শয়তানের ঘোরাফেরার আওতার বাইরে থাকে তাহলে সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে। কিন্তু যারা শয়তানকে খোঁজে বেড়ায় তারা শয়তান থেকে বাঁচতে পারে না।
(৪) এমনও হতে পারে, পবিত্র রমাযান মাসে বড় বড় শয়তানরা অনুপস্থিত থাকে; কিন্তু শয়তানের দোসররা মুক্ত থাকে এবং তারাই মানুষের ভেতরে কুমন্ত্রণা ঢুকিয়ে দেয়।
(৫) এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তা‘আলা যে শয়তানকে বন্দি করেন সে জিন জাতির সদস্য; কিন্তু মানবজাতির ভেতরের শয়তান তখনো মুক্ত থাকে।
শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করাটা বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। কেননা এ সময় শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার কারণে বান্দা সৎকাজ করার সুযোগ পায় এবং নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারে। আর এ সুযোগ দ্বারা মুমিনগণই বেশি উপকৃত হয়। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা এ মাসে রোযা পালন করাসহ আরো কিছু কর্মনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এগুলোকে সঠিকভাবে পালন করলেই শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যখন রমাযান মাস আগমন করে তখন আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। [সহীহ বুখারী, হা/১৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হা/২৫৪৮; ইবনে হিববান, হা/৩৪৩৪; সুনানুল বায়হাকী কুবরা, হা/৮২৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৭৮০।]
এ হাদীসে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তা‘আলা রমাযান মাসে শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে দেন। সুতরাং খুব সহজেই এই প্রশ্ন আসে যে, শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার পরেও মানবজাতি পাপকাজে লিপ্ত থাকে কীভাবে?
এর উত্তর হলো :
(১) শয়তান যাকে ১১ মাস কুমন্ত্রণা দিতে পারে তাকে একমাস কুমন্ত্রণা না দিলেও সে পাপকাজ করে যায়। কারণ সারা বছর শয়তানের কাজ করলে শয়তানী কাজ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়। এজন্য একমাস শয়তান বাঁধা থাকলেও পূর্বের অভ্যাসের কারণে মানুষ পাপকাজ করে।
(২) শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ বলেই শয়তান একেবারে শেষ হয়ে যায়নি বা মরে যায়নি; বরং সে এখনো জীবিত আছে এবং দীর্ঘ ১১টি মাস সে তার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ওই ১১ মাস শয়তান যেসব মানুষকে পাপে জড়াতে পেরেছে তার প্রভাব মানুষকে রমাযান মাসেও প্রভাবিত করে।
যেমন, কোন ব্যক্তি যদি ১ঘণ্টা দৌড়ায় এবং হঠাৎ সে থেমে যায়, তাহলে সে ১ মিনিটেই দৌড়ের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারে না। ঠিক তেমনিভাবে ১টি মাসের জন্য শয়তানের কার্যক্ষমতা অক্ষম করে দিলেও তার প্রভাব থেকে যায়।
(৩) নবী ﷺ বলেছেন, শয়তানরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ তারা স্বল্প জায়গায় ঘোরাফেরা করতে পারে। সুতরাং কেউ যদি শয়তানের ঘোরাফেরার আওতার বাইরে থাকে তাহলে সে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে। কিন্তু যারা শয়তানকে খোঁজে বেড়ায় তারা শয়তান থেকে বাঁচতে পারে না।
(৪) এমনও হতে পারে, পবিত্র রমাযান মাসে বড় বড় শয়তানরা অনুপস্থিত থাকে; কিন্তু শয়তানের দোসররা মুক্ত থাকে এবং তারাই মানুষের ভেতরে কুমন্ত্রণা ঢুকিয়ে দেয়।
(৫) এমনও হতে পারে যে, আল্লাহ তা‘আলা যে শয়তানকে বন্দি করেন সে জিন জাতির সদস্য; কিন্তু মানবজাতির ভেতরের শয়তান তখনো মুক্ত থাকে।
শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করাটা বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। কেননা এ সময় শয়তান শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার কারণে বান্দা সৎকাজ করার সুযোগ পায় এবং নিজেকে সংশোধন করে নিতে পারে। আর এ সুযোগ দ্বারা মুমিনগণই বেশি উপকৃত হয়। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা এ মাসে রোযা পালন করাসহ আরো কিছু কর্মনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এগুলোকে সঠিকভাবে পালন করলেই শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।