hadith book logo

শয়তান থেকে বাঁচার কৌশল

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৪

শয়তানের বিভিন্ন নাম

কুরআন মাজীদে শয়তানকে বিভিন্ন নামে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন,

১. اِبْلِيْسٌ (ইবলিস) :

﴿ وَاِذْ قُلْنَا لِلْمَلَآئِكَةِ اسْجُدُوْا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوْاۤ اِلَّاۤ اِبْلِيْسَؕ اَبٰى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِيْنَ ﴾

(স্মরণ করো) যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল, ফলে সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল। [সূরা বাক্বারা– ৩৪।]

اِبْلِيْسٌ শব্দটি بَلَسٌ ও اِبْلَاسٌ শব্দমূল থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো, বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাওয়া, ভয়ে ও আতঙ্কে নিথর হয়ে যাওয়া, দুঃখে ও শোকে মনমরা হয়ে যাওয়া, সবদিক থেকে নিরাশ হয়ে সাহস হারিয়ে ফেলা এবং হতাশা ও ব্যর্থতার ফলে মরিয়া হয়ে উঠা।

শয়তানকে ইবলিস বলার কারণ হলো, হতাশা ও নিরাশার ফলে সে প্রবল উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং মানুষকে পাপ কাজে লিপ্ত করার জন্য সকল কৌশল অবলম্বন করে।

২. اَلْغَرُوْرُ (আল গারুর) :

﴿ وَلَا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللهِ الْغَرُوْرُ﴾

প্রতারক (শয়তান) যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত না করে। [সূরা ফাতির- ৫।]

اَلْغَرُوْرُ শব্দটি غَرَرٌ শব্দমূল হতে এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে, ধোঁকা, প্রতারণা ইত্যাদি। আর اَلْغَرُوْرُ (আল গারুর) অর্থ হচ্ছে, মহা ধোঁকাবাজ, মহা প্রতারক।

শয়তানকে প্রতারক বলার কারণ হলো সে সবসময় মিথ্যা আশা ও ওয়াদা দিয়ে মানুষকে সৎপথ থেকে দূরে রাখে; কিন্তু মানুষ অনেক সময় শয়তানের ধোঁকাবাজি ধরতে পারে না।

৩. اَلْخَنَّاسُ (আল খান্নাস) :

﴿ قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ – مَلِكِ النَّاسِ – اِلٰهِ النَّاسِ – مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ – اَلَّذِيْ يُوَسْوِسُ فِيْ صُدُوْرِ النَّاسِ – مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ ﴾

(হে নবী) বলো, আমি আশ্রয় চাই মানুষের প্রতিপালকের কাছে। (আশ্রয় চাই) মানুষের বাদশার কাছে। (আশ্রয় চাই) মানুষের (একমাত্র) মা‘বুদের কাছে। (আমি আশ্রয় চাই) কুমন্ত্রণাদানকারীর অনিষ্ট থেকে, যে (প্ররোচনা দিয়েই) গা ঢাকা দেয়। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জিনদের মধ্য থেকে হোক বা মানুষদের মধ্য থেকে। [সূরা নাস।]

خَنَّاسٌ শব্দটি خُنُوْسٌ শব্দমূল থেকে নির্গত হয়েছে। এর অর্থ- সামনে এসে আবার পিছিয়ে যাওয়া, প্রকাশ হয়ে আবার গোপন হয়ে যাওয়া। খান্নাস আধিক্যবোধক শব্দ। তাই এর অর্থ বারবার সামনে আসা এবং পিছিয়ে যাওয়া, বারবার প্রকাশ হওয়া এবং গোপন হয়ে যাওয়া। শয়তানকে খান্নাস বলা হয়েছে এ কারণে যে, সে বারবার এসে প্ররোচনা দেয় এবং বারবার লুকিয়ে যায়। এভাবে সে প্ররোচনা দিতেই থাকে।

মানুষের মধ্যে শয়তান প্রবেশ করে খান্নাস বা কুমন্ত্রণাদানকারী রূপে। চিন্তার জগতে লোভ-লালসার ক্রমবর্ধমান উৎপত্তি খান্নাসরূপী শয়তানের কাজ। ধীরে ধীরে কুমন্ত্রণার প্রকাশ ঘটে আচরণ ও কথাবার্তায়। এরপর শয়তান তার কর্মসূচী বাস্তবায়ন করতে ঈর্ষা এবং শত্রুতা সৃষ্টি করে। খান্নাসের কুমন্ত্রণা মানুষের ভেতর মানুষ হওয়ার স্পৃহাকে নষ্ট করে। খান্নাস মিথ্যাকে শোভনীয় করে তোলে ধরে। আর শয়তানের অনুসারী মানুষ পরনিন্দা শুরু করে, লোকের নামে বদনাম ছড়ায়, সমাজে শত্রুতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কথাবার্তা বলে এবং উদ্বেগ-উত্তেজনা সৃষ্টি করে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং অন্যের অধিকার হরণ করে। এভাবে পুরো সমাজকে তারা অশান্তিময় করে তোলে।