১
শয়তান থেকে বাঁচার কৌশল
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
শয়তানের ব্যাপারে আল্লাহর সতর্কবাণী
শয়তানের আনুগত্য না করার জন্য আল্লাহ অঙ্গীকার নিয়েছেন :
﴿اَلَمْ اَعْهَدْ اِلَيْكُمْ يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مٌّبِيْنٌ﴾
আমি কি তোমাদেরকে সতর্ক করিনি (এ বলে যে) হে বনী আদম! তোমরা শয়তানের উপাসনা করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা ইয়াসীন- ৬০।]
মানুষের কাজে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মন উভয়ই অংশগ্রহণ করে। আবার কখনো শুধু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে কাজ করে; কিন্তু অন্তর সে কাজে সহযোগী হয় না। কেউ যদি এমন অবস্থায় কোন গোনাহ করে যে, তার অন্তর তাতে সাড়া দেয়নি এবং তার কণ্ঠ আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়, তাহলে এটা হবে বাইরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে শয়তানের ইবাদাত। আবার কেউ যদি ঠান্ডা মাথায় অপরাধ করে এবং মুখেও এতে সন্তোষ প্রকাশ করে, তাহলে সে হবে ভেতরে ও বাইরে উভয় পর্যায়ে শয়তানের ইবাদাতকারী।
তারপরও অনেক লোক শয়তানের অনুসরণ করে :
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيْدٍ﴾
মানুষের মধ্যে কতক (লোক) অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে। [সূরা হজ্জ- ৩।]
শয়তানের অনুসরণ করেও তারা সঠিক পথে আছে বলে মনে করে :
﴿اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ﴾
তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিল; আর তারা মনে করত, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। [সূরা আ‘রাফ- ৩০।]
আল্লাহ শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন :
﴿يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَاۤ اَخْرَجَ اَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ﴾
হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল। [সূরা আ‘রাফ- ২৭।]
﴿وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা যুখরুফ- ৬২।]
আল্লাহ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন :
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ كُلُوْا مِمَّا فِى الْاَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
হে মানবজাতি! পৃথিবীর মধ্যে যা হালাল ও পবিত্র তা হতে খাও। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা বাক্বারা- ১৬৮।]
﴿وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা আন‘আম- ১৪২।]
কুরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা শয়তানের পদাঙ্ক হতে বাঁচার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ এ কথা বলেননি যে, তোমরা শুধু শয়তানের কাছ থেকে সতর্ক হও, কারণ অনেক ঈমানদার মুসলমান আছেন, যারা শয়তানকে দেখতে পান এবং এতে করে তারা নিজেরাই সতর্ক হতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি যুবতী মেয়ে একজন ঈমানদার যুবকের কাছে এসে বলল, চলো আজ আমরা দু’জনে একসাথে রাত কাটাই। তখন ওই যুবক বলবে, দু‘জনে একসাথে রাত কাটাব? তাও আবার একটা মেয়ের সাথে? সে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করবে।
কিন্তু ওই একই যুবতী যদি ওই যুবকের সাথে ফোনে কথা বলে তাহলে এটা তেমন কোন বড় সমস্যা মনে করা হয় না। পরবর্তীতে মেয়েটি ছেলেটিকে বলল, চলো আমরা হোটেলে গিয়ে কিছু খাই। এটাও তেমন কোন বড় সমস্যা মনে করা হয় না।। এরপর মেয়েটি বলল, তাহলে রাতটা তুমি আমার সাথে কাটাচ্ছ না কেন? তখন ছেলেটি বলল, কোন সমস্যা নয়। এটাই হলো শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ। আর শয়তানের এই পদাঙ্ক অনুসরণ একজন মুমিন বান্দাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে সতর্ক হতে বলেছেন। শয়তানের পদাঙ্ক হলো এমন একটি জিনিস যেটি খুবই বিপদজনক। যদি কেউ আগ বাড়িয়ে শয়তানের কাছে যায় তাহলে শয়তানের কাছে তার মাথানত এবং বিভিন্ন পাপকাজ করার বা পাপে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা চরমে পৌঁছে। তাই আমরা যতই শয়তানের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করব ততই আমাদের পাপকাজে জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে।
﴿اَلَمْ اَعْهَدْ اِلَيْكُمْ يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ اَنْ لَّا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مٌّبِيْنٌ﴾
আমি কি তোমাদেরকে সতর্ক করিনি (এ বলে যে) হে বনী আদম! তোমরা শয়তানের উপাসনা করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা ইয়াসীন- ৬০।]
মানুষের কাজে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মন উভয়ই অংশগ্রহণ করে। আবার কখনো শুধু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে কাজ করে; কিন্তু অন্তর সে কাজে সহযোগী হয় না। কেউ যদি এমন অবস্থায় কোন গোনাহ করে যে, তার অন্তর তাতে সাড়া দেয়নি এবং তার কণ্ঠ আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থী হয়, তাহলে এটা হবে বাইরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে শয়তানের ইবাদাত। আবার কেউ যদি ঠান্ডা মাথায় অপরাধ করে এবং মুখেও এতে সন্তোষ প্রকাশ করে, তাহলে সে হবে ভেতরে ও বাইরে উভয় পর্যায়ে শয়তানের ইবাদাতকারী।
তারপরও অনেক লোক শয়তানের অনুসরণ করে :
﴿وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِى اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّبِعُ كُلَّ شَيْطَانٍ مَّرِيْدٍ﴾
মানুষের মধ্যে কতক (লোক) অজ্ঞতাবশত আল্লাহ সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং তারা প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে। [সূরা হজ্জ- ৩।]
শয়তানের অনুসরণ করেও তারা সঠিক পথে আছে বলে মনে করে :
﴿اِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ مِنْ دُوْنِ اللهِ وَيَحْسَبُوْنَ اَنَّهُمْ مُّهْتَدُوْنَ﴾
তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে তাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছিল; আর তারা মনে করত, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত। [সূরা আ‘রাফ- ৩০।]
আল্লাহ শয়তানের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন :
﴿يَا بَنِيْۤ اٰدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَاۤ اَخْرَجَ اَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْجَنَّةِ﴾
হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই প্রলুব্ধ না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল। [সূরা আ‘রাফ- ২৭।]
﴿وَلَا يَصُدَّنَّكُمُ الشَّيْطَانُؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
শয়তান যেন তোমাদেরকে কিছুতেই নিবৃত্ত না করে, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা যুখরুফ- ৬২।]
আল্লাহ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন :
﴿يَاۤ اَيُّهَا النَّاسُ كُلُوْا مِمَّا فِى الْاَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَّلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
হে মানবজাতি! পৃথিবীর মধ্যে যা হালাল ও পবিত্র তা হতে খাও। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা বাক্বারা- ১৬৮।]
﴿وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِؕ اِنَّهٗ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ﴾
আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। [সূরা আন‘আম- ১৪২।]
কুরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ তা‘আলা শয়তানের পদাঙ্ক হতে বাঁচার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ এ কথা বলেননি যে, তোমরা শুধু শয়তানের কাছ থেকে সতর্ক হও, কারণ অনেক ঈমানদার মুসলমান আছেন, যারা শয়তানকে দেখতে পান এবং এতে করে তারা নিজেরাই সতর্ক হতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একটি যুবতী মেয়ে একজন ঈমানদার যুবকের কাছে এসে বলল, চলো আজ আমরা দু’জনে একসাথে রাত কাটাই। তখন ওই যুবক বলবে, দু‘জনে একসাথে রাত কাটাব? তাও আবার একটা মেয়ের সাথে? সে তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করবে।
কিন্তু ওই একই যুবতী যদি ওই যুবকের সাথে ফোনে কথা বলে তাহলে এটা তেমন কোন বড় সমস্যা মনে করা হয় না। পরবর্তীতে মেয়েটি ছেলেটিকে বলল, চলো আমরা হোটেলে গিয়ে কিছু খাই। এটাও তেমন কোন বড় সমস্যা মনে করা হয় না।। এরপর মেয়েটি বলল, তাহলে রাতটা তুমি আমার সাথে কাটাচ্ছ না কেন? তখন ছেলেটি বলল, কোন সমস্যা নয়। এটাই হলো শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ। আর শয়তানের এই পদাঙ্ক অনুসরণ একজন মুমিন বান্দাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করা থেকে সতর্ক হতে বলেছেন। শয়তানের পদাঙ্ক হলো এমন একটি জিনিস যেটি খুবই বিপদজনক। যদি কেউ আগ বাড়িয়ে শয়তানের কাছে যায় তাহলে শয়তানের কাছে তার মাথানত এবং বিভিন্ন পাপকাজ করার বা পাপে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা চরমে পৌঁছে। তাই আমরা যতই শয়তানের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করব ততই আমাদের পাপকাজে জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে।