hadith book logo

সাহাবাদের ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল-জামাতের আকিদা

লেখকঃ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-অহাইবি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

সাহাবীদের বিরোধপূর্ণ ঘটনাবলির ব্যাপারে নীরবতা পালন

রাসূল সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম বলেনঃ

إذا ذكر أصحابي فامسكوا، وإذا ذكر النجوم فامسكوا، وإذا ذكر القدر فامسكوا ( الطبراني في الكبير ২/৭৮/২)

যখন দেখ সাহাবীদের সমালোচনা হচ্ছে তখন তুমি নীরব থাক, যখন দেখ নক্ষত্রের সমালোচনা হচ্ছে তখনও তুমি নীরব থাক। যখন দেখ তাকদীর সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে তখন তুমি নীরব থাক।’’ [তাবরানী ২/৭৮ আবু নাঈম লিখিত আল হুলিয়াতু ৪/১০৮ আসসিলসিলাতুচ্ছাহিহা ১/৩৪]

রাসূলের এই নির্দেশের আলোকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের অভিমত হল সাহাবীদের ভুল ভ্রান্তির ব্যাপারে নীরব থাকা এবং তাদের মাঝে সৃষ্ট ঝগড়া বিবাদকে এড়িয়ে চলা অপরিহার্য। আল্লামা আবু নাঈম রহ. বলেন যে সমস্ত মু’মিনদের প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ . سورة الحشر ﴿10﴾

‘‘যারা তাদের পরে আগমন করেছে তারা বলে : হে আমাদের পালনকর্তা আমাদেরকে এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভ্রাতাদেরকে ক্ষমা কর।’’

তাদের লক্ষণ হল, সাহাবীদের সমালোচনায় নীরবতা পালন করা। সাহাবীদের কৃতিত্বে ও উত্তম গুণাবলির ব্যাপক প্রচারে সচেষ্ট থাকা এবং তাদের কৃতকর্মকে সুন্দর আঙ্গিকে উপস্থাপন করা। তিনি উল্লিখিত হাদীস প্রসঙ্গে আরও বলেন আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে সাহাবীদের ভুল ভ্রান্তির সমালোচনা করতে, সমালোচনা করতে সে সব বিষয়ের যা তারা আবেগ বা ক্রোধের বশীভূত হয়ে করেছেন। [আল ইমামাহ : ৩৪৭] হাদীসে যে নীরবতার কথা বলা হয়েছে তার অর্থ হল সাহাবীদের মাঝে পরস্পর যে কলহ বিবাদ যুদ্ধ বিগ্রহ ও মতানৈক্য হয়েছে তার সমালোচনা না করা, সাধারণ জনগণের সামনে তা তুলে না ধরা, এগুলোকে কেন্দ্র করে সাহাবীদেরকে অপমান না করা এবং এর মাধ্যমে ইসলামের শত্রুদেরকে সাহায্য না করা। [মানহাজে কিতাবাতুত তারিখুল ইসলামী (মুহাম্মদ বিন ছামেল) ২২৭, ২২৮] কেননা এ ধরনের কাজের প্রতি আমরা আদিষ্ট নয় বরং আমরা আদিষ্ট হয়েছি তাদের প্রতি ভালোবাসা রাখতে ও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে এবং তাদের কৃতিত্ব ও মর্যাদাকে ব্যাপক প্রচার প্রসার করতে। কিন্তু যখন কোন ভ্রান্ত মতাবলম্বী তার ভ্রান্ত আকীদা দ্বারা সাহাবীদের মর্যাদায় আঘাত হানে তখন অবশ্যই ইলম ও ইনসাফের সাথে সাহাবীদের সে সব গুণাবলির আলোচনা করতে হবে যার দরুন তাদের এসব প্রমাণাদি ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। [মানহাজুজ সুন্নাহ ৬/২৫৪] বর্তমান যুগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মুসলমানগণ সাধারণ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সিলেবাসের শিকার, বস্ত্তবাদী আর ধর্মনিরপেক্ষবাদীগণ আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের শিক্ষা পরিত্যাগ করে সাহাবীদের মাঝে ঘটিত বিরোধপূর্ণ ঘটনাবলির অশালীনভাবে খোঁজা-খুঁজি করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে সাহাবীদের মাঝে ঘটে যাওয়া কলহ বিবাদ নিয়ে মন্দ ধ্যান-ধারণা মুসলমানদের মাঝেও সংক্রামিত হয়েছে। যার ফলে তাদের অনেকেই এ ব্যাপারে সবল ও দুর্বল বর্ণনাকে একীভূত করে ফেলেছে। বিজ্ঞ আলেমগণের মতাদর্শ ছাড়া নিজের পক্ষ থেকেই সে ব্যাপারে হুকুম জারি করেছেন। তাই আমি সে সমস্ত লোকদের জন্য যারা বিশেষ প্রয়োজনে সাহাবীদের মাঝে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে গবেষণা করতে চায় বিশেষ কিছু মূলনীতি তৈরি করেছি যা তাদের জন্য যেনে নেয়া অত্যন্ত জরুরি।