১
সাহাবাদের ব্যাপারে আহলে সুন্নত ওয়াল-জামাতের আকিদা
লেখকঃ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-অহাইবি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
উল্লেখিত বর্ণনার সারসংক্ষেপ
আলোচিত অধ্যায় কুরআন ও হাদীসের আলোকে সাহাবীদের যে মহৎ গুণাবলি প্রমাণিত হয় তা এই—১ম : মহান আল্লাহ তাদের দৃশ্যমান আর অদৃশ্যমান সব বিষয়ে পরিশুদ্ধতা ও নিষ্কলুষতার স্বীকৃতি দিয়েছেন। দৃশ্যমান বিষয়ে পরিশুদ্ধতা যেমন মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে প্রশংসনীয় গুণে গুণান্বিত করেছেন। তাই তাদের সম্পর্কে বলেছেন-
أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ . سورة الفتح ﴿29﴾
অর্থাৎ- ‘‘তারা কাফেরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর আর নিজেরা পরস্পর সহানুভূতিশীল।’’ (সূরা আল-ফাতাহ : ২৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ . سورة الحشر ﴿8﴾
অর্থাৎ- ‘‘তারা আল্লাহ এবং তদীয় রাসূলকে সাহায্য করে এবং তারা সত্যবাদী।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ . سورة الحشر : ﴿9﴾
অর্থাৎ- ‘‘মুহাজেরদিগকে যা দেয়া হয়েছে তজ্জন্যে আনসারগণ ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯)
আর তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো এমন এক গোপনীয় বিষয় যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না। তাই মহান আল্লাহ নিজেই তাদের অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমাদিগকে জানাচ্ছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন—
فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি শান্তি নাযিল করলেন।’’ (সূরা আল ফাতাহ : ১৮)
মহান আল্লাহ আরও বলেন-
يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ
অর্থাৎ- ‘‘আনসারগণ তাদের নিকট হিজরত কৃত মু’মিনদেরকে ভালোবাসে।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯)
মহান আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে আরো বলেন-
يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا . سورة الفتح ﴿29﴾
‘‘তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে।’’ (সূরা আল-ফাতহ : ২৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ . سورة التوبة : ﴿117﴾
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা কঠিন মুহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিলেন।’’ (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৭)
তাদের অভ্যন্তরের নিয়ত বিশুদ্ধতার কারণে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছেন ও তাদেরকে ক্ষমা করেছেন আর এটা সকলেরই জানা কথা যে তাওবা ও নিয়ত অন্তরের অদৃশ্য কাজ।
২য় :- মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে তারা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে মহৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাই মহান আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্টি ও ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এবং তাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৩য় :- তাদের উল্লেখিত গুণাবলীর কারণে আমাদেরকে তাদের জন্য দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়। বরং স্বয়ং রাসূলের প্রতি নির্দেশ হয়েছে তাদেরকে সম্মান করতে ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে ও তাদেরকে ভালোবাসতে, আর নিষেধ করেছেন আমাদেরকে তাদেরকে মন্দ বলতে ও গালি দিতে। যেমনিভাবে নিষেধ করেছেন তাদের সাথে শত্রুতা রাখতে। বরং বলা হয়েছে তাদেরকে ভালোবাসতে। তাদের সাথে ভালোবাসা ঈমানে লÿণ আর তাদের সাথে শত্রুতা করা মুনাফেকির লক্ষণ।
৪র্থ :- সাহাবীগণ হলেন এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও উম্মতের অতন্দ্র প্রহরী এজন্যই পুরা মুসলিম জাতির উপর তাদের অনুসরণ করা ওয়াজিব, বরং এটিই জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র পথ। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
عليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدى . رواه أحمد : ৪/১৬২
অর্থাৎ- ‘‘তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর আর আমার পর সঠিক পথের অনুসারী খলীফা তথা আমার প্রতিনিধিদের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর।’’ (আহমাদ ১৬২/৪)
أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ . سورة الفتح ﴿29﴾
অর্থাৎ- ‘‘তারা কাফেরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর আর নিজেরা পরস্পর সহানুভূতিশীল।’’ (সূরা আল-ফাতাহ : ২৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ . سورة الحشر ﴿8﴾
অর্থাৎ- ‘‘তারা আল্লাহ এবং তদীয় রাসূলকে সাহায্য করে এবং তারা সত্যবাদী।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ . سورة الحشر : ﴿9﴾
অর্থাৎ- ‘‘মুহাজেরদিগকে যা দেয়া হয়েছে তজ্জন্যে আনসারগণ ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯)
আর তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলো এমন এক গোপনীয় বিষয় যা আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানেন না। তাই মহান আল্লাহ নিজেই তাদের অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমাদিগকে জানাচ্ছেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেন—
فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنْزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি শান্তি নাযিল করলেন।’’ (সূরা আল ফাতাহ : ১৮)
মহান আল্লাহ আরও বলেন-
يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ
অর্থাৎ- ‘‘আনসারগণ তাদের নিকট হিজরত কৃত মু’মিনদেরকে ভালোবাসে।’’ (সূরা আল-হাশর : ৯)
মহান আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে আরো বলেন-
يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا . سورة الفتح ﴿29﴾
‘‘তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে।’’ (সূরা আল-ফাতহ : ২৯) মহান আল্লাহ আরও বলেন-
لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ . سورة التوبة : ﴿117﴾
অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ দয়াশীল নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি যারা কঠিন মুহূর্তে নবীর সঙ্গে ছিলেন।’’ (সূরা আত-তাওবাহ: ১১৭)
তাদের অভ্যন্তরের নিয়ত বিশুদ্ধতার কারণে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি দয়ার্দ্র হয়েছেন ও তাদেরকে ক্ষমা করেছেন আর এটা সকলেরই জানা কথা যে তাওবা ও নিয়ত অন্তরের অদৃশ্য কাজ।
২য় :- মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে তারা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে মহৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তাই মহান আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্টি ও ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এবং তাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৩য় :- তাদের উল্লেখিত গুণাবলীর কারণে আমাদেরকে তাদের জন্য দুআ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়। বরং স্বয়ং রাসূলের প্রতি নির্দেশ হয়েছে তাদেরকে সম্মান করতে ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে ও তাদেরকে ভালোবাসতে, আর নিষেধ করেছেন আমাদেরকে তাদেরকে মন্দ বলতে ও গালি দিতে। যেমনিভাবে নিষেধ করেছেন তাদের সাথে শত্রুতা রাখতে। বরং বলা হয়েছে তাদেরকে ভালোবাসতে। তাদের সাথে ভালোবাসা ঈমানে লÿণ আর তাদের সাথে শত্রুতা করা মুনাফেকির লক্ষণ।
৪র্থ :- সাহাবীগণ হলেন এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ও উম্মতের অতন্দ্র প্রহরী এজন্যই পুরা মুসলিম জাতির উপর তাদের অনুসরণ করা ওয়াজিব, বরং এটিই জান্নাতে যাওয়ার একমাত্র পথ। তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
عليكم بسنتى وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدى . رواه أحمد : ৪/১৬২
অর্থাৎ- ‘‘তোমরা আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর আর আমার পর সঠিক পথের অনুসারী খলীফা তথা আমার প্রতিনিধিদের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধর।’’ (আহমাদ ১৬২/৪)