১
আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করব
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১০
সৎ বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম
তারা মুমিনদের ব্যাপারে নরম এবং কাফিরদের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন :
﴿مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِؕ وَالَّذِيْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيْنَهُمْ﴾
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর যারা তাঁর সাথে আছে (অর্থাৎ সাহাবীরা) তারা কাফিরদের উপর কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে কোমল। [সূরা ফাতহ- ২৯।]
তারা তাদের ঈমানের পরিপক্কতা, নীতির দৃঢ়তা, চারিত্রিক শক্তি এবং ঈমানী দূরদর্শিতার মাধ্যমে কাফিরদের মুকাবিলায় মজবুত পাথরের মতো অনমনীয় ও আপোষহীন ছিলেন। তারা অস্থিরমনা ছিলেন না যে, কাফিররা তাদেরকে যেদিকে ইচ্ছা ঘুরিয়ে দিতে পারবে। আবার তারা নরম ঘাসও ছিলেন না যে, কাফিররা অতি সহজেই তাদেরকে চিবিয়ে ফেলতে পারবে। কোন প্রকার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে স্তব্ধ করা যায় না। কোন লোভ দেখিয়ে তাদেরকে কেনা যায় না। যে মহৎ উদ্দেশ্যে তারা জীবন বাজি রেখে মুহাম্মাদ ﷺ কে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত হয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত করার ক্ষমতা কাফিরদের ছিল না। তাদের মধ্যে যতটুকু কঠোরতা ছিল তা কাফিরদের জন্য, ঈমানদারদের জন্য নয়। ঈমানদারদের কাছে তারা বিনম্র, স্নেহশীল ও দুঃখের সাথি ছিলেন। নীতি ও উদ্দেশ্যের ঐক্য তাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করে দিয়েছিল।
বিরোধীদের হুমকি শুনলে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেত :
﴿اَ لَّذِيْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِيْمَانًا وَّقَالُوْا حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ﴾
লোকেরা যাদেরকে বলেছিল, নিশ্চয় তোমাদের বিরুদ্ধে লোকজন সমবেত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো। কিন্তু এতে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং মঙ্গলময় কর্মবিধায়ক। [সূরা আলে ইমরান- ১৭৩।]
তারা ঈমানকে ভালোবাসতেন :
﴿وَلٰكِنَّ اللهَ حَبَّبَ اِلَيْكُمُ الْاِيْمَانَ وَزَيَّنَهٗ فِيْ قُلُوْبِكُمْ﴾
কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি ভালোবাসা দান করেছেন এবং তিনি তোমাদের অন্তরে তা সুশোভিত করে দিয়েছেন। [সূরা হুজুরাত- ৭।]
তারা পাপকে ঘৃণা করতেন :
﴿وَكَرَّهَ اِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الرَّاشِدُوْنَ﴾
তিনি তোমাদের অন্তরে কুফরী, ফাসিকী ও নাফরমানির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; আর এমন লোকেরাই সুপথে আছে। [সূরা হুজুরাত- ৭।]
দুনিয়ার কাজ তাদেরকে ইবাদাত পালন থেকে বিরত রাখতে পারত না :
﴿رِجَالٌ لَّا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَّلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَاِقَامِ الصَّلَاةِ وَاِيْتَآءِ الزَّكَاةِ﴾
তারা এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। [সূরা নূর- ৩৭।]
তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছেন :
﴿لِلْفُقَرَآءِ الْمُهَاجِرِيْنَ الَّذِيْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ وَاَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللهِ وَرِضْوَانًا وَّيَنْصُرُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الصَّادِقُوْنَ﴾
(এ সম্পদ) অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ী ও সম্পত্তি হতে বহিষ্কৃত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী। [সূরা হাশর- ৮।]
তারা একে অপরকে খুবই ভালোবাসতেন :
﴿وَالَّذِيْنَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْاِيْمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّوْنَ مَنْ هَاجَرَ اِلَيْهِمْ﴾
যারা তাদের (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্ব থেকেই এ নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করে এসেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা তাদের নিকট যারা হিজরত করে এসেছিল তাদেরকে ভালোবাসত। [সূরা হাশর- ৯।]
আরববাসীদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিলেন আল্লাহ তা‘আলা তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্নেহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। অথচ তারা বিভিন্ন গোত্র থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শত শত বছর থেকে শত্রুতা চলে আসছিল। বিশেষ করে আওস ও খাযরাজ গোত্রের ব্যাপারে এটা ছিল সুস্পষ্ট। মাত্র দুই থেকে তিন বছরে তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, যা তাদেরকে একটি সীসা ঢালা প্রাচীরে পরিণত করে।
তারা নিজেদের প্রয়োজন বাদ দিয়ে অপরের প্রয়োজন মেটাতেন :
﴿وَيُؤْثِرُوْنَ عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ﴾
আর তারা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়। [সূরা হাশর- ৯।]
﴿مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِؕ وَالَّذِيْنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيْنَهُمْ﴾
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর যারা তাঁর সাথে আছে (অর্থাৎ সাহাবীরা) তারা কাফিরদের উপর কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে কোমল। [সূরা ফাতহ- ২৯।]
তারা তাদের ঈমানের পরিপক্কতা, নীতির দৃঢ়তা, চারিত্রিক শক্তি এবং ঈমানী দূরদর্শিতার মাধ্যমে কাফিরদের মুকাবিলায় মজবুত পাথরের মতো অনমনীয় ও আপোষহীন ছিলেন। তারা অস্থিরমনা ছিলেন না যে, কাফিররা তাদেরকে যেদিকে ইচ্ছা ঘুরিয়ে দিতে পারবে। আবার তারা নরম ঘাসও ছিলেন না যে, কাফিররা অতি সহজেই তাদেরকে চিবিয়ে ফেলতে পারবে। কোন প্রকার ভয় দেখিয়ে তাদেরকে স্তব্ধ করা যায় না। কোন লোভ দেখিয়ে তাদেরকে কেনা যায় না। যে মহৎ উদ্দেশ্যে তারা জীবন বাজি রেখে মুহাম্মাদ ﷺ কে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত হয়েছেন তা থেকে বিচ্যুত করার ক্ষমতা কাফিরদের ছিল না। তাদের মধ্যে যতটুকু কঠোরতা ছিল তা কাফিরদের জন্য, ঈমানদারদের জন্য নয়। ঈমানদারদের কাছে তারা বিনম্র, স্নেহশীল ও দুঃখের সাথি ছিলেন। নীতি ও উদ্দেশ্যের ঐক্য তাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করে দিয়েছিল।
বিরোধীদের হুমকি শুনলে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেত :
﴿اَ لَّذِيْنَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ اِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوْا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ اِيْمَانًا وَّقَالُوْا حَسْبُنَا اللهُ وَنِعْمَ الْوَكِيْلُ﴾
লোকেরা যাদেরকে বলেছিল, নিশ্চয় তোমাদের বিরুদ্ধে লোকজন সমবেত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো। কিন্তু এতে তাদের ঈমান আরো বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং মঙ্গলময় কর্মবিধায়ক। [সূরা আলে ইমরান- ১৭৩।]
তারা ঈমানকে ভালোবাসতেন :
﴿وَلٰكِنَّ اللهَ حَبَّبَ اِلَيْكُمُ الْاِيْمَانَ وَزَيَّنَهٗ فِيْ قُلُوْبِكُمْ﴾
কিন্তু আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি ভালোবাসা দান করেছেন এবং তিনি তোমাদের অন্তরে তা সুশোভিত করে দিয়েছেন। [সূরা হুজুরাত- ৭।]
তারা পাপকে ঘৃণা করতেন :
﴿وَكَرَّهَ اِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوْقَ وَالْعِصْيَانَؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الرَّاشِدُوْنَ﴾
তিনি তোমাদের অন্তরে কুফরী, ফাসিকী ও নাফরমানির প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; আর এমন লোকেরাই সুপথে আছে। [সূরা হুজুরাত- ৭।]
দুনিয়ার কাজ তাদেরকে ইবাদাত পালন থেকে বিরত রাখতে পারত না :
﴿رِجَالٌ لَّا تُلْهِيْهِمْ تِجَارَةٌ وَّلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللهِ وَاِقَامِ الصَّلَاةِ وَاِيْتَآءِ الزَّكَاةِ﴾
তারা এমন লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না। [সূরা নূর- ৩৭।]
তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য নিজেদের ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছেন :
﴿لِلْفُقَرَآءِ الْمُهَاجِرِيْنَ الَّذِيْنَ اُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِهِمْ وَاَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُوْنَ فَضْلًا مِّنَ اللهِ وَرِضْوَانًا وَّيَنْصُرُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الصَّادِقُوْنَ﴾
(এ সম্পদ) অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ী ও সম্পত্তি হতে বহিষ্কৃত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী। [সূরা হাশর- ৮।]
তারা একে অপরকে খুবই ভালোবাসতেন :
﴿وَالَّذِيْنَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالْاِيْمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّوْنَ مَنْ هَاجَرَ اِلَيْهِمْ﴾
যারা তাদের (মুহাজিরদের আগমনের) পূর্ব থেকেই এ নগরীতে (মদিনায়) বসবাস করে এসেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা তাদের নিকট যারা হিজরত করে এসেছিল তাদেরকে ভালোবাসত। [সূরা হাশর- ৯।]
আরববাসীদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিলেন আল্লাহ তা‘আলা তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্নেহ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন। অথচ তারা বিভিন্ন গোত্র থেকে বের হয়ে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শত শত বছর থেকে শত্রুতা চলে আসছিল। বিশেষ করে আওস ও খাযরাজ গোত্রের ব্যাপারে এটা ছিল সুস্পষ্ট। মাত্র দুই থেকে তিন বছরে তাদের মধ্যে এমন গভীর বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে ওঠে, যা তাদেরকে একটি সীসা ঢালা প্রাচীরে পরিণত করে।
তারা নিজেদের প্রয়োজন বাদ দিয়ে অপরের প্রয়োজন মেটাতেন :
﴿وَيُؤْثِرُوْنَ عَلٰۤى اَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ﴾
আর তারা অভাবগ্রস্ত হলেও অন্যদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়। [সূরা হাশর- ৯।]