১
আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করব
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৫
১. মুমিনের বন্ধু আল্লাহ তা‘আলা
আলোচ্য আয়াতে যে তিন ধরণের বন্ধুর পরিচয় দেয়া হয়েছে, তন্মধ্যে প্রথম বন্ধু হলেন স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা। মানবজাতির বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট্য পূর্ণমাত্রায় একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার মধ্যেই বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং আল্লাহই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। আল্লাহ মানুষের শুভাকাঙ্ক্ষী ও নিঃস্বার্থ অভিভাবক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِه ۤ اَوْلِيَآءَ فَاللهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِى الْمَوْتٰى وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ﴾
তারা কি আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে? কেবল আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক (বন্ধু)। তিনিই মৃতদের জীবন দানে সক্ষম এবং তিনিই সবকিছুর উপর অসীম ক্ষমতাবান। [সূরা শুরা- ৯।]
﴿وَهُوَ الَّذِيْ يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ ۢبَعْدِ مَا قَنَطُوْا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهٗؕ وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيْدُ﴾
তারা যখন নিরাশ হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। আর তিনিই তো প্রশংসিত অভিভাবক। [সূরা শূরা- ২৮।]
মৃতকে জীবনদানের ক্ষমতা, বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং পৃথিবীকে শস্য-শ্যামল করার শক্তি ইত্যাদি গুণ একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন শক্তির মাঝেই নেই। সুতরাং আশরাফুল মাখলুকাত মানবজাতির বন্ধু ও অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ।
আল্লাহ তা‘আলাই মুমিনের প্রকৃত বন্ধু :
﴿وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِيْنَ فِى الْاَ رْضِ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ وَّلِيٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ﴾
তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই। [সূরা শূরা- ৩১।]
﴿اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللهَ لَهٗ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَ الْاَ رْضِؕ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ وَّلِيٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ﴾
তুমি কি জান না যে, আকাশ ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই। [সূরা বাক্বারা- ১০৭।]
কেউ যদি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তবে সে খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَالَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِيَآءَ اللهُ حَفِيْظٌ عَلَيْهِمْ وَمَاۤ اَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيْلٍ﴾
যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখেন (অর্থাৎ আল্লাহ তাদেরকে এর পরিণাম ভোগ করাবেন)। আর তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও। [সূরা শূরা- ৬।]
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَمَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ يَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيْبُ لَهٗۤ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَآئِهِمْ غَافِلُوْنَ وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ اَعْدَآءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِيْنَ﴾
ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি গোমরাহ আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামতের দিন পর্যন্তও কোন সাড়া দেবে না। বরং তাদেরকে যে ডাকা হয়েছে, সে কথা তারা জানেই না। যখন সব মানুষকে একত্র করা হবে, তখন তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদাতকে অস্বীকার করবে। [সূরা আহকাফ- ৫, ৬।]
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنْ تُطِيْعُوا الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يَرُدُّوْكُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوْا خَاسِرِيْنَ ‐ بَلِ اللهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِيْنَ﴾
হে মুমিনগণ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাদেরকে পশ্চাদপদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং তাতে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তিত হবে। আসলে আল্লাহ তা‘আলাই তোমাদের প্রকৃত বন্ধু এবং তিনিই তোমাদের উত্তম সাহায্যকারী। [সূরা আলে ইমরান- ১৪৯, ১৫০।]
﴿اَمِ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِه ۤ اَوْلِيَآءَ فَاللهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِى الْمَوْتٰى وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ﴾
তারা কি আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবক (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে? কেবল আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক (বন্ধু)। তিনিই মৃতদের জীবন দানে সক্ষম এবং তিনিই সবকিছুর উপর অসীম ক্ষমতাবান। [সূরা শুরা- ৯।]
﴿وَهُوَ الَّذِيْ يُنَزِّلُ الْغَيْثَ مِنْ ۢبَعْدِ مَا قَنَطُوْا وَيَنْشُرُ رَحْمَتَهٗؕ وَهُوَ الْوَلِيُّ الْحَمِيْدُ﴾
তারা যখন নিরাশ হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। আর তিনিই তো প্রশংসিত অভিভাবক। [সূরা শূরা- ২৮।]
মৃতকে জীবনদানের ক্ষমতা, বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং পৃথিবীকে শস্য-শ্যামল করার শক্তি ইত্যাদি গুণ একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন শক্তির মাঝেই নেই। সুতরাং আশরাফুল মাখলুকাত মানবজাতির বন্ধু ও অভিভাবক একমাত্র আল্লাহ।
আল্লাহ তা‘আলাই মুমিনের প্রকৃত বন্ধু :
﴿وَمَاۤ اَنْتُمْ بِمُعْجِزِيْنَ فِى الْاَ رْضِ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ وَّلِيٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ﴾
তোমরা পৃথিবীতে (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই। [সূরা শূরা- ৩১।]
﴿اَلَمْ تَعْلَمْ اَنَّ اللهَ لَهٗ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَ الْاَ رْضِؕ وَمَا لَكُمْ مِّنْ دُوْنِ اللهِ مِنْ وَّلِيٍّ وَّلَا نَصِيْرٍ﴾
তুমি কি জান না যে, আকাশ ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই। [সূরা বাক্বারা- ১০৭।]
কেউ যদি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তবে সে খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَالَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖۤ اَوْلِيَآءَ اللهُ حَفِيْظٌ عَلَيْهِمْ وَمَاۤ اَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيْلٍ﴾
যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর দৃষ্টি রাখেন (অর্থাৎ আল্লাহ তাদেরকে এর পরিণাম ভোগ করাবেন)। আর তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও। [সূরা শূরা- ৬।]
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿وَمَنْ اَضَلُّ مِمَّنْ يَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيْبُ لَهٗۤ اِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَآئِهِمْ غَافِلُوْنَ وَاِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ اَعْدَآءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِيْنَ﴾
ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশি গোমরাহ আর কে হতে পারে, যে আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামতের দিন পর্যন্তও কোন সাড়া দেবে না। বরং তাদেরকে যে ডাকা হয়েছে, সে কথা তারা জানেই না। যখন সব মানুষকে একত্র করা হবে, তখন তারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদাতকে অস্বীকার করবে। [সূরা আহকাফ- ৫, ৬।]
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْاۤ اِنْ تُطِيْعُوا الَّذِيْنَ كَفَرُوْا يَرُدُّوْكُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوْا خَاسِرِيْنَ ‐ بَلِ اللهُ مَوْلَاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِيْنَ﴾
হে মুমিনগণ! যদি তোমরা কাফিরদের আনুগত্য কর, তবে তারা তোমাদেরকে পশ্চাদপদে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং তাতে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রত্যাবর্তিত হবে। আসলে আল্লাহ তা‘আলাই তোমাদের প্রকৃত বন্ধু এবং তিনিই তোমাদের উত্তম সাহায্যকারী। [সূরা আলে ইমরান- ১৪৯, ১৫০।]