১
আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করব
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
অসৎ বন্ধুত্ব
সৎ বন্ধুত্বের বিপরীতে রয়েছে অসৎ বন্ধুত্ব। মুমিনগণ যেমন একে অপরের বন্ধু, এর বিপরীতে কাফির-মুশরিকরাও একে অপরের বন্ধু। যে সকল লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং সৎ মুমিনদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং কুরআন ও সুন্নাহের বিরোধিতা করে তারা একে অপরের বন্ধু। তারা অন্যায় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করে। তারা মানুষকে আল্লাহর দ্বীন থেকে বিরত রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করে। পূর্বযুগে অনেকে ইসলামের সাথে শত্রুতা করেছে; অনুরূপভাবে বর্তমান যুগেও ইসলামের দুশমন রয়েছে।
খারাপ লোকের সঙ্গী খারাপ লোকই হয়ে থাকে :
﴿وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَآءَ فَزَيَّنُوْا لَهُمْ مَّا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِۤيْ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِۚ اِنَّهُمْ كَانُوْا خَاسِرِيْنَ﴾
আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচরবৃন্দ, যারা তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল। অবশেষে তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানুষের ন্যায় আল্লাহর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা হা-মীম সাজদা- ২৫।]
এটা আল্লাহর স্বতন্ত্র ও স্থায়ী বিধান। খারাপ নিয়ত ও খারাপ আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী মানুষের জন্য তিনি কখনো ভালো সঙ্গী দেন না। তার ঝোঁক ও আগ্রহ অনুসারে তিনি তাকে খারাপ সঙ্গীই জুটিয়ে দেন। সে যতই দুষ্কর্মের গহবরে নামতে থাকে ততই জঘন্যতর মানুষ ও শয়তান তার সহচর ও পরামর্শদাতা হতে থাকে। কারো কারো উক্তি, অমুক ব্যক্তি নিজে খুব ভালো কিন্তু তার বন্ধুবান্ধব জুটেছে খারাপ- এটা বাস্তবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রকৃতির বিধান হলো, প্রতিটি ব্যক্তি নিজে যেমন তার বন্ধুও জোটে ঠিক তেমনি। একজন সৎ ও নেক মানুষের সাহচর্যে খারাপ মানুষ আসলেও বেশি সময় সে তার সাথে থাকতে পারে না। অনুরূপ অসৎ উদ্দেশ্যে কর্মরত একজন দুষ্কর্মশীল মানুষের সাথে হঠাৎ সৎ মানুষের বন্ধুত্ব হলেও তা বেশি সময় টিকে থাকতে পারে না।
যালিমরা ও কাফিররা একে অপরের বন্ধু :
﴿وَاِنَّ الظَّالِمِيْنَ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍۚ وَاللهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِيْنَ﴾
নিশ্চয় যালিমরা একে অপরের বন্ধু; আর আল্লাহ মুত্তাক্বীদের বন্ধু। [সূরা জাসিয়া- ১৯।]
﴿وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ﴾
যারা কুফরী করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। [সূরা আনফাল- ৭৩।]
কাফিরদের বন্ধু হলো তাগুত :
﴿وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اَوْلِيَآؤُهُمُ الطَّاغُوْتُ﴾
আর যারা কাফির তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। [সূরা বাক্বারা- ২৫৭।]
কাফিরদের বন্ধু হলো শয়তান :
﴿اِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ لِلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ﴾
যারা ঈমান আনে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। [সূরা আ‘রাফ- ২৭।]
এরা সবাই শয়তানের দল :
﴿اِسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَاَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللهِؕ اُولٰٓئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِؕ اَ لَاۤ اِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ﴾
শয়তান তাদের উপর পরিপূর্ণভাবে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে এবং সে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে ভুলিয়ে দিয়েছে; এরাই তো শয়তানের দল। জেনে রেখো, নিশ্চয় শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [সূরা মুজাদালা- ১৯।]
অসৎ বন্ধু সৎকর্মে বাধা হয়ে যায় :
﴿يَا وَيْلَتٰى لَيْتَنِيْ لَمْ اَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا ‐ لَقَدْ اَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ اِذْ جَآءَنِيْؕ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْاِنْسَانِ خَذُوْلًا﴾
হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম! (কেননা) আমার নিকট উপদেশ পৌঁছার পরও সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক। [সূরা ফুরক্বান- ২৮, ২৯।]
অসৎ বন্ধুর সঙ্গী না হওয়ার কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে গিয়ে তার ঐ অসৎ বন্ধুকে সম্বোধন করে বলবে, যদি আমি দুনিয়াতে তোমার সাথি হতাম তাহলে আমাকেও জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হতো। পবিত্র কুরআনে এসেছে,
﴿فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ يَّتَسَآءَلُوْنَ ‐ قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ اِنِّيْ كَانَ لِيْ قَرِيْنٌ ‐ يَقُوْلُ اَاِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِيْنَ ‐ اَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا اَاِنَّا لَمَدِيْنُوْنَ ‐ قَالَ هَلْ اَنْتُمْ مُطَّلِعُوْنَ ‐ فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِيْ سَوَآءِ الْجَحِيْمِ ‐ قَالَ تَاللهِ اِنْ كِدْتَّ لَتُرْدِيْنِ ‐ وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِيْنَ﴾
তারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের মধ্য থেকে একজন বলবে, দুনিয়ায় আমার এক বন্ধু ছিল। সে বলত, তুমি কি এতে ঈমান রাখো যে, যখন আমরা মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফলপ্রাপ্ত হব? আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উঁকি মেরে দেখতে চাও? অতঃপর সে উঁকি মেরে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে। সে বলবে, আল্লাহর শপথ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করার উপক্রম করেছিলে। যদি আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমিও তোমার ন্যায় সাজাপ্রাপ্তদের সাথে জাহান্নামে হাযির হতাম। [সূরা সাফফাত, ৫০-৫৭।]
খারাপ লোকের সঙ্গী খারাপ লোকই হয়ে থাকে :
﴿وَقَيَّضْنَا لَهُمْ قُرَنَآءَ فَزَيَّنُوْا لَهُمْ مَّا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَحَقَّ عَلَيْهِمُ الْقَوْلُ فِۤيْ اُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنَ الْجِنِّ وَالْاِنْسِۚ اِنَّهُمْ كَانُوْا خَاسِرِيْنَ﴾
আমি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম সহচরবৃন্দ, যারা তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে শোভন করে দেখিয়েছিল। অবশেষে তাদের ব্যাপারেও তাদের পূর্ববর্তী জিন ও মানুষের ন্যায় আল্লাহর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত। [সূরা হা-মীম সাজদা- ২৫।]
এটা আল্লাহর স্বতন্ত্র ও স্থায়ী বিধান। খারাপ নিয়ত ও খারাপ আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী মানুষের জন্য তিনি কখনো ভালো সঙ্গী দেন না। তার ঝোঁক ও আগ্রহ অনুসারে তিনি তাকে খারাপ সঙ্গীই জুটিয়ে দেন। সে যতই দুষ্কর্মের গহবরে নামতে থাকে ততই জঘন্যতর মানুষ ও শয়তান তার সহচর ও পরামর্শদাতা হতে থাকে। কারো কারো উক্তি, অমুক ব্যক্তি নিজে খুব ভালো কিন্তু তার বন্ধুবান্ধব জুটেছে খারাপ- এটা বাস্তবের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। প্রকৃতির বিধান হলো, প্রতিটি ব্যক্তি নিজে যেমন তার বন্ধুও জোটে ঠিক তেমনি। একজন সৎ ও নেক মানুষের সাহচর্যে খারাপ মানুষ আসলেও বেশি সময় সে তার সাথে থাকতে পারে না। অনুরূপ অসৎ উদ্দেশ্যে কর্মরত একজন দুষ্কর্মশীল মানুষের সাথে হঠাৎ সৎ মানুষের বন্ধুত্ব হলেও তা বেশি সময় টিকে থাকতে পারে না।
যালিমরা ও কাফিররা একে অপরের বন্ধু :
﴿وَاِنَّ الظَّالِمِيْنَ بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍۚ وَاللهُ وَلِيُّ الْمُتَّقِيْنَ﴾
নিশ্চয় যালিমরা একে অপরের বন্ধু; আর আল্লাহ মুত্তাক্বীদের বন্ধু। [সূরা জাসিয়া- ১৯।]
﴿وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا بَعْضُهُمْ اَوْلِيَآءُ بَعْضٍ﴾
যারা কুফরী করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। [সূরা আনফাল- ৭৩।]
কাফিরদের বন্ধু হলো তাগুত :
﴿وَالَّذِيْنَ كَفَرُوْاۤ اَوْلِيَآؤُهُمُ الطَّاغُوْتُ﴾
আর যারা কাফির তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত। [সূরা বাক্বারা- ২৫৭।]
কাফিরদের বন্ধু হলো শয়তান :
﴿اِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِيْنَ اَوْلِيَآءَ لِلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ﴾
যারা ঈমান আনে না, শয়তানকে আমি তাদের অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি। [সূরা আ‘রাফ- ২৭।]
এরা সবাই শয়তানের দল :
﴿اِسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَاَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللهِؕ اُولٰٓئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِؕ اَ لَاۤ اِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُوْنَ﴾
শয়তান তাদের উপর পরিপূর্ণভাবে আধিপত্য বিস্তার করে নিয়েছে এবং সে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ হতে ভুলিয়ে দিয়েছে; এরাই তো শয়তানের দল। জেনে রেখো, নিশ্চয় শয়তানের দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। [সূরা মুজাদালা- ১৯।]
অসৎ বন্ধু সৎকর্মে বাধা হয়ে যায় :
﴿يَا وَيْلَتٰى لَيْتَنِيْ لَمْ اَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيْلًا ‐ لَقَدْ اَضَلَّنِيْ عَنِ الذِّكْرِ بَعْدَ اِذْ جَآءَنِيْؕ وَكَانَ الشَّيْطَانُ لِلْاِنْسَانِ خَذُوْلًا﴾
হায় আমার দুর্ভোগ! আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম! (কেননা) আমার নিকট উপদেশ পৌঁছার পরও সে আমাকে বিভ্রান্ত করেছিল। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক। [সূরা ফুরক্বান- ২৮, ২৯।]
অসৎ বন্ধুর সঙ্গী না হওয়ার কারণে এক ব্যক্তি জান্নাতে গিয়ে তার ঐ অসৎ বন্ধুকে সম্বোধন করে বলবে, যদি আমি দুনিয়াতে তোমার সাথি হতাম তাহলে আমাকেও জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হতো। পবিত্র কুরআনে এসেছে,
﴿فَاَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلٰى بَعْضٍ يَّتَسَآءَلُوْنَ ‐ قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ اِنِّيْ كَانَ لِيْ قَرِيْنٌ ‐ يَقُوْلُ اَاِنَّكَ لَمِنَ الْمُصَدِّقِيْنَ ‐ اَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّعِظَامًا اَاِنَّا لَمَدِيْنُوْنَ ‐ قَالَ هَلْ اَنْتُمْ مُطَّلِعُوْنَ ‐ فَاطَّلَعَ فَرَاٰهُ فِيْ سَوَآءِ الْجَحِيْمِ ‐ قَالَ تَاللهِ اِنْ كِدْتَّ لَتُرْدِيْنِ ‐ وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُحْضَرِيْنَ﴾
তারা পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাদের মধ্য থেকে একজন বলবে, দুনিয়ায় আমার এক বন্ধু ছিল। সে বলত, তুমি কি এতে ঈমান রাখো যে, যখন আমরা মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফলপ্রাপ্ত হব? আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি তাকে উঁকি মেরে দেখতে চাও? অতঃপর সে উঁকি মেরে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে। সে বলবে, আল্লাহর শপথ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করার উপক্রম করেছিলে। যদি আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ না থাকত, তবে আমিও তোমার ন্যায় সাজাপ্রাপ্তদের সাথে জাহান্নামে হাযির হতাম। [সূরা সাফফাত, ৫০-৫৭।]