hadith book logo

আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করব

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

যেসব দলে যোগ দেয়া যাবে না

যেসব দলে আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের কর্মসূচী নেই :

﴿وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَاۤ اَنْزَلَ اللهُ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ﴾

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন যারা সে অনুযায়ী মীমাংসা করে না, তারাই কাফির। [সূরা মায়েদা- ৪৪।]

যেসব দলের নেতা কাফির :

﴿فَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَجَاهِدْهُمْ بِهٖ جِهَادًا كَبِيْرًا﴾

সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করো না এবং তুমি এর দ্বারা (কুরআনের সাহায্যে) তাদের সাথে প্রবল সংগ্রাম চালিয়ে যাও। [সূরা ফুরক্বান- ৫২।]

যেসব দলের নেতা মুনাফিক :

﴿وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِيْنَ وَالْمُنَافِقِيْنَ وَدَعْ اَذَاهُمْ﴾

আর তুমি কাফির ও মুনাফিকদের কথা মানবে না এবং তাদের নির্যাতনকে উপেক্ষা করবে। [সূরা আহযাব- ৪৮।]

যেসব দলের নেতা মিথ্যাবাদী :

﴿فَلَا تُطِعِ الْمُكَذِّبِيْنَ﴾

অতএব তুমি মিথ্যাপ্রতিপন্নকারীদের অনুসরণ করো না। [সূরা ক্বালাম- ৮।]

যেসব দলের নেতা অসৎ ও চরিত্রহীন :

﴿وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِيْنٍ ‐ هَمَّازٍ مَّشَّآءٍ ۢبِنَمِيْمٍ ‐ مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ اَثِيْمٍ﴾

আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না, যারা কথায় কথায় শপথ করে এবং যারা লাঞ্ছিত হয়। যারা বেহুদা গালমন্দ করে, মানুষকে অভিশাপ দেয় এবং চোগলখোরী করে বেড়ায়। আর যারা কল্যাণের কাজে বাধা দান করে এবং সীমালঙ্ঘন করে। [সূরা ক্বালাম, ১০-১২।]

مَنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ (মান্না‘ইল লিল খায়র) তথা যে কল্যাণের কাজে বাধা দান করে। اَلْخَيْرُ (আল খায়র) শব্দটি সম্পদ অর্থে ব্যবহৃত হয় আবার কল্যাণ অর্থেও ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থটি গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা নিজেদের অর্থ-সম্পদ থেকে বান্দা ও আল্লাহ কারো হকই আদায় করত না। দ্বিতীয় অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতের অর্থ হবে, তারা কল্যাণের পথ থেকে নিজেরাই যে কেবল বিরত থাকত তা নয়, বরং অন্যদেরকেও তা থেকে বিরত রাখত। তারা পৃথিবীতে কল্যাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কোনভাবেই যেন কল্যাণ বিস্তার লাভ করতে না পারে এ উদ্দেশ্যেই তারা তাদের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে।

مُعْتَدٍ (মু‘তাদিন) তথা সীমালঙ্ঘনকারী- যে প্রতিটি কাজে নৈতিকতার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী হিসেবে নিজের স্বার্থ ও উদ্দেশ্যাবলির জন্য যে কোন কাজ করতে প্রস্তুত থাকত। হারাম পন্থায় অর্থ-সম্পদ উপার্জন করত এবং হারাম পথেই তা ব্যয় করত। মানুষের অধিকারে হস্তক্ষেপ করত। তার হাত কোন প্রকার যুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকত না। কল্যাণের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকেই সে যথেষ্ট মনে করত না, বরং আরো অগ্রসর হয়ে সততা ও কল্যাণের পথের অনুসারীদেরকে উত্যক্ত করত এবং যারা কল্যাণের জন্য কাজ করত তাদের উপর নির্যাতন চালাত।

যেসব দলের নেতা ফাসিক :

﴿وَلَا تُطِيْعُوْاۤ اَمْرَ الْمُسْرِفِيْنَ ‐ اَ لَّذِيْنَ يُفْسِدُوْنَ فِى الْاَرْضِ وَلَا يُصْلِحُوْنَ﴾

(সেসব) সীমালঙ্ঘনকারীদের আদেশ মান্য করো না, যারা পৃথিবীতে কেবল অশান্তিই সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না। [সূরা শু‘আরা- ১৫১, ১৫২।]

যেসব দল বাতিলের অনুসরণ করে :

﴿ذٰلِكَ بِاَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوا اتَّبَعُوا الْبَاطِلَ وَاَنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّبَعُوا الْحَقَّ مِنْ رَّبِّهِمْؕ كَذٰلِكَ يَضْرِبُ اللهُ لِلنَّاسِ اَمْثَالَهُمْ﴾

এটা এ কারণে যে, যারা কুফরী করেছে তারা বাতিলের অনুসরণ করেছে। আর যারা ঈমান এনেছে তারা তাদের রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত হক্বকে মেনে চলেছে। এভাবেই আল্লাহ মানুষকে তাদের সঠিক অবস্থা জানিয়ে দেন। [সূরা মুহাম্মাদ- ৩।]