১
আমরা কাদের সাথে বন্ধুত্ব করব
লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান বিন মুবারক আলী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
২. মুমিনের বন্ধু মুহাম্মাদ ﷺ
আল্লাহ তা‘আলার পর নবী-রাসূলগণ হলেন মুমিনদের আসল বন্ধু। এসব মহাপুরুষ মানবজাতিকে তাদের প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ব্যবস্থা করে গেছেন। সাথে সাথে তাদের প্রতারক বন্ধুদের স্বরূপ উদঘাটন করে দিয়ে মানবজাতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থাও করেছেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
﴿رَسُوْلًا يَّتْلُوْا عَلَيْكُمْ اٰيَاتِ اللهِ مُبَيِّنَاتٍ لِّيُخْرِجَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ اِلَى النُّوْرِ ﴾
(আল্লাহ প্রেরণ করেছেন) এমন এক রাসূল, যিনি তোমাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন। যাতে করে তিনি মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন। [সূরা তালাক্ব- ১১।]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,
﴿وَمَاۤ اَرْسَلْنَاكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ﴾
আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর প্রতি কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। [সূরা আম্বিয়া- ১০৭।]
অর্থাৎ তিনি কেবল মানবজাতির বন্ধুই নন বরং সমগ্র মাখলুকাতের জন্য আল্লাহর রহমত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে ঈমানের লক্ষণ :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِه لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِه وَوَلَدِه
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার বাবা-মা ও তার সন্তানাদি হতে অধিক প্রিয় না হই। [সহীহ বুখারী, হা/১৪।]
عَنْ اَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِه وَوَلَدِه وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার বাবা-মা, সন্তানসন্ততি এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হই। [সহীহ বুখারী, হা/১৫।]
মুসলিম জাতির জন্য বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ হলেন আদর্শ :
মুমিন যে কাউকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ কে আমাদের আদর্শ বানিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْاٰخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيْرًا﴾
তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ (-র সন্তুষ্টি) ও শেষ দিবসের (মুক্তি) কামনা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে- তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে। [সূরা আহযাব- ২১।]
প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া। মুহাম্মাদ ﷺ এর চেয়ে উত্তম চরিত্রের দৃষ্টান্ত দ্বিতীয় আর কেউ হতে পারে না। কারণ তিনিই ছিলেন একমাত্র উন্নত চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَاِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ﴾
হে নবী! আপনিই উন্নত চরিত্রের অধিকারী। [সূরা ক্বালাম- ৪।]
যে ব্যক্তি যতবেশি নবী ﷺ এর সুন্নাত তথা আদর্শের অনুসরণ করবে সে ততবেশি আল্লাহর কাছে মর্যাদা লাভ করবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা নবী ﷺ কে উম্মতের আদর্শ হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ভালোবাসাকে নবী ﷺ এর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন।
মুমিনের কাছে পৃথিবীর কোন কিছুই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি প্রিয় হতে পারে না :
﴿قُلْ اِنْ كَانَ اٰبَآؤُكُمْ وَاَبْنَآؤُكُمْ وَاِخْوَانُكُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيْرَتُكُمْ وَاَمْوَالُ نِ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَاۤ اَحَبَّ اِلَيْكُمْ مِّنَ اللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَجِهَادٍ فِيْ سَبِيْلِهٖ فَتَرَبَّصُوْا حَتّٰى يَأْتِيَ اللهُ بِاَمْرِهٖؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ﴾
বলো, তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করার চেয়ে তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের বংশধর, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা ভালোবাস- এসব অধিক প্রিয় হয়, তবে আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না। [সূরা তাওবা- ২৪।]
সাহাবীগণ নবী ﷺ কে অত্যধিক ভালোবাসতেন :
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ( اَخَذَ بِيَدِهٖ وَقَالَ : يَا مُعَاذُ وَاللهِ اِنِّىْ لَاُحِبُّكَ فَقُلْتُ لَهٗ : بِأَبِيْ وَ أُمِّيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَ أَنَا وَ اللهِ أُحِبُّكَ . فَقَالَ : اُوْصِيْكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِىْ دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ اَعِنِّىْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
মু‘আজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী ﷺ আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, হে মু‘আজ! আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন মু‘আজ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক; আল্লাহর শপথ! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। এরপর নবী ﷺ বললেন, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আটি ছেড়ে দিও না।
اَللّٰهُمَّ اَعِنِّىْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরাতিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে আপনার স্মরণ, আপনার শুকরিয়া এবং উত্তমভাবে আপনার ইবাদাত করার জন্য সাহায্য করুন। [আবু দাঊদ, হা/১৫২৪; নাসাঈ, হা/ ১৩০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৭৫১; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০২০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১০১০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৯৬।]
নবী ﷺ কে ভালোবাসার অর্থ হচ্ছে তাঁর আদর্শকে গ্রহণ করা :
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ لِىْ رَسُوْلُ اللهِ -- : يَا بُنَىَّ إِنْ قَدَرْتَ أَنْ تُصْبِحَ وَتُمْسِىَ لَيْسَ فِىْ قَلْبِكَ غِشٌّ لِأَحَدٍ فَافْعَلْ . ثُمَّ قَالَ لِىْ : يَا بُنَىَّ وَذٰلِكَ مِنْ سُنَّتِىْ وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِىْ فَقَدْ أَحَبَّنِىْ . وَمَنْ أَحَبَّنِىْ كَانَ مَعِىَ فِى الْجَنَّةِ
সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন, হে বৎস! তুমি যদি এমন অবস্থায় সকাল এবং সন্ধ্যায় উপনীত হতে পার যে, কারো প্রতি তোমার অন্তরে বিদ্বেষ নেই তবে তুমি তা-ই করো। হে বৎস! এটা হলো আমার সুন্নত তথা আদর্শ। আর যে আমার আদর্শকে ভালোবাসল সে যেন আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। [তিরমিযী, হা/২৮৯৪; মিশকাত, হা/১৭৫।]
﴿رَسُوْلًا يَّتْلُوْا عَلَيْكُمْ اٰيَاتِ اللهِ مُبَيِّنَاتٍ لِّيُخْرِجَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ اِلَى النُّوْرِ ﴾
(আল্লাহ প্রেরণ করেছেন) এমন এক রাসূল, যিনি তোমাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন। যাতে করে তিনি মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন। [সূরা তালাক্ব- ১১।]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে,
﴿وَمَاۤ اَرْسَلْنَاكَ اِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ﴾
আর আমি তো তোমাকে বিশ্ববাসীর প্রতি কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি। [সূরা আম্বিয়া- ১০৭।]
অর্থাৎ তিনি কেবল মানবজাতির বন্ধুই নন বরং সমগ্র মাখলুকাতের জন্য আল্লাহর রহমত।
রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি ভালোবাসা হচ্ছে ঈমানের লক্ষণ :
عَنْ اَبِيْ هُرَيْرَةَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : فَوَالَّذِيْ نَفْسِيْ بِيَدِه لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِه وَوَلَدِه
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মু’মিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার বাবা-মা ও তার সন্তানাদি হতে অধিক প্রিয় না হই। [সহীহ বুখারী, হা/১৪।]
عَنْ اَنَسٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ لَا يُؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَالِدِه وَوَلَدِه وَالنَّاسِ اَجْمَعِيْنَ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার বাবা-মা, সন্তানসন্ততি এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হই। [সহীহ বুখারী, হা/১৫।]
মুসলিম জাতির জন্য বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ হলেন আদর্শ :
মুমিন যে কাউকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ ﷺ কে আমাদের আদর্শ বানিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْاٰخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيْرًا﴾
তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ (-র সন্তুষ্টি) ও শেষ দিবসের (মুক্তি) কামনা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে- তাদের জন্য অবশ্যই উত্তম আদর্শ রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মধ্যে। [সূরা আহযাব- ২১।]
প্রত্যেক মুসলিমের উচিত নবী মুহাম্মাদ ﷺ এর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া। মুহাম্মাদ ﷺ এর চেয়ে উত্তম চরিত্রের দৃষ্টান্ত দ্বিতীয় আর কেউ হতে পারে না। কারণ তিনিই ছিলেন একমাত্র উন্নত চরিত্রের অধিকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿وَاِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيْمٍ﴾
হে নবী! আপনিই উন্নত চরিত্রের অধিকারী। [সূরা ক্বালাম- ৪।]
যে ব্যক্তি যতবেশি নবী ﷺ এর সুন্নাত তথা আদর্শের অনুসরণ করবে সে ততবেশি আল্লাহর কাছে মর্যাদা লাভ করবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা নবী ﷺ কে উম্মতের আদর্শ হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ভালোবাসাকে নবী ﷺ এর আনুগত্যের সাথে সম্পৃক্ত করে দিয়েছেন।
মুমিনের কাছে পৃথিবীর কোন কিছুই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের চেয়ে বেশি প্রিয় হতে পারে না :
﴿قُلْ اِنْ كَانَ اٰبَآؤُكُمْ وَاَبْنَآؤُكُمْ وَاِخْوَانُكُمْ وَاَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيْرَتُكُمْ وَاَمْوَالُ نِ اقْتَرَفْتُمُوْهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَاۤ اَحَبَّ اِلَيْكُمْ مِّنَ اللهِ وَرَسُوْلِهٖ وَجِهَادٍ فِيْ سَبِيْلِهٖ فَتَرَبَّصُوْا حَتّٰى يَأْتِيَ اللهُ بِاَمْرِهٖؕ وَاللهُ لَا يَهْدِى الْقَوْمَ الْفَاسِقِيْنَ﴾
বলো, তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করার চেয়ে তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের বংশধর, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশঙ্কা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যাকে তোমরা ভালোবাস- এসব অধিক প্রিয় হয়, তবে আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না। [সূরা তাওবা- ২৪।]
সাহাবীগণ নবী ﷺ কে অত্যধিক ভালোবাসতেন :
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ( اَخَذَ بِيَدِهٖ وَقَالَ : يَا مُعَاذُ وَاللهِ اِنِّىْ لَاُحِبُّكَ فَقُلْتُ لَهٗ : بِأَبِيْ وَ أُمِّيْ يَا رَسُوْلَ اللهِ وَ أَنَا وَ اللهِ أُحِبُّكَ . فَقَالَ : اُوْصِيْكَ يَا مُعَاذُ لَا تَدَعَنَّ فِىْ دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ تَقُوْلُ اَللّٰهُمَّ اَعِنِّىْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
মু‘আজ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা নবী ﷺ আমার হাত ধরলেন এবং বললেন, হে মু‘আজ! আমি তোমাকে ভালোবাসি। তখন মু‘আজ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক; আল্লাহর শপথ! আমিও আপনাকে ভালোবাসি। এরপর নবী ﷺ বললেন, তুমি প্রত্যেক নামাযের পর এ দু‘আটি ছেড়ে দিও না।
اَللّٰهُمَّ اَعِنِّىْ عَلٰى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
আল্লা-হুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরাতিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিকা।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে আপনার স্মরণ, আপনার শুকরিয়া এবং উত্তমভাবে আপনার ইবাদাত করার জন্য সাহায্য করুন। [আবু দাঊদ, হা/১৫২৪; নাসাঈ, হা/ ১৩০৩; মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হা/৭৫১; সহীহ ইবনে হিববান, হা/২০২০; মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/১০১০; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/১৫৯৬।]
নবী ﷺ কে ভালোবাসার অর্থ হচ্ছে তাঁর আদর্শকে গ্রহণ করা :
عَنْ سَعِيْدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ قَالَ قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ لِىْ رَسُوْلُ اللهِ -- : يَا بُنَىَّ إِنْ قَدَرْتَ أَنْ تُصْبِحَ وَتُمْسِىَ لَيْسَ فِىْ قَلْبِكَ غِشٌّ لِأَحَدٍ فَافْعَلْ . ثُمَّ قَالَ لِىْ : يَا بُنَىَّ وَذٰلِكَ مِنْ سُنَّتِىْ وَمَنْ أَحْيَا سُنَّتِىْ فَقَدْ أَحَبَّنِىْ . وَمَنْ أَحَبَّنِىْ كَانَ مَعِىَ فِى الْجَنَّةِ
সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বলেছেন, হে বৎস! তুমি যদি এমন অবস্থায় সকাল এবং সন্ধ্যায় উপনীত হতে পার যে, কারো প্রতি তোমার অন্তরে বিদ্বেষ নেই তবে তুমি তা-ই করো। হে বৎস! এটা হলো আমার সুন্নত তথা আদর্শ। আর যে আমার আদর্শকে ভালোবাসল সে যেন আমাকেই ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসল সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে। [তিরমিযী, হা/২৮৯৪; মিশকাত, হা/১৭৫।]