hadith book logo

সাহাবীগণের হক ও ফযীলত সম্পর্কে যথাযথ করণীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ আল-কুসাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

ছয়: মুসলিম উম্মাহর ওপর সাহাবীগণের হক

উম্মতের ওপর যেসব হক ও গুরু দায়িত্ব রয়েছে, সাহাবীগণের হক আদায় করা তার একটি। যেমন,

১. সাহাবীগণের মর্যাদা ও ফযীলত স্বীকার করা, তাদের প্রতি বিদ্বেষ অথবা হিংসা ও ঈর্ষা থেকে নিজের অন্তরকে পবিত্র রাখা।

২. সাহাবীগণের মহব্বত অন্তরে ধারণ করা ও মুখে তাদের প্রশংসা করা। তারা অগ্রগামী উম্মত, তাদের ফযীলত কুরআন ও সুন্নাহতে প্রমাণিত। ইসলামের জন্য তারা অনেক ত্যাগ ও কুরবানি করেছেন, তাই উম্মতের ভেতর তাদের মহব্বত সৃষ্টি ও তাদেরকে সবার নিকট প্রিয় করা ঈমানের অংশ।

৩. ইলম, আমল, দাওয়াত, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ, অমুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার ক্ষেত্রে সাহাবীগণের নীতি গ্রহণ করা ও তাদেরকে আদর্শ হিসেবে জানা। কুরআন ও হাদীসের অর্থ তারাই বেশি জানতেন। তার ওপর আমল করার তাওফীক তারাই সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন। তারাই সবচেয়ে হিতাকাঙ্ক্ষী ছিলেন উম্মতের ওপর। আবার বিদ‘আত ও প্রবৃত্তি থেকে অনেক দূরত্বে অবস্থান করেছেন তারাই।

৪. সাহাবীগণের জন্য ইস্তেগফার ও রহমতের দো‘আ করা, যেরূপ আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের আয়াতে শিক্ষা দিয়েছেন:

﴿وَٱلَّذِينَ جَآءُو مِنۢ بَعۡدِهِمۡ يَقُولُونَ رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لَنَا وَلِإِخۡوَٰنِنَا ٱلَّذِينَ سَبَقُونَا بِٱلۡإِيمَٰنِ ١٠﴾ [ الحشر : 10]

“আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব, আমাদেরকে ও আমাদের ভাই যারা ঈমান নিয়ে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করুন”। [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৭-১০]

৫. সাহাবীগণের মাঝে সংঘটিত যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ইখতিলাফ ঘাটাঘাটি থেকে বিরত থাকা এবং বিশ্বাস করা যে, ইখতিলাফের ক্ষেত্রে তারা সাওয়াবের অধিকারী মুজতাহিদ ছিলেন, যে সঠিক ইজতিহাদ করেছেন তার দু’টি সাওয়াব, আর যে ভুল ইজতিহাদ করেছেন তার একটি সাওয়াব, তার ভুলটি মাফ ইজতিহাদের কারণে।

৬. কতক সাহাবীর ওপর যেসব দোষ চাপানো হয়, সেগুলো প্রচার করা থেকে বিরত থাকা। কারণ তার অধিকাংশ প্রবৃত্তির অনুসরণ, সীমালঙ্ঘন ও সাম্প্রদায়িকতা থেকে সৃষ্ট ও তৈরি করা মিথ্যা। বাহ্যত কখনো একটি ঘটনা প্রমাণিত হলেও তার ভেতরের বিষয় জানা যায় না, তাই সেগুলো প্রচার করার অর্থ সাহাবীগণের হিংসায় অন্তর কলুষিত থাকার বহিঃপ্রকাশ, তাদের থেকে প্রতিশোধ নেওয়া, তাদের অপছন্দ করা ও তাদেরকে অপবাদ দেওয়ার শামিল, যা কবিরা গুনাহ ও আল্লাহর গোস্বায় পতিত হওয়ার কারণ।

৭. বিশ্বাস করা যে, সকল সাহাবী বা কোনোও একজন সাহাবীকে গাল-মন্দ করা হারাম, লা‘নত করা আরও কঠিন হারাম। কারণ, তাদেরকে লা‘নত করলে আল্লাহকে মিথ্যারোপ করা হয়, যেহেতু তিনি তাদের পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা করেছেন, তাদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথেও দৃষ্টতা দেখানো হয়। কারণ, তিনি তাদের গাল-মন্দ করতে নিষেধ করেছেন। এতে সাহাবীগণের ওপর যুলুম ও সীমালঙ্ঘন তো আছেই, যদিও নবী ও রাসূলদের পর তারাই আল্লাহর একান্ত বান্দা ও খাস অলী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿وَٱلَّذِينَ يُؤۡذُونَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِ بِغَيۡرِ مَا ٱكۡتَسَبُواْ فَقَدِ ٱحۡتَمَلُواْ بُهۡتَٰنٗا وَإِثۡمٗا مُّبِينٗا ٥٨﴾ [ الأحزاب : 58]

“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয় তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৮]

একটি সহীহ হাদীসে কুদসিতে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

«من عادى لي وليا فقد آذنته بالحرب ... » .

“যে আমার কোনো অলীর সাথে শত্রুতা করবে, আমি তার সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিলাম...”।