hadith book logo

সাহাবীগণের হক ও ফযীলত সম্পর্কে যথাযথ করণীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ আল-কুসাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৭

চার: সাহাবীগণের মর্যাদা ও ফযীলত

সাহাবীগণ তাদের পরবর্তী উম্মত থেকে অনেক দিক থেকেই এগিয়ে। যেমন, নবুওয়াতের শুরুতে ইসলাম গ্রহণ করেছেন, ইসলামকে বিজয়ী ও পরবর্তী উম্মতের নিকট পৌঁছানোর জন্য জিহাদ করেছেন। সর্বপ্রথম আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছেন, যখন লোক সংখ্যা কম ছিল, সেই কঠিন অবস্থায় জিহাদ করেছেন। আল্লাহর দিকে হিকমতের সাথে আহ্বান করেছন, নিজের নফস ও মূল্যবান বস্তু বিসর্জন দিয়েছেন, আত্মীয় ও অনাত্মীয় সবার শত্রুতায় ধৈর্য ধারণ করেছেন, এসব দিক বিবেচনায় তারা অনেক ফযীলত ও মর্যাদার অধিকারী, যেমন:

১. ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী।

২. কঠিন অবস্থায় সবর করা।

৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সোহবত গ্রহণ করা।

৪. হিজরত করা ও নবীকে আশ্রয় দেওয়া।

৫. নবীকে সাহায্য করা ও দীনের জন্য জিহাদ করা।

৬. ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ইমামের মর্যাদা লাভ করা।

৭. দীন প্রচার করা।

সাহাবীগণের ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত আরও অনেক দলীল রয়েছে, যেমন:

১. আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমের একাধিক আয়াতে সাহাবীগণের আমল ও সুন্দর আচরণের প্রশংসা করেছেন। তাদেরকে তিনি মহান সফলতা ও নিজের সন্তুষ্টির ওয়াদা দিয়েছেন। যেমন তিনি বলেছেন:

﴿مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ ذَٰلِكَ مَثَلُهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِۚ وَمَثَلُهُمۡ فِي ٱلۡإِنجِيلِ كَزَرۡعٍ أَخۡرَجَ شَطۡ‍َٔهُۥ فَ‍َٔازَرَهُۥ فَٱسۡتَغۡلَظَ فَٱسۡتَوَىٰ عَلَىٰ سُوقِهِۦ يُعۡجِبُ ٱلزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ ٱلۡكُفَّارَۗ وَعَدَ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ مِنۡهُم مَّغۡفِرَةٗ وَأَجۡرًا عَظِيمَۢا ٢٩﴾ [ الفتح : 29]

“মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকুকারী ও সাজদাহকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সাজদাহ’র চিহ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যে তার কঁচিপাতা উদগত ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়ে স্বীয় কাণ্ডের উপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষিকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদেরকে ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন”। [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:

﴿وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ ٩﴾ [ الحشر : 9]

“আর মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে যারা মদিনাকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছিল ও ঈমান এনেছিল (তাদের জন্যও এ সম্পদে অংশ রয়েছে), আর যারা তাদের কাছে হিজরত করে এসেছে তাদেরকে ভালোবাসে। মুহাজিরদেরকে যা প্রদান করা হয়েছে তার জন্য এরা তাদের অন্তর কোনো ঈর্ষা অনুভব করে না। নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও নিজেরদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়। যাদেরকে মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম”। [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৯]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:

﴿وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ وَأَعَدَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي تَحۡتَهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ ١٠٠﴾ [ التوبة : 100]

“মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা তাদেরকে অনুসরণ করেছে সুন্দরভাবে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন আর তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাতসমূহ, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য”। [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০০]

যে সাহাবীগণের জন্য আল্লাহ তা‘আলা এসব ওয়াদা করেছেন, তাদের পূর্বাপর আমল সম্পর্কে তিনি জানতেন। তিনি জানতেন তারা কখনো দীন ত্যাগ করবে না, বরং দীনের ওপর মারা যাবে। অধিকন্তু তারা যেসব পাপ করবে, তাতেও তারা অটল থাকবে না, বরং তার থেকে তাওবা করবে এবং আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করবেন। কারণ, তাদের তাওবা সত্যিকার অর্থের তাওবা হবে, উপরন্তু তাদের রয়েছে পাপ মোচনকারী অনেক নেকি ও উঁচু মর্যাদা।

২. একাধিক হাদীসে সহাবীগেণের ফযীলত এসেছে। যেমন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لاتسبوا أصحابي فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهبا ما بلغ مد أحدهم ولانصيفه» .

“তোমরা সাহাবীগণকে গাল-মন্দ কর না। কারণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পরিমাণ স্বর্ণ সদকা করে, তাদের কারও এক মুদ বা তার অর্ধেকেও পৌঁছবে না”।

অপর হাদীসে তিনি বলেছেন:

«خير القرون قرني الذين بعثت فيهم ... » .

“সর্বোত্তম যুগ আমার যুগ, যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি”।

৩. মোটকথা আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমে যেসব মুত্তাকি, মুমিন ও মুহসিনদের প্রশংসা ও গুণাবলি বর্ণনা করেছন এবং যাদের জন্য তিনি ইহকাল ও পরকালের পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছেন, সবার আগে তার অধিকারী হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণ। তাদের জন্য রয়েছে সফলতা ও সৌভাগ্য।

৪. কুরআন ও সুন্নাহতে সাহাবীগণের যেসব ফযীলত, মর্যাদা, গুণাবলি ও উঁচু মর্তবার সাক্ষী রয়েছে তা সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট। তার বিপরীতে রাফেযী, খারেজী, মু‘তাজেলা ও তাদের ন্যায় অন্যান্য পথভ্রষ্টদের মিথ্যা রচনার কোনোও মূল্য নেই।