hadith book logo

সাহাবীগণের হক ও ফযীলত সম্পর্কে যথাযথ করণীয়

লেখকঃ আব্দুল্লাহ ইবন সালিহ আল-কুসাইর • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৫

সাত: সাহাবীগণের আদালত ও বিশ্বস্ততা

সাহাবীগণ আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণীর প্রথম উদ্দেশ্য:

﴿كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ ١١٠﴾ [ آل عمران :110]

“তোমরা সর্বোত্তম উম্মত, মানুষের জন্য বের করা হয়েছে”। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]

অপর আয়াতে তিনি বলেন:

﴿وَكَذَٰلِكَ جَعَلۡنَٰكُمۡ أُمَّةٗ وَسَطٗا لِّتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ ١٤٣﴾ [ البقرة : 143]

“এভাবেই আমরা তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও”। [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৩]

এ আয়াতের সম্বোধনে যারা উদ্দেশ্য, তাদের ভেতর সর্বপ্রথম, সর্বোত্তম ও শ্রেষ্ঠ সদস্য হলেন সাহাবীগণ। অপর এক সহীহ হাদীসে এসেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

«أنهم خير قرون هذه الأمة، وأنهم خير الناس، وأنهم يوم القيامة يوفون سبعين أمة، هم خيرها وأكرمها على الله عزوجل» .

“সাহাবীগণ এ উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তিবর্গ, সকল মানুষ থেকে তারাই শ্রেষ্ঠ, কিয়ামতের দিন তারা সত্তর উম্মতের বরাবর হবে। আল্লাহর নিকট তারাই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ”।

কুরআনুল কারীম ও সহীহ সুন্নাহতে সাহাবীগণের এ ছাড়া আরও অনেক ফযীলত, প্রশংসা, সাওয়াবের প্রতিশ্রুতি ও প্রতিদানের ওয়াদা রয়েছে যা গুণে শেষ করা যাবে না।

সাহাবীগণের জীবন চরিত যে দেখবে, তাদের অবস্থা ও ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসগুলো যে পাঠ করবে, আল্লাহর রাস্তায় তাদের দাওয়াত ও জিহাদ, আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ করার জন্য তাদের সকল প্রকার ত্যাগ, তার রাসূলকে সাহায্য ও তার দীনকে বিজয়ী করার তাদের প্রচেষ্টা এবং তাদের ঈমান, আল্লাহর সাথে তাদের সততা, নেকি, উপকারী ইলম, নেক আমল ও অন্যান্য কল্যাণকর ক্ষেত্রে তাদের প্রতিযোগিতা দেখবে ও ভাববে, সে অবশ্যই বিশ্বাস করবে নবী ও রাসূলদের পর সাহাবীগণ সর্বোত্তম। তারাই উম্মতের ভেতর ইলম, জ্ঞান ও দীনের ক্ষেত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং যথাযথভাবে সঠিক পথের অনুসারী তারাই ছিলেন। তাদের যে বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত ছিল, সেরূপ বৈশিষ্ট্য ও ফযীলত পূর্বে কারও ছিল না, ভবিষ্যতে কারও হবে না, কখনো হবে না। আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন।

এ জন্য আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত সবাই একমত যে, সাহাবীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য, তাদের কারও বিশ্বস্ততা যাচাইয়ের জন্য তথ্য অনুসন্ধান করার প্রয়োজন নেই, কারণ কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের বিশ্বস্ততা ও প্রশংসার বর্ণনা এবং তারা উত্তম, মধ্যপন্থার অনুসারী ও সত্যবাদী সম্পর্কে যেসব তথ্য ও উপাদান রয়েছে, সেগুলো তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট। কুরআন ও সুন্নাহতে কাউকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করার পর তাতে কারও সন্দেহ প্রকাশ করার ফলে তা বাতিল হয় না, বরং সন্দেহ প্রকাশকারী প্রত্যাখ্যাত হয়, এসব সন্দেহ সৃষ্টিকারীরা মূলত প্রবৃত্তি পূজারি মূর্খ, রাফেযী ও ইসলামের শত্রু। সাহাবীগণের দোষ চর্চাকারীরা যেসব বর্ণনা পেশ করেন, সেগুলোর বাস্তবতা নিম্নরূপ:

১. তাদের পেশ করা কতক বর্ণনা আগা-গোঁড়া মিথ্যা।

২. কতক বর্ণনায় বিকৃতি, হ্রাস ও বৃদ্ধি ঘটেছে, যে কারণে প্রকৃত ঘটনা বদমান ও অপবাদের রূপ নিয়েছে।

৩. সাহাবীগণের যুদ্ধ-বিগ্রহের মূল কারণ ইজতিহাদ। যিনি ইজতিহাদ করে ঠিক করেছেন তার দু’টি সাওয়াব, আর যিনি ভুল করেছেন তার একটি সাওয়াব, ভুলটি মাফ। তাদের বিচ্যুতি ইজতিহাদ থেকে সৃষ্টি। ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তারা অপারগ ছিলেন, তাই ঠিক হোক বা বেঠিক হোক উভয় অবস্থায় তারা সাওয়াবের অধিকারী।

আহলে হক সবাই একমত যে, সাহাবীগণের বর্ণনা ও সাক্ষী গ্রহণযোগ্য এবং তাদের ন্যায়পরায়ণতা সাব্যস্ত। তাদের সবাইকে বিশ্বস্ত বলে জানা জরুরি এবং তাদের ছিদ্রান্বেষণ করা হারাম। বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। আবু যুরআহ রহ. বলেন: “তুমি যখন কাউকে দেখ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সাহাবীকে হেয় করছে জেনে নাও সে জিন্দিক”। কারণ, কুরআন হক, রাসূল হক এবং রাসূল যা নিয়ে এসেছেন সেটাও হক, আর এ হকগুলো আমাদের নিকট পৌঁছিয়েছেন সাহাবীগণ। অতএব, যে তাদের দোষারোপ করল সে মূলত কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল প্রমাণ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হল।