hadith book logo

ইসলামী বিধান ও আধুনিক বিজ্ঞান (প্রথম খন্ড)

লেখকঃ মুহাম্মাদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

মদ ও নেশাগ্রস্থ বস্ত্ত হারাম কেন?

আল্লাহ তা’আলার প্রেরিত ধর্ম সমূহের মধ্যে একমাত্র ইসলামের এ বৈশিষ্ট রয়েছে যে, মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি লক্ষ্য করে খাওয়া দাওয়ার জিনিসকে হালাল অথবা হারামে বিভক্ত করে বিশ্ব মানবতার প্রতি এক বিরাট অনুগ্রহ করেছেন।

কোন সন্দেহ নেই যে, ধর্ম, ইয্যত, জান, মাল ও আকল এই পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের নিরাপত্তাই হচ্ছে প্রকৃত নিরাপত্তা। মানব রচিত আইনে এই পাঁচটি বিষয়ে নিরাপত্তার কোন নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

আকলকে সংরক্ষণ করা শরীয়তের হিকমত। এ কথাটি স্পষ্টভাবে পরিস্ফুটিত হয় নেশাগ্রস্থ বস্ত্তুগুলো হারাম করা ও নেশাখোর ব্যক্তির শাস্তির ব্যবস্থার মাধ্যমে। সবার কাছে সুপ্রতিষ্ঠিত যে, মানব জাতির কাছে ইসলামের পর সব চেয়ে বড় ও শ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছে আকল যার মাধ্যমে মানুষ পার্থক্য করতে পারে ভাল ও মন্দ এবং উপকারী ও অপকারী বস্ত্তর মাঝে।

ইসলামে হারাম দ্রব্যগুলির উপর যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন যে, এর মধ্যে ধ্বংসাত্মক পরিণতি ছাড়া মানব জাতির কল্যাণকর কোন কিছুই নেই। যাও বা সামান্য পরিমানে রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব লক্ষণ। যে দ্রব্য জ্ঞান বুদ্ধি লোপ করে দেয়, নেশা সৃষ্টি করে, ধ্বংস করে মানবীয় গুণাবলী এবং ধ্বংস করে দেয় সমাজ ও সভ্যতাকে সেটি হচ্ছে মদ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইুহ ওয়া সাল্লাম এই জাতীয় সব জিনিস চিরদিনের জন্য হারাম করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿90﴾ إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ فَهَلْ أَنْتُمْ مُنْتَهُونَ ﴿المائدة 91﴾

অর্থঃ ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব এগুলো থেকে বেঁচে থাক যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করতে পার। শয়তান চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের পরস্পরের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্ধেষ সঞ্চারিত করে দিতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব তোমরা এখনও কি নিবৃত হবে না? (সূরা মায়েদা, ৫ঃ ৯০ ও ৯১ আয়াত)।

অন্য আয়াতে বলেনঃ

وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ( سورة النساء 29)

তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করনা। (সূরা নিসা, ৪ঃ ২৯ আয়াত)।

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ( سورة البقرة 195)

অর্থঃ তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করবে না। (সূরা বাকারা, ২ঃ ১৯৫ আয়াত)।

আল্লাহ রাববুল আলামীন মানব জাতিকে সমস্ত সৃষ্টি জগতের মধ্যে সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আল্লাহ বলেনঃ

وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا ﴿الإسراء 70﴾

অর্থঃ নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি। আমি তাদেরকে স্থলে ও পানিতে চলাচলের বাহন দান করেছি এবং তাদেরকে উত্তম রিয্ক দান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্ত্তর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। (সূরা আল ইসরা, ১৭ঃ ৭০ আয়াত)।

لَعَنَ رَسُوْلُ اللّهِ فِي الْخَمْرِ عَشَرَة : عَاصِرَهَا وَمُعْتَصِرِهَا وَ شَارِبِهَا وحًامِلِهَاوَالْمَحْمُوْلَةِ إلَيْهِ وَسَقِيَهاوَبَائِعَهَا وَأكِلَ ثَمَنِهَا وَالْمُشْتَرِيَ لَهَا وَالْمُشْتَرَاةَ لَهُ ( رواه ابن ماجه )

অর্থঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাদকাশক্ত ১০ ধরণের ব্যক্তির উপর লানত করেছেন। যথা (১) যে ব্যক্তি মদ জাতীয় বস্ত্তর নির্যাস বের করে, (২) যে ব্যক্তি মদ প্রস্ত্তত করে, (৩) যে ব্যক্তি মদ পান করে, (৪) যে ব্যক্তি মদ পান করায়, (৫) যে ব্যক্তি মদ আমদানী করে, (৬) যার জন্য মদ আমদানী করা হয়, (৭) মদ বিক্রেতা, (৮) মদ ক্রেতা, (৯) অন্যকে সরবরাহকারী এবং (১০) মদের লাভের অংশ ভোগকারী। (ইবনে মাজাহ)।

ইসলামের মাদক বিরোধীতা উপহাসের ব্যাপার ছিল পাশ্চাত্যের অন্যান্য জাতিগুলির কাছে। তারা নেশায় বুঁদ হয়ে তুলে ধরেছে তাদের বেহায়াপনা নোংরামী এবং নানা ধরনের সভ্যতা বিবর্জিত অমানুসিক আচরণ এবং অশালীন কর্মকান্ড। তারা ইসলামের কল্যাণকর মহান বাণীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু আজ যখন সমাজ সভ্যতা সব কিছুকে ধ্বংস ও গ্রাস করার জন্য মুখ ব্যাদান করে অগ্রসর হয়েছে, মাদক রাক্ষস তখন মহা আতংকে উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েছে সারা বিশ্ব। আর এখন একে ঠেকাবার জন্য বিশ্ব ব্যাপী চলছে ব্যাপক অভিযান। একে প্রতিহত করার লড়াইয়ে ব্যয় করা হচ্ছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার, এর বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করার প্রচারনায়।

মদের ক্ষতিকর দিকগুলি সম্পর্কে আলোচনা করতে হলে প্রথমে জানতে হবে শরীরের কোন কোন অঙ্গের উপর এর প্রভাব এবং কেন আল্লাহ রাববুল আলামীন মানব শরীরে এ নব যন্ত্র সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলির কাজ কি?