১
ইসলামী বিধান ও আধুনিক বিজ্ঞান (প্রথম খন্ড)
লেখকঃ মুহাম্মাদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
বিজ্ঞান শিক্ষা করার প্রতি কুরআনের উৎসাহ
মহান রাববুল আলামীন আল্লাহ তা’আলাই হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা, নিয়ন্ত্রক ও পরিচালক। আল্লাহই সর্বময় ও সকল ক্ষমতার উৎস। মানবকুলের নিয়ন্ত্রণ ও সার্বক্ষণিক শান্তির জন্য তিনি তাদেরকে দিয়েছেন বিশ্ব স্বীকৃত কালজয়ী মহান আদর্শ কুরআন, যার মধ্যে রয়েছে সর্বকালেন মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবন-বিধান, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও সার্বজনীন দিক নির্দেশনার পাশাপাশি জ্ঞান বিজ্ঞানের বিষয় সমূহের অসংখ আলোচনা। বস্ত্ত জগতের জ্ঞানই ‘বিজ্ঞান’। আল কুরআন ধর্মীয় বিষয়াবলির সাথে সাথে পার্থিব জ্ঞান লাভের জন্য পৃথিবীর বস্ত্ত জগত তথা বিজ্ঞান বিষয়ক বহু আলোচনা করেছে। এভাবেই কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের সম্পর্ক। আজ বিজ্ঞানের অভুতপূর্ব উন্নতিতে চমকে উঠা মানুষ কুরআনী জীবন ব্যবস্থাকে বর্তমান যুগের জন্য অনুপযুক্ত বলে মনে করছে। তাই কুরআনের ব্যাপ্যারে বিজ্ঞান ভিত্তিক আলোচনা করা একান্ত প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত ইসলাম মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর আবার যখন মহানবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তা জিবরাঈল আ. এর মাধ্যমে কুরআন আকারে নাযিল হতে শুরু করল তখন তার প্রথম বাক্য ছিল ‘পড়’।
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴿1﴾ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ﴿2﴾ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ﴿3﴾ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ﴿4﴾ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿العلق 5﴾
অর্থঃ পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাধা রক্ত থেকে। পাঠ করুন, মহা দয়ালু আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। এমন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ যা জানত না। (সূরা আলাক, ৯৬ঃ ১-৫ আয়াত)।
ইসলাম আমাদেরকে যেমন ইলম বা জ্ঞান অর্জন করার জন্য আদেশ ও উৎসাহ প্রদান করেছে তেমনি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে যাতে আমরা জগত সমূহকে নিয়ে চিন্তা গবেষণা করি। এমন কি আমাদের হৃদয়ে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে ভাবনার উদ্ভব হয় সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা যেন গবেষণা করি। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ ( الأعراف 185)
অর্থঃ আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা কি তারা দেখেনি? (সূরা আরাফ, ৭ঃ ১৮৫ আয়াত)।
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ ( النحل 48)
অর্থঃ তারা কি আল্লাহ সৃজিত বস্ত্তসমূহ দেখে না? (সূরা নাহল ১৬ঃ ৪৮ আয়াত)।
انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( يونس 101)
অর্থঃ আসমান সমূহ ও যমীনে কি রয়েছে তোমরা চেয়ে দেখ। (সূরা ইউনুস, ১০ঃ ১০১ আয়াত)।
فَانْظُرْ إِلَى آَثَارِ رَحْمَةِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ( الروم 50)
অর্থঃ অতএব তোমরা আল্লাহর রহমতের নিদর্শন লক্ষ কর, কিভাবে তিনি পৃথিবীর মাটিকে মৃত্যুর পর জীবিত করেন। (সূরা রুম, ৩০ঃ ৫০ আয়াত)।
فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ ﴿24﴾
অর্থঃ মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। সূরা আবাসা, ৮০ঃ ২৪ আয়াত)।
فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ ﴿5﴾
অর্থঃ মানুষদের খেয়াল করা উচিত, কি বস্ত্ত থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা তারিক, ৮৬ঃ ৫ আয়াত)।
উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলিতে জ্ঞানী লোকদেরকে মহান আল্লাহ বিজ্ঞান চর্চার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং আহবান জানিয়েছেন। অপর দিকে যারা চিন্তা ও গবেষণা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( آل عمران 191)
অর্থঃ যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণা করে। (সূরা আলে ইমরান, ৩ঃ ১৯১ আয়াত)। এই আয়াতে জ্ঞানী লোকদের পরিচয় দেয়া হয়েছে। তারা সৃষ্টি রহস্য সম্বন্ধে চিন্তা ও গবেষণা করেন। আল্লাহর কুদরতের বৈশিষ্টে মুগ্ধ হয়ে আল্লাহকে সর্বাবস্থায় স্মরণ করেন।
এ ছাড়াও আল্লাহ মানুষের মধ্যে যারা জ্ঞানী, বিদ্বান ও চিন্তাশীল তাদের নিকট বিভিন্ন বস্ত্তর বর্ণনা ও যুক্তি পেশ করে পরিশেষে বলেছেনঃ
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُون -13-4
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ 13-3
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ 30-22
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ 24-44
এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন। আবার কখনও বলেছেন চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এবং দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً ( لقمان 20)
অর্থঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তোমাদের কল্যাণের জন্য নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অনুগ্রহ সম্পুর্ণ করেছেন। (সূরা লুকমান, ৩১ঃ ২০ আয়াত)।
سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا ﴿الفتع 23﴾
অর্থঃ পূর্ব হতে আল্লাহর এরূপ বিধান চলে আসছে। তুমি আল্লাহর বিধানের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না। (সূরা ফাত্হ, ৪৮ঃ ২৩ আয়াত)।
أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿الانعام 114﴾
অর্থঃ তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। (সূরা আনআম, ৬ঃ ১১৪ আয়াত)।
وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿الانعام 115﴾
অর্থঃ আপনার রবের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুসম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা আনআম, ৬ঃ ১১৫ আয়াত)।
وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿المائدة 50﴾
আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্য উত্তম হুকুমদাতা কে রয়েছে? (সূরা মায়িদা, ৫ঃ ৫০ আয়াত)।
কেন ইসলাম প্রতিটি বস্ত্ত নিয়ে গবেষণার আদেশ করেছে? তা এ জন্য যে, ইসলাম হচ্ছে সঠিক ও সত্য ধর্ম যা প্রকৃত স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রেরিত। আল্লাহর সমস্ত মাখলুকাতের জ্ঞান তাঁর প্রতি এবং তাঁর ধর্মের প্রতি ঈমানকে শক্তিশালী করার একটি পন্থা।
সঠিক ধর্ম অবশ্যই সঠিক জ্ঞানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। অনুরূপ ভাবে সঠিক জ্ঞান সঠিক ধর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ﴿1﴾ خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ﴿2﴾ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ ﴿3﴾ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ﴿4﴾ عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ ﴿العلق 5﴾
অর্থঃ পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাধা রক্ত থেকে। পাঠ করুন, মহা দয়ালু আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। এমন শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষ যা জানত না। (সূরা আলাক, ৯৬ঃ ১-৫ আয়াত)।
ইসলাম আমাদেরকে যেমন ইলম বা জ্ঞান অর্জন করার জন্য আদেশ ও উৎসাহ প্রদান করেছে তেমনি অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে যাতে আমরা জগত সমূহকে নিয়ে চিন্তা গবেষণা করি। এমন কি আমাদের হৃদয়ে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে ভাবনার উদ্ভব হয় সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা যেন গবেষণা করি। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ ( الأعراف 185)
অর্থঃ আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তা কি তারা দেখেনি? (সূরা আরাফ, ৭ঃ ১৮৫ আয়াত)।
أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى مَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ ( النحل 48)
অর্থঃ তারা কি আল্লাহ সৃজিত বস্ত্তসমূহ দেখে না? (সূরা নাহল ১৬ঃ ৪৮ আয়াত)।
انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( يونس 101)
অর্থঃ আসমান সমূহ ও যমীনে কি রয়েছে তোমরা চেয়ে দেখ। (সূরা ইউনুস, ১০ঃ ১০১ আয়াত)।
فَانْظُرْ إِلَى آَثَارِ رَحْمَةِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا ( الروم 50)
অর্থঃ অতএব তোমরা আল্লাহর রহমতের নিদর্শন লক্ষ কর, কিভাবে তিনি পৃথিবীর মাটিকে মৃত্যুর পর জীবিত করেন। (সূরা রুম, ৩০ঃ ৫০ আয়াত)।
فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ ﴿24﴾
অর্থঃ মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ করুক। সূরা আবাসা, ৮০ঃ ২৪ আয়াত)।
فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ مِمَّ خُلِقَ ﴿5﴾
অর্থঃ মানুষদের খেয়াল করা উচিত, কি বস্ত্ত থেকে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (সূরা তারিক, ৮৬ঃ ৫ আয়াত)।
উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলিতে জ্ঞানী লোকদেরকে মহান আল্লাহ বিজ্ঞান চর্চার প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন এবং আহবান জানিয়েছেন। অপর দিকে যারা চিন্তা ও গবেষণা করে তাদের প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ( آل عمران 191)
অর্থঃ যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণা করে। (সূরা আলে ইমরান, ৩ঃ ১৯১ আয়াত)। এই আয়াতে জ্ঞানী লোকদের পরিচয় দেয়া হয়েছে। তারা সৃষ্টি রহস্য সম্বন্ধে চিন্তা ও গবেষণা করেন। আল্লাহর কুদরতের বৈশিষ্টে মুগ্ধ হয়ে আল্লাহকে সর্বাবস্থায় স্মরণ করেন।
এ ছাড়াও আল্লাহ মানুষের মধ্যে যারা জ্ঞানী, বিদ্বান ও চিন্তাশীল তাদের নিকট বিভিন্ন বস্ত্তর বর্ণনা ও যুক্তি পেশ করে পরিশেষে বলেছেনঃ
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُون -13-4
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ 13-3
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآَيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ 30-22
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَعِبْرَةً لِأُولِي الْأَبْصَارِ 24-44
এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য রয়েছে বহু নিদর্শন। আবার কখনও বলেছেন চিন্তাশীল ব্যক্তির জন্য জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য এবং দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের জন্য ইত্যাদি।
আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ
أَلَمْ تَرَوْا أَنَّ اللَّهَ سَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَسْبَغَ عَلَيْكُمْ نِعَمَهُ ظَاهِرَةً وَبَاطِنَةً ( لقمان 20)
অর্থঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্তই তোমাদের কল্যাণের জন্য নিয়োজিত করেছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অনুগ্রহ সম্পুর্ণ করেছেন। (সূরা লুকমান, ৩১ঃ ২০ আয়াত)।
سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا ﴿الفتع 23﴾
অর্থঃ পূর্ব হতে আল্লাহর এরূপ বিধান চলে আসছে। তুমি আল্লাহর বিধানের কোন পরিবর্তন দেখতে পাবে না। (সূরা ফাত্হ, ৪৮ঃ ২৩ আয়াত)।
أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آَتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ ﴿الانعام 114﴾
অর্থঃ তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। (সূরা আনআম, ৬ঃ ১১৪ আয়াত)।
وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿الانعام 115﴾
অর্থঃ আপনার রবের বাক্য পূর্ণ সত্য ও সুসম। তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নেই। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। (সূরা আনআম, ৬ঃ ১১৫ আয়াত)।
وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ ﴿المائدة 50﴾
আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্য উত্তম হুকুমদাতা কে রয়েছে? (সূরা মায়িদা, ৫ঃ ৫০ আয়াত)।
কেন ইসলাম প্রতিটি বস্ত্ত নিয়ে গবেষণার আদেশ করেছে? তা এ জন্য যে, ইসলাম হচ্ছে সঠিক ও সত্য ধর্ম যা প্রকৃত স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রেরিত। আল্লাহর সমস্ত মাখলুকাতের জ্ঞান তাঁর প্রতি এবং তাঁর ধর্মের প্রতি ঈমানকে শক্তিশালী করার একটি পন্থা।
সঠিক ধর্ম অবশ্যই সঠিক জ্ঞানের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে। অনুরূপ ভাবে সঠিক জ্ঞান সঠিক ধর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।