hadith book logo

ইসলামী বিধান ও আধুনিক বিজ্ঞান (প্রথম খন্ড)

লেখকঃ মুহাম্মাদ ওসমান গনি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তিন হায়েযকাল অপেক্ষা করতে হবে কেন?

ইসলাম ধর্মে নরীদেরকে তালাকপ্রাপ্তা হওয়ার পর তিন হায়েয (ঋতু) পর্যন্ত আল্লাহর হুকুমে ইদ্দত পালন করতে হয়। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ

وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ( سورة البقرة 228)

অর্থঃ তালাকপ্রাপ্তা নারী নিজেকে অপেক্ষায় রাখবে তিন হায়েয (বা তিন তহুর) পর্যন্ত। (সূরা বাকারা, ২ঃ ২২৮ আয়াত) অর্থাৎ তালাকপ্রাপ্তা মহিলা অন্যত্র বিয়ে করতে ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করা মহান সৃষ্টিকর্তার নির্দেশ। ফ্রান্সের আইনে রয়েছে যে, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা মহিলা যদি বিয়ের ইচ্ছা করে তাহলে তালাক অথবা স্বামীর মৃত্যুর সময় থেকে তিন শত দিন অপেক্ষা করা অত্যাবশ্যক। তবে হ্যাঁ, এর কম সময়ে যদি সন্তান ভূমিষ্ট হয় তাহলে তা আলাদা কথা। এ সময়টি প্রায় নয় মাসেরও অধিক। [ توحيد الخالق للسيخ عبد المجيد الزنداني ص 3 ص 20]

অনেকেই প্রশ্ন করেঃ কেন তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? এক হায়েয অথবা দুই হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করলেই কি যথেষ্ট নয়?

এ প্রশ্নের জবাব দিতে হলে আমাদেরকে নজর দিতে হবে আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের দিকে। বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, নারীদের গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথে হায়েয বন্ধ হয়ে যায়। তবে কোন কোন মহিলার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রমও লক্ষ্য করা যায়। তা হচ্ছে গর্ভবতী হওয়ার পরও একবার অথবা দুবার হায়েয হতে পারে, কিন্তু গর্ভাবস্থায় কোন ক্রমেই পর পর তিনবার হায়েয হতে পারে না। [ الإسلام او الضياع للشيخ عبد المجيد الزنداني ص 62]

অতএব আমাদের কাছে এটা সুষ্পষ্ট যে, আল্লাহর নির্দেশে নারীদেরকে তিন হায়েয বা তিন তহুর পর্যন্ত অপেক্ষা করা সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং যুক্তি সঙ্গত। এই বিধানের প্রধান উদ্দেশ্য পরবর্তী কালে সন্তানের পিতৃত্বের ব্যাপারে মতভেদ দেখা দেয়ার আশংকা দূর করা। কেননা যদি তালাকের সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকে এবং তা প্রাথমিক অবস্থায় থাকে তাহলে তা ঋতু বন্ধ হয়ে গেলেই বুঝা যাবে। কিন্তু যদি পর পর তিন মাসে ঋতুস্রাব হয় তাহলে নিশ্চয়ই গর্ভে কোন সন্তান ছিল না। অতএব মানুষ এই ইদ্দতের মাধ্যমে সঠিকভাবে জানতে সক্ষম হবে যে, তার গর্ভ বাচ্চা থেকে মুক্ত।

ডাঃ মুহাম্মদ গোল্লাম মুয়াযযাম স্বীয় কিতাবে লিখেছেনঃ তিন ঋতুর উদ্দেশ্য গর্ভ সম্বন্ধে সকল সন্দেহ দূর করা। কারণ গর্ভাবস্থায় প্রথম দিকে একবার কিংবা দু‘বার স্রাব হতে পারে, কিন্তু তৃতীয় স্রাবের পর আর কোন সংশয় সন্দেহ থাকে না। ইহা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য বিদ্যা অনুযায়ী যুক্তি সংগত। [কুরআনে বিজ্ঞান, পৃষ্ঠা ৮৫।]

আধুনিক বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক আবিস্কারগুলির কথা কি করে এত নিখুঁতভাবে অনেক আগেই বলে দিল আল কুরআন? এর দ্বারা এ কথাই প্রমাণ করে যে, এ গ্রন্থটি সমগ্র বিশ্ব নিয়ন্ত্রণকারী, সর্বময় ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী মহান রবের পক্ষ থেকে এই নির্দেশ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে অবতীর্ণ।