hadith book logo

তাক্বওয়া অর্জনের উপায়

লেখকঃ মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন কামরুল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৪

তাক্বওয়া অর্জন না করার পরিণাম

তাক্বওয়া অর্জন করলে যেমনিভাবে অসংখ্য কল্যাণ ও পুরস্কার লাভ করা যায়, অনুরূপভাবে তাক্বওয়া অর্জন না করলে এর বিপরীত পরিণতি চেপে বসে। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. মুত্তাক্বীদের পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হতে হয় :

তাক্বওয়া অর্জন না করলে কুরআন ও সহীহ হাদীসসমূহে তাদের জন্য যেসব পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে, তা হতে বঞ্চিত হতে হয়। কেননা তারা সেসব পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত নয়।

২. জাহান্নাম আবশ্যক হয়ে যায় :

তাক্বওয়া অর্জন না করার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে পরকালীন জীবনে জাহান্নামের উপযুক্ত হওয়া। কেননা জান্নাতে যাওয়ার জন্য যেসব আমল করা আবশ্যক, সেগুলো কেবল মুত্তাক্বী বান্দাদের দ্বারাই সম্ভব। তাছাড়া তাক্বওয়াবিহীন আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যও নয়।

৩. সমাজব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটে :

একটি সুস্থ সমাজব্যবস্থার জন্য উক্ত সমাজের লোকদের তাক্বওয়া অর্জন করা খুবই জরুরি। কেননা এর অনুপস্থিতিতে সামাজিক অবক্ষয়মূলক কর্মকান্ড দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে।

৪. রাষ্ট্রব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে :

রাষ্ট্র হচ্ছে কতগুলো সমাজের সামষ্টিক শক্তি। এটিকে শক্তিশালী করতে পারলে প্রতিটি সমাজেরই অশেষ কল্যাণ লাভ হয়। আর এর সার্বিক কল্যাণ লাভ হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বরত লোকদের সততা ও একনিষ্ঠতার মাধ্যমে। কিন্তু তাক্বওয়াবান ব্যক্তি ব্যতীত এ গুণগুলো পরিপূর্ণভাবে অর্জন করা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় এর বিপরীত ফলাফল সংঘটিত হয়। যেমন- রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট, অনৈতিক রীতিনীতি নির্ধারণ, বিশৃঙ্খল বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি।

৫. অর্থনৈতিক বিপর্যয় সংঘটিত হয় :

তাক্বওয়ার অনুপস্থিতিতে সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেননা একজন তাক্বওয়াবান ব্যক্তি এবং একজন তাক্বওয়াহীন ব্যক্তির লেনদেন এক নয়। তাক্বওয়াহীন ব্যক্তির পক্ষে বৈধ-অবৈধ যে কোন প্রকার লেনদেন করা সম্ভব; কিন্তু একজন তাক্বওয়াবান ব্যক্তির পক্ষে তা সম্ভব নয়। বরং তাক্বওয়াবান ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল ঐ সব রীতিনীতিই অবলম্বন করবে, যা ইসলাম তাকে নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত অর্থনীতিই সবচেয়ে কল্যাণময়।