১
তাক্বওয়া অর্জনের উপায়
লেখকঃ মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন কামরুল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩
তাক্বওয়ার সংজ্ঞা
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) হচ্ছে সকল ইবাদাতের মূল। এর মাধ্যমেই ঈমানী জীবনের প্রকৃত রূপ বা সৌন্দর্য পরিষ্ফুটিত হয়। প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি এর মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং পরকালে এর উপর ভিত্তি করেই পুরস্কার লাভ করবে।
اَلتَّقْوٰى (আত-তাকবওয়া) এর আভিধানিক অর্থ :
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে আল্লাহভীতি। এটি وَقَايَةٌ শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার মূলধাতু হচ্ছে ي - ق - و এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বেঁচে থাকা, হেফাযত করা, রক্ষা করা ইত্যাদি। কুরআন মাজীদে এটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে প্রত্যেক অর্থই মূল অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন- বলা হয়েছে,
﴿وَأَنْ تَعْفُوْاۤ أَقْرَبُ لِلتَّقْوٰى﴾
আর ক্ষমা করে দেয়াই আল্লাহভীতির অধিক নিকটতম। (সূরা বাক্বারা- ২৩৭)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি আল্লাহভীতি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿وَمَنْ يُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ﴾
আর যারা নিজেদেরকে কৃপণতা হতে মুক্ত করেছে, তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ৯)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি সংরক্ষিত রাখা বা হেফাযত করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِيْۤ اِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ﴾
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হবে। (সূরা মায়েদা- ৯৬)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি ভয় করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْاۤ اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ঐ অগ্নি হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম- ৬)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি বাঁচানো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অতএব কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দের আভিধানিক অর্থগুলো হলো- বেঁচে থাকা, সাবধান হওয়া, বিরত থাকা, আল্লাহভীতি অর্জন করা, মুক্তি লাভ করা, নিষ্কৃতি লাভ করা, সতর্ক থাকা ইত্যাদি।
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এর পারিভাষিক অর্থ :
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে,
هِىَ صِفَةٌ فِى النَّفْسِ تَحْمِلُ الْاِنْسَانَ عَلٰى فِعْلِ مَا اَمَرَ اللهُ وَالْاِمْتِنَاعِ عَمَّا نَهٰى عَنْهُ
তাক্বওয়া হচ্ছে আত্মার এমন একটি গুণ, যা মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে এবং তার নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইন্টারনেটভিত্তিক বিখ্যাত বিশ্বকোষ Wikipedia-তে বলা হয়েছে, ‘‘তাক্বওয়া হচ্ছে একটি ইসলামী ধারণা বা বিশ্বাস, যা আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা (Allah-consciousness) বুঝায়।’’
কুরআনে ব্যাপকভাবে তাক্বওয়া বলতে being conscious of Allah তথা আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা-ই বলা হয়েছে এবং আরো বলা হয়েছে যে, তাক্বওয়া হলো আত্মা বিনাশকারী সব কাজ থেকে বিরত থাকা এবং একই সাথে সচেতনভাবে নিজেকে (আধ্যাত্মিকভাবে) শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা করা।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন,
اَلتَّقْوٰى فِعْلُ مَا أَمَرَ اللهُ بِهٖ وَتَرْكُ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ
তাক্বওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা বাস্তবায়ন করা এবং তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা পরিত্যাগ করা। [মাজমুউল ফাতাওয়া- ৩/১২০ (মাকতাবাতুশ শামেলা)।]
হাফেয ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন,
وَالتَّقْوٰى : اِسْمٌ جَامِعٌ لِفِعْلِ الطَّاعَاتِ وَتَرْكِ الْمُنْكَرَاتِ .
তাক্বওয়া এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিশেষ্য, যা (আল্লাহর) আনুগত্যশীল কর্ম সম্পাদন ও অপছন্দনীয় বিষয় পরিহার করাকে বুঝায়। [তাফসীরে ইবনে কাসীর- ১/৪৯২ (সূরা বাক্বারা-১৭৯ নং আয়াতের তাফসীর)।]
عَرَّفَ عَلِيُّ بْنِ أَبِيْ طَالِبٍ اَلتَّقْوٰى فَقَالَ : هِيَ الْخَوْفُ مِنَ الْجَلِيْلِ وَالْعَمَلِ بِالتَّنْزِيلِ وَالْقَنَاعَةُ بِالْقَلِيْلِ وَالْإِسْتِعْدَادُ لِيَومِ الرَّحِيْلِ .
আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) তাক্বওয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, সেটা হচ্ছে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা, কুরআনের উপর আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। (আয়াতুত তাক্বওয়া ফিল কুরআনিল কারীম)
অতএব اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এমন একটি গুণকে বুঝায়, যার তাগিদে মানুষ আল্লাহর ক্রোধ, অসন্তোষ এবং তাঁর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর নির্দেশিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে পালন করে এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ হতে বিরত থাকে।
اَلتَّقْوٰى (আত-তাকবওয়া) এর আভিধানিক অর্থ :
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দের সাধারণ অর্থ হচ্ছে আল্লাহভীতি। এটি وَقَايَةٌ শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার মূলধাতু হচ্ছে ي - ق - و এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে বেঁচে থাকা, হেফাযত করা, রক্ষা করা ইত্যাদি। কুরআন মাজীদে এটি বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে প্রত্যেক অর্থই মূল অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। যেমন- বলা হয়েছে,
﴿وَأَنْ تَعْفُوْاۤ أَقْرَبُ لِلتَّقْوٰى﴾
আর ক্ষমা করে দেয়াই আল্লাহভীতির অধিক নিকটতম। (সূরা বাক্বারা- ২৩৭)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি আল্লাহভীতি অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿وَمَنْ يُّوْقَ شُحَّ نَفْسِهٖ فَاُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ﴾
আর যারা নিজেদেরকে কৃপণতা হতে মুক্ত করেছে, তারাই সফলকাম। (সূরা হাশর- ৯)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি সংরক্ষিত রাখা বা হেফাযত করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِيْۤ اِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ﴾
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নিকট তোমাদেরকে একত্র করা হবে। (সূরা মায়েদা- ৯৬)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি ভয় করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অপর আয়াতে এসেছে,
﴿يَاۤ اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْاۤ اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ﴾
হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ঐ অগ্নি হতে রক্ষা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। (সূরা তাহরীম- ৬)
অত্র আয়াতে اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দটি বাঁচানো অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অতএব কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) শব্দের আভিধানিক অর্থগুলো হলো- বেঁচে থাকা, সাবধান হওয়া, বিরত থাকা, আল্লাহভীতি অর্জন করা, মুক্তি লাভ করা, নিষ্কৃতি লাভ করা, সতর্ক থাকা ইত্যাদি।
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এর পারিভাষিক অর্থ :
اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে,
هِىَ صِفَةٌ فِى النَّفْسِ تَحْمِلُ الْاِنْسَانَ عَلٰى فِعْلِ مَا اَمَرَ اللهُ وَالْاِمْتِنَاعِ عَمَّا نَهٰى عَنْهُ
তাক্বওয়া হচ্ছে আত্মার এমন একটি গুণ, যা মানুষকে আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে এবং তার নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইন্টারনেটভিত্তিক বিখ্যাত বিশ্বকোষ Wikipedia-তে বলা হয়েছে, ‘‘তাক্বওয়া হচ্ছে একটি ইসলামী ধারণা বা বিশ্বাস, যা আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা (Allah-consciousness) বুঝায়।’’
কুরআনে ব্যাপকভাবে তাক্বওয়া বলতে being conscious of Allah তথা আল্লাহ সম্পর্কে সচেতনতা-ই বলা হয়েছে এবং আরো বলা হয়েছে যে, তাক্বওয়া হলো আত্মা বিনাশকারী সব কাজ থেকে বিরত থাকা এবং একই সাথে সচেতনভাবে নিজেকে (আধ্যাত্মিকভাবে) শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা করা।
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন,
اَلتَّقْوٰى فِعْلُ مَا أَمَرَ اللهُ بِهٖ وَتَرْكُ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ
তাক্বওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা বাস্তবায়ন করা এবং তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা পরিত্যাগ করা। [মাজমুউল ফাতাওয়া- ৩/১২০ (মাকতাবাতুশ শামেলা)।]
হাফেয ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন,
وَالتَّقْوٰى : اِسْمٌ جَامِعٌ لِفِعْلِ الطَّاعَاتِ وَتَرْكِ الْمُنْكَرَاتِ .
তাক্বওয়া এমন একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিশেষ্য, যা (আল্লাহর) আনুগত্যশীল কর্ম সম্পাদন ও অপছন্দনীয় বিষয় পরিহার করাকে বুঝায়। [তাফসীরে ইবনে কাসীর- ১/৪৯২ (সূরা বাক্বারা-১৭৯ নং আয়াতের তাফসীর)।]
عَرَّفَ عَلِيُّ بْنِ أَبِيْ طَالِبٍ اَلتَّقْوٰى فَقَالَ : هِيَ الْخَوْفُ مِنَ الْجَلِيْلِ وَالْعَمَلِ بِالتَّنْزِيلِ وَالْقَنَاعَةُ بِالْقَلِيْلِ وَالْإِسْتِعْدَادُ لِيَومِ الرَّحِيْلِ .
আলী ইবনে আবু তালিব (রাঃ) তাক্বওয়ার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, সেটা হচ্ছে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা, কুরআনের উপর আমল করা, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। (আয়াতুত তাক্বওয়া ফিল কুরআনিল কারীম)
অতএব اَلتَّقْوٰى (আত-তাক্বওয়া) এমন একটি গুণকে বুঝায়, যার তাগিদে মানুষ আল্লাহর ক্রোধ, অসন্তোষ এবং তাঁর শাস্তি থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য তাঁর নির্দেশিত বিষয়সমূহ যথাযথভাবে পালন করে এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ হতে বিরত থাকে।