১
তাক্বওয়া অর্জনের উপায়
লেখকঃ মোহাম্মদ ইমাম হোসাইন কামরুল • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৬
তাক্বওয়ার স্থান
তাক্বওয়া অন্তরের বিষয়, এটি কোন দৃশ্যমান বস্তু নয়। একদা এক বক্তব্য প্রদানকালে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন,
اَلتَّقْوٰى هٰاهُنَا وَأَشَارَ بِيَدِه إِلٰى صَدْرِه ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি এখানে থাকে। এ কথা বলে তিনি নিজ হাত দ্বারা তিনবার নিজের বক্ষের দিকে ইশারা করলেন। [সহীহ মুসলিম, মিশকাত, হা/৪৭৪২।]
অত্র হাদীসে বক্ষের দিকে বলতে অন্তরের দিকে বুঝানো হয়েছে। তাছাড়া এর সমর্থনে অন্যান্য অনেক হাদীসও রয়েছে। যেমন- হাদীসে এসেছে,
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللّٰهِ - - يَقُولُ ...... أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهٗ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهٗ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
নু‘মান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, মনে রেখো! নিশ্চয় মানুষের দেহে একটি গোশত পিন্ড রয়েছে, যা ঠিক থাকলে সমগ্র দেহই ঠিক থাকে। আর তার বিকৃতি ঘটলে সমস্ত দেহেরই বিকৃতি ঘটে। আর সেটি হলো অন্তর। [সহীহ বুখারী, হা/৪১৭৮; সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯; মিশকাত, হা/২৬৪২।]
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلٌ قَالَ كُلُّ مَخْمُوْمِ الْقَلْبِ صَدُوْقُ اللِّسَانِ . قَالُوا صَدُوْقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهٗ . فَمَا مَخْمُوْمُ الْقَلْبِ ؟ قَالَ هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيْثُ . لَا إِثْمَ فِيْهِ وَلَا بَغْيَ وَلَا غِلَّ وَلَا حَسَدَ
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলা হলো, সবচেয়ে উত্তম মানুষ কে? তিনি বললেন, প্রত্যেক মাখমূমুল ক্বালব এবং ছদূকুল লিসান। সাহাবীগণ বললেন, আমরা জিহবার সত্যবাদিতা বুঝি, কিন্তু মাখমূমুল ক্বালব কী? নবী করীম ﷺ বললেন, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি যে পরহেযগার এবং নিষ্কলুষ। যার মধ্যে (১) পাপ নেই, (২) সীমালংঘন নেই (৩) খিয়ানত নেই (৪) হিংসা নেই। [সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২১৬; মিশকাত, হা/৫২২১।]
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ - - إِنَّ اللهَ لَا يَنْظُرُ إِلٰى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلٰكِنْ يَنْظُرُ إِلٰى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি ও সম্পদ দেখেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি লক্ষ্য করেন। [সহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৯৪; মিশকাত, হা/৫৩১৪।]
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, তাক্বওয়ার স্থান হচ্ছে অন্তর, যা দৃশ্যমান নয়। তবে মানুষের আচার-আচরণ ও কাজকর্মে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মাধ্যমেই একজন ব্যক্তিকে মুমিন, কাফির অথবা মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কেননা মানুষের আমলসমূহ কবুল করার জন্য আল্লাহর কাছে তাক্বওয়া যেমন জরুরি, তদ্রূপ সে অনুযায়ী আমল করাটাও অতি জরুরি। কেননা আমল ছাড়া তথা আল্লাহর আদেশসমূহ পালন না করে এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার না করে আল্লাহকে ভয় করার মৌখিক দাবিটা একটি মিথ্যা দাবি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন লোককে প্রকৃত মুমিন অথবা প্রকৃত মুত্তাক্বী কোনটিই বলা যায় না। কোন কোন সময় সে মুসলিমও থাকে না।
اَلتَّقْوٰى هٰاهُنَا وَأَشَارَ بِيَدِه إِلٰى صَدْرِه ثَلَاثَ مَرَّاتٍ
তাক্বওয়া বা আল্লাহভীতি এখানে থাকে। এ কথা বলে তিনি নিজ হাত দ্বারা তিনবার নিজের বক্ষের দিকে ইশারা করলেন। [সহীহ মুসলিম, মিশকাত, হা/৪৭৪২।]
অত্র হাদীসে বক্ষের দিকে বলতে অন্তরের দিকে বুঝানো হয়েছে। তাছাড়া এর সমর্থনে অন্যান্য অনেক হাদীসও রয়েছে। যেমন- হাদীসে এসেছে,
عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللّٰهِ - - يَقُولُ ...... أَلَا وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهٗ وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهٗ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
নু‘মান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি যে, মনে রেখো! নিশ্চয় মানুষের দেহে একটি গোশত পিন্ড রয়েছে, যা ঠিক থাকলে সমগ্র দেহই ঠিক থাকে। আর তার বিকৃতি ঘটলে সমস্ত দেহেরই বিকৃতি ঘটে। আর সেটি হলো অন্তর। [সহীহ বুখারী, হা/৪১৭৮; সহীহ মুসলিম, হা/১৫৯৯; মিশকাত, হা/২৬৪২।]
অপর হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلٌ قَالَ كُلُّ مَخْمُوْمِ الْقَلْبِ صَدُوْقُ اللِّسَانِ . قَالُوا صَدُوْقُ اللِّسَانِ نَعْرِفُهٗ . فَمَا مَخْمُوْمُ الْقَلْبِ ؟ قَالَ هُوَ التَّقِيُّ النَّقِيْثُ . لَا إِثْمَ فِيْهِ وَلَا بَغْيَ وَلَا غِلَّ وَلَا حَسَدَ
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলা হলো, সবচেয়ে উত্তম মানুষ কে? তিনি বললেন, প্রত্যেক মাখমূমুল ক্বালব এবং ছদূকুল লিসান। সাহাবীগণ বললেন, আমরা জিহবার সত্যবাদিতা বুঝি, কিন্তু মাখমূমুল ক্বালব কী? নবী করীম ﷺ বললেন, সে হচ্ছে এমন ব্যক্তি যে পরহেযগার এবং নিষ্কলুষ। যার মধ্যে (১) পাপ নেই, (২) সীমালংঘন নেই (৩) খিয়ানত নেই (৪) হিংসা নেই। [সুনানে ইবনে মাজাহ হা/৪২১৬; মিশকাত, হা/৫২২১।]
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللّٰهِ - - إِنَّ اللهَ لَا يَنْظُرُ إِلٰى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ وَلٰكِنْ يَنْظُرُ إِلٰى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالِكُمْ
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের বাহ্যিক আকৃতি ও সম্পদ দেখেন না; বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের প্রতি লক্ষ্য করেন। [সহীহ মুসলিম, হা/২৫৬৪; সহীহ ইবনে হিববান, হা/৩৯৪; মিশকাত, হা/৫৩১৪।]
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, তাক্বওয়ার স্থান হচ্ছে অন্তর, যা দৃশ্যমান নয়। তবে মানুষের আচার-আচরণ ও কাজকর্মে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এর মাধ্যমেই একজন ব্যক্তিকে মুমিন, কাফির অথবা মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। কেননা মানুষের আমলসমূহ কবুল করার জন্য আল্লাহর কাছে তাক্বওয়া যেমন জরুরি, তদ্রূপ সে অনুযায়ী আমল করাটাও অতি জরুরি। কেননা আমল ছাড়া তথা আল্লাহর আদেশসমূহ পালন না করে এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় পরিহার না করে আল্লাহকে ভয় করার মৌখিক দাবিটা একটি মিথ্যা দাবি ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন লোককে প্রকৃত মুমিন অথবা প্রকৃত মুত্তাক্বী কোনটিই বলা যায় না। কোন কোন সময় সে মুসলিমও থাকে না।