hadith book logo

মুমিন নারীদের বিশেষ বিধান

লেখকঃ ড. সালেহ ইবন ফাওযান আল-ফাওযান • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৬

খ. নিফাস সংক্রান্ত বিধান:

নিম্নের অবস্থায় নিফাসের বিধান হায়েযের বিধানের মত:

১. নিফাসের নারীদের সাথে সঙ্গম করা হারাম। যেমন হায়েযের নারীদের সাথে সঙ্গম করা হারাম, তবে সঙ্গম ব্যতীত অন্যান্য পদ্ধতিতে ভোগ করা বৈধ।

২. হায়েযা নারীর ন্যায় নিফাসের নারীদের জন্যও সিয়াম রাখা, সালাত পড়া ও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করা হারাম।

৩. নিফাসের নারীদের জন্য কুরআন তিলাওয়াত ও স্পর্শ করা হারাম, তবে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা হলে বৈধ। যেমন, হায়েযা নারী।

৪. হায়েযা নারীর মতো নিফাসের নারীর ছুটে যাওয়া সিয়াম কাযা করা ওয়াজিব।

৫ হায়েযা নারীর মতো নিফাসের নারীর নিফাস শেষে গোসল করা ওয়াজিব। দলীল:

১. উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

» كانت النفساء تجلس على عهد رسول الله   صلى الله عليه وسلم أربعين يوما « 

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে নিফাসের নারীরা চল্লিশ দিন বিরতি নিত”। [তিরমিযী, হাদীস নং ১৩৯; আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১২; ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৬৪৮; আহমদ: (৬/৩০০); দারেমী, হাদীস নং ৯৫৫]

‘মুনতাকা’ গ্রন্থে মাজদ ইবন তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন: “হাদীসের অর্থ হচ্ছে তাদেরকে চল্লিশ দিন বিরতি নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হতো। এটিই চূড়ান্ত অর্থ, তাদের সবার নিফাস চল্লিশ দিন পর্যন্ত বিলম্ব হত এ অর্থ কখনো নয়; বরং এ অর্থ করলে বাস্তবতার ক্ষেত্রে হাদীসটি মিথ্যা প্রমাণিত হবে, যেহেতু কোনো যুগে হায়েয বা নিফাসের সময়সীমা সব নারীদের এক হওয়া সম্ভব নয়”। [আল-মুনতাকা: (১/১৮৪)]

২. উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

» كانت المرأة من نساء النبي   تقعد في النفاس أربعين ليلة لا يأمرها النبي   بقضاء صلاة النفاس « 

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতক স্ত্রী নিফাস হলে চল্লিশ দিন বিরতি নিতেন, তিনি তাকে নিফাসের সালাত কাযা করার নির্দেশ দিতেন না”। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৩১২]