hadith book logo

অন্তর বিধ্বংসী বিষয় আসক্তি

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১২

দ্বিতীয় মূলনীতি: চক্ষুর খেয়ানত হতে বেচে থাকা:

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴾ [ سورة غافر : 19[.

“চক্ষুসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন”। [সূরা গাফের, আয়াত: ১৯]

ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা خائنة الأعين এর অর্থ সম্পর্কে বলেন,

“কোন ব্যক্তি অপর পরিবারের কোন ঘরে প্রবেশ করে, ঐ পরিবারের বয়স্ক মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে, এটিকে বলা হয় চোখের খেয়ানত। অথবা রাস্তায় হাটার সময় একজন সুন্দর নারী দেখতে পেয়ে, তার দিক সে বার বার তাকায়। যখন তারা অন্যমনষ্ক হয়, তখন তার দিকে তাকায় আবার যখন তারা সতর্ক হয়, তখন সে তার থেকে চোখকে সরিয়ে নেয়। আবার যখন তারা অন্য মনষ্ক হয় তখন তার দিকে তাকায় আবার যখন তারা বুঝতে পারে তখন চোখকে সরিয়ে নেয়। একে বলা হয় চোখের খেয়ানত।

সুফিয়ান রহ. বলেন, একজন লোক যখন কোন মজলিশে বসে আর রাস্তা দিয়ে কোন নারী অতিক্রম করতে দেখলে সে গোপনে তার দিক তাকায়। যখন লোকেরা দেখে যে লোকটি মহিলাটির দিকে তাকাচ্ছে, তখন সে চোখ সরিয়ে ফেলে তার দিকে তাকায় না। আর যখন তারা গাফেল হয়, তখন সে আবার তাকায়। একে বলা হয়, চোখের খেয়ানত। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴾ [ سورة غافر : 19[.

“চক্ষুসমূহের খেয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে তিনি তা জানেন”। [সূরা গাফের, আয়াত: ১৯]

অর্থাৎ লোকটি তার অন্তরে যে খারাপ চাহিদাকে গোপন করে তা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অবশ্যই জানেন।

একজন বান্দাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সে অবশ্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার আমল সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত এবং তাকে তার আমল বিষয়ে একদিন অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿وَلَا تَقۡفُ مَا لَيۡسَ لَكَ بِهِۦ عِلۡمٌۚ إِنَّ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡبَصَرَ وَٱلۡفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَٰٓئِكَ كَانَ عَنۡهُ مَسۡ‍ُٔولٗا ٣٦ ﴾ [ سورة الإسراء : 36[.

আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩৬]

তাকে অবশ্যই তার এ ধরনের দৃষ্টি; যা ইবলিসের তীরসমূহের একটি তীর, সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। আর তা হল, যৌন উত্তেজনার প্রথম ধাপ। এ কারণেই বলা যায়, নিষিদ্ধ কাজের প্রথম ধাপের সাথে তার শেষ ধাপের সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন,

﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ ﴾ [ سورة النور : 30[.

“মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত”। [সূরা নূর, আয়াত: ৩০]

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুমিনদের নির্দেশ দেন যে, তারা যেন তাদের চক্ষুকে তাদের জন্য যা নিষেধ করা হয়েছে, তা থেকে হেফাজত করে এবং তারা যেন তাদের জন্য যা হালাল করা হয়েছে তা ছাড়া অন্য কোন বস্তুর দিকে না তাকায়। যদি হঠাৎ করে তার ইচ্ছার বাইরে কোন নিষিদ্ধ বস্তুর উপর দৃষ্টি পড়ে যায়, তখন সে তাড়াতাড়ি তা থেকে তার দৃষ্টিকে ফিরিয়ে নিবে।