১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় আসক্তি
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩২
এক. ইউসুফ আ. এর ঘটনা:
পৃথিবীর ইতিহাসে নারী ও পুরুষের মাঝে সবচেয়ে বড় ফিতনা সংঘটিত হয় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সম্মানিত নবী ইউসুফ আ. কে কেন্দ্র করে। ইউসুফ আ. কে বাদশাহ তার রাজ প্রাসাদে আশ্রয় দেয়। সেখানে ইউসুফ আ. অগ্নি পরিক্ষার সম্মূখীন হন। বাদশাহর স্ত্রী ইউসুফ আ. এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার প্রেমে পড়ে যায়। তার সাথে অপকর্ম করতে ইউসুফ আ. কে বাধ্য করে এবং তার জন্য যাবতীয় উপকরণগুলো একত্র করে। যেমন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার মহান কিতাব কুরআনে কারীমে তা উল্লেখ করে বলেন,
﴿وَرَٰوَدَتۡهُ ٱلَّتِي هُوَ فِي بَيۡتِهَا عَن نَّفۡسِهِۦ وَغَلَّقَتِ ٱلۡأَبۡوَٰبَ وَقَالَتۡ هَيۡتَ لَكَۚ قَالَ مَعَاذَ ٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ رَبِّيٓ أَحۡسَنَ مَثۡوَايَۖ إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٣ ﴾ [ سورة يوسف : 23[.
আর যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে বলল, আল্লাহর আশ্রয় (চাই)। নিশ্চয় তিনি আমার মনিব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় যালিমগণ সফল হয় না। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২৩]
বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। বরং এ কথা বলার পরও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তার সাথে কামভাব পূরণ করার লক্ষে মহিলাটি তাকে তার দিকে আহ্বান করে। ইউসুফ আ. নিরুপায় হয়ে তার থেকে পালিয়ে দৌড়ে দরজার সামনে চলে আসে। তখন মহিলাটি পিছন থেকে তার জামা টেনে ধরে পিছন দিক থেকে তার জামাটি ছিঁড়ে ফেলে। মহিলার স্বামী আজিজে মিসর তাদের দেখে ফেললে মহিলাটি ইউসূফ আ. এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়। মহিলাটি তার সাথে অপকর্ম করতে জোর জবরদস্তি করতে থাকে। কিন্তু ইউসূফ আ. এতে রাজি না হলে তাকে বিনিময়ে জেলখানায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইউসূফ আ. তার সাথে অশ্লীল কাজ করতে অস্বীকার করেন এবং জেলখানায় যেতে সম্মত হন। সে হারাম কাজ করার চেয়ে জেলখানায় জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে সম্মত হন।
এ ঘটনা বিষয়ে চিন্তা করলে অবশ্যই স্পষ্ট হবে যে, আল্লাহর নবী ইউসুফ আ. এর জন্য অপকর্মের যাবতীয় সব ধরনের উপকরণ সহজ হাজির ছিল। ইচ্ছা করলে সে তা করতে পারত। কারণ, তিনি ছিলেন একজন অবিবাহিত যুবক, স্বীয় আসক্তিকে ব্যয় করার মত কোন ক্ষেত্র ছিল না। আর সে ছিল একজন গোলাম তার আত্ম-মর্যাদা বা সম্মানহানির তেমন কোন ভয় ছিল না, যেমনটি একজন স্বাধীন বা মুনিবের ভয় থাকে।
আর অপরদিকে যে নারী তাকে অপকর্মের প্রতি আহ্বান করছে, সে ছিল একজন সুন্দরী রমণী ও ক্ষমতাধর নারী। সে ইউসুফ আ. এর মনিব আর ইউসুফ আ. হল তার হুকুমের গোলাম বা চাকর। তিনি যা আদেশ দেবেন বা নিষেধ করবেন তা পালন করতে সে বাধ্য। খাদেম হওয়ার কারণে তার ঘরে প্রবেশ করা ইউসুফ আ. এর জন্য কোন বাধা ছিল না। যখন ইচ্ছা সে ঘরে প্রবেশ করতে পারত। তার স্বামী বাড়ি থাকত না। মহিলার স্বামীর আত্ম-মর্যাদাবোধ ছিল খুবই কম। যখন সে ঘটনা জানতে পারল সে আশানুরূপ কোন ব্যবস্থা ইউসুফ আ. ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেয়নি। বরং সে ইউসুফ আ. কে বলল, হে ইউসুফ তুমি বিরত থাক, আর তার স্ত্রীকে বলল, তুমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তাকে যেভাবে ব্যভিচারের দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তাতে তাদের মাঝে কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল না। এমনকি ক্ষমতাধর নারীটি তার সাথে অপকর্ম না করলে তাকে জেল খানায় পাঠানোর হুমকি দেয়। এত কিছুর পরও তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মজবুত রশিকে আঁকড়ে ধরেন এবং স্বীয় প্রভু ও মাওলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
চিন্তা করে দেখ, তিনি তার নফসকে কিভাবে দমিয়ে রাখলেন? মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর বিনিময় তাকে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে তার খালেস বান্দা হিসেবে নির্বাচন করেন এবং মুহসীন ও মুখলিসদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
﴿وَرَٰوَدَتۡهُ ٱلَّتِي هُوَ فِي بَيۡتِهَا عَن نَّفۡسِهِۦ وَغَلَّقَتِ ٱلۡأَبۡوَٰبَ وَقَالَتۡ هَيۡتَ لَكَۚ قَالَ مَعَاذَ ٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ رَبِّيٓ أَحۡسَنَ مَثۡوَايَۖ إِنَّهُۥ لَا يُفۡلِحُ ٱلظَّٰلِمُونَ ٢٣ ﴾ [ سورة يوسف : 23[.
আর যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে বলল, আল্লাহর আশ্রয় (চাই)। নিশ্চয় তিনি আমার মনিব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় যালিমগণ সফল হয় না। [সূরা ইউসুফ, আয়াত: ২৩]
বিষয়টি এখানেই শেষ হয়নি। বরং এ কথা বলার পরও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলতে থাকে। তার সাথে কামভাব পূরণ করার লক্ষে মহিলাটি তাকে তার দিকে আহ্বান করে। ইউসুফ আ. নিরুপায় হয়ে তার থেকে পালিয়ে দৌড়ে দরজার সামনে চলে আসে। তখন মহিলাটি পিছন থেকে তার জামা টেনে ধরে পিছন দিক থেকে তার জামাটি ছিঁড়ে ফেলে। মহিলার স্বামী আজিজে মিসর তাদের দেখে ফেললে মহিলাটি ইউসূফ আ. এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়। মহিলাটি তার সাথে অপকর্ম করতে জোর জবরদস্তি করতে থাকে। কিন্তু ইউসূফ আ. এতে রাজি না হলে তাকে বিনিময়ে জেলখানায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু ইউসূফ আ. তার সাথে অশ্লীল কাজ করতে অস্বীকার করেন এবং জেলখানায় যেতে সম্মত হন। সে হারাম কাজ করার চেয়ে জেলখানায় জুলুম, নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের কষ্ট সহ্য করতে সম্মত হন।
এ ঘটনা বিষয়ে চিন্তা করলে অবশ্যই স্পষ্ট হবে যে, আল্লাহর নবী ইউসুফ আ. এর জন্য অপকর্মের যাবতীয় সব ধরনের উপকরণ সহজ হাজির ছিল। ইচ্ছা করলে সে তা করতে পারত। কারণ, তিনি ছিলেন একজন অবিবাহিত যুবক, স্বীয় আসক্তিকে ব্যয় করার মত কোন ক্ষেত্র ছিল না। আর সে ছিল একজন গোলাম তার আত্ম-মর্যাদা বা সম্মানহানির তেমন কোন ভয় ছিল না, যেমনটি একজন স্বাধীন বা মুনিবের ভয় থাকে।
আর অপরদিকে যে নারী তাকে অপকর্মের প্রতি আহ্বান করছে, সে ছিল একজন সুন্দরী রমণী ও ক্ষমতাধর নারী। সে ইউসুফ আ. এর মনিব আর ইউসুফ আ. হল তার হুকুমের গোলাম বা চাকর। তিনি যা আদেশ দেবেন বা নিষেধ করবেন তা পালন করতে সে বাধ্য। খাদেম হওয়ার কারণে তার ঘরে প্রবেশ করা ইউসুফ আ. এর জন্য কোন বাধা ছিল না। যখন ইচ্ছা সে ঘরে প্রবেশ করতে পারত। তার স্বামী বাড়ি থাকত না। মহিলার স্বামীর আত্ম-মর্যাদাবোধ ছিল খুবই কম। যখন সে ঘটনা জানতে পারল সে আশানুরূপ কোন ব্যবস্থা ইউসুফ আ. ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নেয়নি। বরং সে ইউসুফ আ. কে বলল, হে ইউসুফ তুমি বিরত থাক, আর তার স্ত্রীকে বলল, তুমি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তাকে যেভাবে ব্যভিচারের দাওয়াত দেয়া হয়েছে, তাতে তাদের মাঝে কোন প্রতিবন্ধকতা ছিল না। এমনকি ক্ষমতাধর নারীটি তার সাথে অপকর্ম না করলে তাকে জেল খানায় পাঠানোর হুমকি দেয়। এত কিছুর পরও তিনি ধৈর্য ধারণ করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের মজবুত রশিকে আঁকড়ে ধরেন এবং স্বীয় প্রভু ও মাওলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করেন।
চিন্তা করে দেখ, তিনি তার নফসকে কিভাবে দমিয়ে রাখলেন? মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর বিনিময় তাকে উচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের অধিকারী করেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে তার খালেস বান্দা হিসেবে নির্বাচন করেন এবং মুহসীন ও মুখলিসদের অন্তর্ভুক্ত করেন।