১
অন্তর বিধ্বংসী বিষয় আসক্তি
লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৯
এক. বিবাহ:
আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেন,
« يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ؛ فَإنِّهُ أَغَضُّ للِبَصَرِ، وَأحْصَنُ لِلْفَرْجِ »
“হে যুবক সম্প্রদায় তোমাদের মধ্যে যাদের ক্ষমতা আছে তারা যেন বিবাহ করে। কারণ, তোমাদের চোখের জন্য অধিক হেফাজতকারী এবং তোমাদের লজ্জাস্থানের সংরক্ষক” [মুসলিম ১৪০০]।
উল্লেখিত হাদিসে الباءة শব্দের অর্থ স্ত্রী মিলনে সক্ষম ও বিবাহের খরচ। যখন কোন ব্যক্তি বিবাহের ক্ষমতা রাখে এবং তার নফস বিবাহের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিবাহ করতে হবে।
বিবাহ হল, হালাল উপায়ে মানুষ তার মানবিক ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর একটি পথ; যা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের জন্য বৈধ বিধান হিসেবে চালু করেছেন। বিবাহ হল নবী ও রাসুলগণের সুন্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা তাদের নিজেদের উপর বিবাহকে হারাম করেছিল তাদের বিষয়ে বলেন,
« لَكِنِّي أُصَلِّي وَأَنَامُ وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي »
“কিন্তু আমি সালাত আদায় করি, ঘুমাই, রোজা রাখি ইফতার করি এবং নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং এ গুলো সবই হল আমার আদর্শ। আর যে ব্যক্তি আমার আদর্শ থেকে দূরে সরে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়” [মুসলিম ১৪০১]।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي، فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي، وَتَزَوَّجُوا فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ، وَمَنْ كَانَ ذَا طَوْلٍ فَلْيَنْكِحْ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصِّيَامِ؛ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ»
“বিবাহ আমার সুন্নাত। যে আমার সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ কর, কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্য নিয়ে আল্লাহর দরবারে গর্ব করব। যার সামর্থ্য আছে সে অবশ্যই বিবাহ করবে আর যার সামর্থ্য নাই তার উপর কর্তব্য হল রোজা রাখা। কারণ, রোজা তার জন্য প্রতিষেধক” [ইবনে মাজা ১৮৪৬। আল্লামা আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]।
বিবাহের মাধ্যমে মানুষের দ্বীন ও ঈমানের সংরক্ষণ হয়। আর যিনা ব্যভিচার দ্বারা মানুষ যে নুরের দ্বারা আলোকিত, তা ছিনিয়ে নেয়া হয়।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কতক গোলাম ছিল, তিনি তাদের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য নির্বাচন করেছিলেন। তিনি তাদের বলতেন, “যদি তোমরা বিবাহ করতে চাও তবে আমি তোমাদের বিবাহ দিয়ে দেব। কারণ, বান্দা যখন ব্যভিচার করে তার অন্তর থেকে ঈমানকে ছিনিয়ে নেয়া হয়”। [ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২/২৩]
তিনি তাদের আরও বলেন, “তোমরা বিবাহ কর! কারণ, বান্দা যখন কোন ব্যভিচার করে তখন তার ঈমানের নুর ছিনিয়ে নেয়া হয়”। [তারিখু দিমাশক ৫০/১২৩; যাম্মুল হাওয়া ১৯৩।]
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, “বিবাহ ছাড়া কোন ইবাদাতকারীর ইবাদত প্রকৃতভাবে কবুল হয় না।” [ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২/২৩] অর্থাৎ কোন ইবাদত-কারী বান্দার ইবাদত বা দ্বীন বিবাহ করা ছাড়া পরিপূর্ণ হয় না। অবিবাহিত ব্যক্তির দ্বীন ও ইবাদত সর্বদা অপূর্ণ থেকে যায়। কারণ, তার জন্য এ সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিবাহ না করাতে কোন হারাম বা যিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে”।
যে ব্যক্তি তার নিজের ব্যাপারে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে, তার জন্য বিবাহ করা হজের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয। অথচ হজ হল ইসলামের রোকনসমূহের একটি রোকন। তা স্বত্বেও যে ব্যক্তি হজ ও বিবাহ দুটিকে এক সাথে আদায় করতে সক্ষম নয় তাকে অবশ্যই হজের উপর বিবাহকে প্রাধান্য দিতে হবে।
« يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ؛ فَإنِّهُ أَغَضُّ للِبَصَرِ، وَأحْصَنُ لِلْفَرْجِ »
“হে যুবক সম্প্রদায় তোমাদের মধ্যে যাদের ক্ষমতা আছে তারা যেন বিবাহ করে। কারণ, তোমাদের চোখের জন্য অধিক হেফাজতকারী এবং তোমাদের লজ্জাস্থানের সংরক্ষক” [মুসলিম ১৪০০]।
উল্লেখিত হাদিসে الباءة শব্দের অর্থ স্ত্রী মিলনে সক্ষম ও বিবাহের খরচ। যখন কোন ব্যক্তি বিবাহের ক্ষমতা রাখে এবং তার নফস বিবাহের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিবাহ করতে হবে।
বিবাহ হল, হালাল উপায়ে মানুষ তার মানবিক ও জৈবিক চাহিদা মেটানোর একটি পথ; যা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের জন্য বৈধ বিধান হিসেবে চালু করেছেন। বিবাহ হল নবী ও রাসুলগণের সুন্নাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যারা তাদের নিজেদের উপর বিবাহকে হারাম করেছিল তাদের বিষয়ে বলেন,
« لَكِنِّي أُصَلِّي وَأَنَامُ وَأَصُومُ وَأُفْطِرُ وَأَتَزَوَّجُ النِّسَاءَ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي »
“কিন্তু আমি সালাত আদায় করি, ঘুমাই, রোজা রাখি ইফতার করি এবং নারীদের বিবাহ করি। সুতরাং এ গুলো সবই হল আমার আদর্শ। আর যে ব্যক্তি আমার আদর্শ থেকে দূরে সরে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়” [মুসলিম ১৪০১]।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«النِّكَاحُ مِنْ سُنَّتِي، فَمَنْ لَمْ يَعْمَلْ بِسُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي، وَتَزَوَّجُوا فَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ، وَمَنْ كَانَ ذَا طَوْلٍ فَلْيَنْكِحْ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَعَلَيْهِ بِالصِّيَامِ؛ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ»
“বিবাহ আমার সুন্নাত। যে আমার সুন্নাত অনুযায়ী আমল করে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ কর, কারণ আমি আমার উম্মতের আধিক্য নিয়ে আল্লাহর দরবারে গর্ব করব। যার সামর্থ্য আছে সে অবশ্যই বিবাহ করবে আর যার সামর্থ্য নাই তার উপর কর্তব্য হল রোজা রাখা। কারণ, রোজা তার জন্য প্রতিষেধক” [ইবনে মাজা ১৮৪৬। আল্লামা আলবানী রহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।]।
বিবাহের মাধ্যমে মানুষের দ্বীন ও ঈমানের সংরক্ষণ হয়। আর যিনা ব্যভিচার দ্বারা মানুষ যে নুরের দ্বারা আলোকিত, তা ছিনিয়ে নেয়া হয়।
আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর কতক গোলাম ছিল, তিনি তাদের জ্ঞান শিক্ষা দেয়ার জন্য নির্বাচন করেছিলেন। তিনি তাদের বলতেন, “যদি তোমরা বিবাহ করতে চাও তবে আমি তোমাদের বিবাহ দিয়ে দেব। কারণ, বান্দা যখন ব্যভিচার করে তার অন্তর থেকে ঈমানকে ছিনিয়ে নেয়া হয়”। [ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২/২৩]
তিনি তাদের আরও বলেন, “তোমরা বিবাহ কর! কারণ, বান্দা যখন কোন ব্যভিচার করে তখন তার ঈমানের নুর ছিনিয়ে নেয়া হয়”। [তারিখু দিমাশক ৫০/১২৩; যাম্মুল হাওয়া ১৯৩।]
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আরও বলেন, “বিবাহ ছাড়া কোন ইবাদাতকারীর ইবাদত প্রকৃতভাবে কবুল হয় না।” [ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ২/২৩] অর্থাৎ কোন ইবাদত-কারী বান্দার ইবাদত বা দ্বীন বিবাহ করা ছাড়া পরিপূর্ণ হয় না। অবিবাহিত ব্যক্তির দ্বীন ও ইবাদত সর্বদা অপূর্ণ থেকে যায়। কারণ, তার জন্য এ সম্ভাবনা রয়েছে, সে বিবাহ না করাতে কোন হারাম বা যিনা ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে”।
যে ব্যক্তি তার নিজের ব্যাপারে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে, তার জন্য বিবাহ করা হজের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ফরয। অথচ হজ হল ইসলামের রোকনসমূহের একটি রোকন। তা স্বত্বেও যে ব্যক্তি হজ ও বিবাহ দুটিকে এক সাথে আদায় করতে সক্ষম নয় তাকে অবশ্যই হজের উপর বিবাহকে প্রাধান্য দিতে হবে।