hadith book logo

অন্তর বিধ্বংসী বিষয় আসক্তি

লেখকঃ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জেদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২১

বিবাহের মধ্যে রয়েছে ছাওয়াব আর ব্যভিচারে রয়েছে গুনাহ:

বিবাহের সবচেয়ে কল্যাণকর ও বিশেষ দিক হল, যৌন চাহিদা মিটানোতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। যেমন, হাদিসে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

«وَفِي بُضْعِ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ قالوا : يا رسول الله، أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ ! ، قال أَرَأَيْتُمْ لَوْ وَضَعَهَا فِي الحَرَامِ أَكَانَ عَلَيْهِ فِيهَا وِزْرٌ؟ فَكَذَلكَِ إذَِا وَضَعَهَا فِي الحَلَالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ»

“তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করাতে তার জন্য রয়েছে, সদকার সাওয়াব। এ কথা শোনে সাহাবীরা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যদি আমাদের স্ত্রীদের সাথে যৌন চাহিদা মেটাই তাতেও কি আমাদের ছাওয়াব রয়েছে? তখন তিনি বললেন, যদি লোকটি কোন হারাম কাজে লিপ্ত হত তাহলে তার গুনাহ হত কিনা? অনুরূপভাবে যখন সে হারাম থেকে বিরত থেকে হালাল কাজে লিপ্ত হও তখন অবশ্যই তোমাদের জন্য ছাওয়াব ও বিনিময় থাকবে” [মুসলিম ১০০৬]।

ইমাম নববী রহ. বলেন, যে সব কাজগুলো মুবাহ বা হালাল ইবাদতের নিয়ত দ্বারা তা ইবাদতে পরিণত হয়। যেমন, স্ত্রী সহবাসের দ্বারা যদি কোন ব্যক্তি স্ত্রীর অধিকার আদায়, তার সাথে সুন্দর ব্যবহার, নেক সন্তান লাভ, নিজের নফসকে ও স্ত্রীকে ব্যভিচার থেকে হেফাজত করা, খারাপ বা হারামের দিকে তাকানো থেকে বিরত রাখা, খারাপ চিন্তা ও ফিকির হতে বিরত রাখা ইত্যাদি ভালো ও নেক উদ্দেশ্য লাভের নিয়ত করে, তাহলে স্ত্রী সহবাস অবশ্যই ইবাদত বলে পরিগণিত হবে।’ [শারহুন নববী আলা মুসলিম ৭/৯২।]

মনে রাখতে হবে বিবাহ হল, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা যুবকদের অনৈতিক চিন্তাধারা থেকে হেফাজত করে এবং যিনা-ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে। বিবাহের মাধ্যমে একজন যুবক হারাম বিষয়ে চিন্তা করা এবং হারাম কাজের ইচ্ছা করা হতে বিরত থাকে।