hadith book logo

একগুচ্ছ মুক্তাদানা দ্বীনে ইসলামীর সৌন্দর্য

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান ইবন নাসের ইবন সা‘দী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১০

অষ্টম দৃষ্টান্ত: যাবতীয় পবিত্র খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, পোষাক-পরিচ্ছদ, বিয়ে-সাদী ইত্যাদির বৈধতা সম্পর্কে শরী‘আত যা নিয়ে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে।

প্রত্যেক পবিত্র উপকারী বস্তুকেই শরী‘আত প্রবর্তক বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন; যেমন: বিভিন্ন শ্রেণীর খাদ্যশস্য, ফলমূল, সাধারণভাবে সামুদ্রিক প্রাণী এবং বিশেষ বিশেষ স্থলজ প্রাণীর মাংস; আর প্রত্যেক অপবিত্র বস্তু, যা দ্বীনের জন্য, অথবা বিবেকের জন্য, অথবা শরীরের জন্য অথবা ধন-সম্পদের জন্য ক্ষতিকারক সেগুলো থেকে নিষেধ করেছেন ।

সুতরাং তিনি যা বৈধ করেছেন, তা তাঁর অনুগ্রহ ও তাঁর দ্বীনের সৌন্দর্যের কারণেই করেছেন এবং তিনি যা নিষেধ করেছেন, তাও তাঁর অনুগ্রহের কারণেই করেছেন; কেননা তিনি তাদেরকে এমন বস্তু থেকে বারণ করেছেন, আর এ নিষেধাজ্ঞা তার দ্বীনের সৌন্দর্যের কারণেই। কারণ সৌন্দর্যের বিষয়টি প্রজ্ঞা, উপযোগিতা ও ক্ষতিকারক বস্তু থেকে রক্ষা করার সাথে সংশ্লিষ্ট।

অনুরূপভাবে বিয়ের ব্যাপারে যা বৈধ করেছেন তা হল: একজন বান্দা তার পছন্দ অনুযায়ী নারীদের মধ্য থেকে দুই দুই জন, তিন তিন জন এবং চার চার জন করে নারীকে বিয়ে করতে পারবে; কারণ, তাতে উভয় পক্ষের জন্য কল্যাণ রয়েছে, আরও রয়েছে উভয়জনের পক্ষ থেকে ক্ষতি দূরিকরণের ব্যবস্থা।

আর তিনি একজন ব্যক্তির জন্য চারজন স্বাধীন নারীর বেশি একত্রিত করাকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। কারণ, তাতে যুলুম-নির্যাতন ও বে-ইনছাফির আশঙ্কা থাকে।

এতদসত্ত্বেও তিনি যুলুম-নির্যাতনের আশঙ্কার ক্ষেত্রে এবং দাম্পত্য জীবনে আল্লাহর বিধান কায়েমে অসমর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে একজন স্ত্রীর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকতে উৎসাহিত করেছেন; যাতে করে (যুলুম বন্ধ করার) উদ্দেশ্য হাসিল হয়।

আর যেভাবে বিয়ে-সাদী সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও অতি জরুরি বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম বিবেচিত, তেমনিভাবে মানুষের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হলে, কষ্টসাধ্য অবস্থায় পতিত হলে, এবং সুস্থভাবে জীবনযাপন করা সমস্যাসঙ্কুল হলে তালাকের বৈধতা দেয়া হয়েছে। আল-কুরআনের ভাষায়:

﴿ وَإِن يَتَفَرَّقَا يُغۡنِ ٱللَّهُ كُلّٗا مِّن سَعَتِهِۦۚ﴾ [ سورة النساء : 130]

“যদি তারা পরস্পর পৃথক হয়ে যায়, তবে আল্লাহ তাঁর প্রচুর্য দ্বারা তাদের প্রত্যেককে অভাবমুক্ত করবেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩]