hadith book logo

একগুচ্ছ মুক্তাদানা দ্বীনে ইসলামীর সৌন্দর্য

লেখকঃ শাইখ আবদুর রহমান ইবন নাসের ইবন সা‘দী রহ. • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ৮

ষষ্ঠ দৃষ্টান্ত: এই দ্বীনে জিহাদের যে নির্দেশ রয়েছে, অনুরূপভাবে যাবতীয় সৎকর্মের নির্দেশ এবং সকল ধরনের অসৎকর্ম থেকে নিষেধের যে নির্দেশ রয়েছে সে সম্পর্কে।

আর যে জিহাদ এই দ্বীন নিয়ে এসেছে, তার উদ্দেশ্য হল, এই দ্বীনের অধিকারের প্রতি সীমালঙ্ঘনকারীদের এবং তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যানকারীদের সীমালঙ্ঘন প্রতিরোধ করা।

আর এটাই জিহাদের প্রকারসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম; এর দ্বারা কোন লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল উদ্দেশ্য করা হয় নি।

আর যে ব্যক্তি এই মূলনীতির দলিলসমূহের দিকে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবা কর্তৃক তাদের শত্রুদের সাথে আচরণের বিবরণের দিকে দৃষ্টি দেবে, সে নিঃসন্দেহে জানতে পারবে যে, জিহাদ অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহের মধ্যে অন্যতম এবং সীমালংঘনকারীদের বাড়াবাড়ি প্রতিরোধ করার অন্যতম উপায়।

সৎকর্মের নির্দেশ ও অসৎকর্ম থেকে নিষেধ করার বিষয়টিও অনুরূপ। কেননা, ততক্ষণ পর্যন্ত এই দ্বীন সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার অনুসারীগণ তার মূলনীতি ও বিধানসমূহের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে; যথার্থতার শীর্ষে আছে বলে প্রমাণিত প্রদত্ত নির্দেশাবলী মেনে চলবে এবং অকল্যাণকর ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকবে।

আর তার অনুসারীগণ এ জন্যও এই (জিহাদ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ) কাজে সার্বক্ষণিক রত থাকবে, যাতে তাদের কেউ কেউ কোন কোন অবৈধ কাজে লিপ্ত থেকে এবং সাধ্যের আলোকে অর্পিত আবশ্যকীয় কর্তব্য পালন থেকে অক্ষমতা প্রকাশ করে তাদের অত্যাচারী মনকে অলঙ্কৃত করতে না পারে।

আর পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী আদেশ ও নিষেধ ছাড়া এই কার্যক্রম পূর্ণতা লাভ করতে পারবে না; আর এটা এ দ্বীনের মহান সৌন্দর্যের অন্তর্ভুক্ত এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যকীয় উপদানসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান উপাদান বলে বিবেচিত। যেমনিভাবে এর মধ্যে রয়েছে তার অনুসারীদের মধ্যে যারা বক্রতা অবলম্বন করে তাদেরকে পুনর্গঠন ও সুশৃঙ্খল করা; তাদের থেকে দুষ্কর্মের মূলোৎপাটন করা এবং তাদের উপর ভাল কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া।

আর তারা দ্বীনকে কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ, তার আওতাধীন থাকা এবং তার শরী‘আত মানার ব্যাপারটি স্বেচ্ছায় মেনে নেয়ার পর, যেভাবে চাইবে চলবে এ ধরনের অবাধ-স্বাধীনতা প্রদান করা তাদের নিজেদের উপর ও সমাজের উপর বড় ধরনের যুলুম-নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত; বিশেষ করে শরী‘আত, যুক্তি ও প্রথার মাধ্যমে স্বীকৃত আবশ্যকীয় অধিকারসমূহ খর্ব করার শামিল হবে [সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধের আওতায় আসতে হবে। এটা কোনোভাবেই ব্যক্তি-স্বাধীনতার বিপরীত নয়। [সম্পাদক-যা.]]।