১
নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি
লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১১
২.১.৩. মুসাইলামাহ আল কায্যাবঃ
তার নাম মুসাইলামাহ, পিতা সুমামাহ, গোত্র বনু হানিফা। নাজদের ইয়ামামাহ অঞ্চলের আল-আইনিয়্যাহ এলাকায় তার জন্ম। লোকেরা তাকে রাহমানুল ইয়ামামাহ বলত। হিজরী নবম সনে তার গোত্র বনু হানিফার সাথে সে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাজির হয়। সে তখন বলেছিল যে, মুহাম্মদ যদি আমাকে তার সাথে নবুওয়তে অংশীদার মেনে নেয় তবে আমি তার অনুসরণ করবো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবেত ইবন কায়েস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে সাথে নিয়ে তার কাছে এক খন্ড গাছের ছোট ডাল নিয়ে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ ‘যদি তুমি আমার কাছে এ কাঠটিও প্রত্যাশা কর, তাহলেও আমি তোমাকে তা দিব না। আল্লাহ্র নির্দেশ নবুওয়াত বা ওহী তোমার ভাগ্যে জুটবে না। যদি তুমি তোমার দেশে ফিরে যাও তবে তিনি (আল্লাহ) তোমাকে জবাই করবেন [বুখারী, প্রাগুক্ত, হাদীস নং ৩৪২৪, মুসলিম, প্রাগুক্ত, হাদীস নং ২২৭৩,২২৭৪।]।
ইয়ামামায় ফিরে গিয়ে মুসাইলামাহ মুরতাদ হয়ে যায় এবং নবুওয়তের দাবী করে বসে ও বিভিন্ন কথা মিথ্যা বানিয়ে বলতে আরম্ভ করে। তারপর দশম হিজরী সনে মদীনায় তার পক্ষ থেকে দূত প্রেরণ করে এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নবুওয়তের অংশীদার হিসেবে মেনে নেয়ার আহবান জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উত্তরে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমান, আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ হতে মিথ্যুক মুসাইলামাহর প্রতি। যে হিদায়েত অনুসরণ করে তার প্রতি সালাম। তারপরঃ যমীনের মালিকানা আল্লাহ্রই। তিনি তার বান্দাদের মাঝে যাকে ইচ্ছা ওয়ারিশ বানান। আর শুভ পরিণাম শুধু মুত্তাকীদের জন্য। [আল-হাইসামী, নূরুদ্দীন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবা‘উল ফাওয়ায়েদ, (বৈরুত: মুআসসাসাতুল মা‘আরিফ), ১৪০৬হি, খ. ৫, পৃ. ৫৬৭। ইবন হিশাম, আব্দুল মালিক, আসসীরাতুন নাবওয়ীয়্যাহ, (বৈরুত, দারুল মা‘রিফাহ), ১৪১১ হি, খ.৪, পৃ. ৩৪৮।]’’
ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খলীফা নিযুক্ত হলেন। তিনি খালেদ ইবন ওয়ালীদ, ইকরিমা ইবন্ আবি জাহল এবং শুরাহবীল ইবন হাসানাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম এর নেতৃত্বে এক বিরাট বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারা তার শক্তিকে ধ্বংস করতে সামর্থ হলেন। রাসূলের চাচা হামযা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে যিনি শহীদ করেছিলেন সেই ওয়াহশী পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এ যুদ্ধে মুসাইলামাহকে হত্যা করেছিলেন।
তার মৃত্যুর সাথে সাথেই সমস্ত মানুষ দীন ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এটা ছিল হিজরী ১১ তম সনের ঘটনা [ইবন কাসীর : প্রাগুক্ত, খ.৬, পৃ.৩২৩।]।
ইয়ামামায় ফিরে গিয়ে মুসাইলামাহ মুরতাদ হয়ে যায় এবং নবুওয়তের দাবী করে বসে ও বিভিন্ন কথা মিথ্যা বানিয়ে বলতে আরম্ভ করে। তারপর দশম হিজরী সনে মদীনায় তার পক্ষ থেকে দূত প্রেরণ করে এবং তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে নবুওয়তের অংশীদার হিসেবে মেনে নেয়ার আহবান জানায়। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উত্তরে লিখে পাঠিয়েছিলেন যে, ‘‘বিসমিল্লাহির রাহমান, আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ হতে মিথ্যুক মুসাইলামাহর প্রতি। যে হিদায়েত অনুসরণ করে তার প্রতি সালাম। তারপরঃ যমীনের মালিকানা আল্লাহ্রই। তিনি তার বান্দাদের মাঝে যাকে ইচ্ছা ওয়ারিশ বানান। আর শুভ পরিণাম শুধু মুত্তাকীদের জন্য। [আল-হাইসামী, নূরুদ্দীন, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবা‘উল ফাওয়ায়েদ, (বৈরুত: মুআসসাসাতুল মা‘আরিফ), ১৪০৬হি, খ. ৫, পৃ. ৫৬৭। ইবন হিশাম, আব্দুল মালিক, আসসীরাতুন নাবওয়ীয়্যাহ, (বৈরুত, দারুল মা‘রিফাহ), ১৪১১ হি, খ.৪, পৃ. ৩৪৮।]’’
ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা গেলেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু খলীফা নিযুক্ত হলেন। তিনি খালেদ ইবন ওয়ালীদ, ইকরিমা ইবন্ আবি জাহল এবং শুরাহবীল ইবন হাসানাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম এর নেতৃত্বে এক বিরাট বাহিনী প্রেরণ করলেন। তারা তার শক্তিকে ধ্বংস করতে সামর্থ হলেন। রাসূলের চাচা হামযা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে যিনি শহীদ করেছিলেন সেই ওয়াহশী পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এ যুদ্ধে মুসাইলামাহকে হত্যা করেছিলেন।
তার মৃত্যুর সাথে সাথেই সমস্ত মানুষ দীন ইসলামের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এটা ছিল হিজরী ১১ তম সনের ঘটনা [ইবন কাসীর : প্রাগুক্ত, খ.৬, পৃ.৩২৩।]।