১
নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি
লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৬
৪.১ গোত্রীয় গোঁড়ামী:
আরব্য সমাজ ব্যবস্থা গোত্রনির্ভর। আল্লাহ্ তা‘আলা তার রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন কুরাইশ গোত্রের বনী কুসাই অংশে পাঠালেন কুরাইশ গোত্রের অপর অংশের নিকট তা অগ্রহণযোগ্য বিবেচিত হতে লাগলো। আবু জাহল বলতঃ আল্লাহর শপথ! আমি জানি যে, মুহাম্মাদ হকের উপর আছে। কিন্তু বনু কুসাই এটা বলবে যে, আমাদের থেকে নবী হয়েছে আর বনু মাখযুম তাদের অনুসরণ করেছে এটা মানা যায় না সুতরাং আমি এটা কখনো করতে পারিনা [ইবন্ কাসীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ: খ.৩, পৃ.৬৪।]।
এটা ছিল একই গোত্রের দু অংশের গোড়ামী। তাছাড়া আরবে বহু গোত্র ছিল। তাদের কেউ কেউ মনে করত যে, তারা কুরাইশদের সমকক্ষ। সুতরাং তাদের নিজেদের মধ্য হতেও নবী হওয়া জরুরী। যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ‘মুদ্বার’ এর বংশধর। যাদেরকে মুদ্বারীয় বলা হতো। অপরপক্ষে ছিল রাবী‘য়াহ ও আসাদ গোত্র। যখনই আরবে মুদ্বার থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব হলো তখনি রবী‘য়াহ ও আসাদ গোত্রের লোকেরা নবুওয়তের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। তারা এটাকে তাদের গোত্রের জন্য সম্মানের বিষয় বিবেচনা করতে থাকে। ফলে দেখা যায় পরবর্তীতে এ দু’গোত্র থেকেই নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারদের উত্থান বেশী হয়। মুসাইলামাহ ছিল রবী‘য়াহ গোত্রের আর তুলাইহা ছিল আসাদ গোত্রের। তারা নিজেদের গোত্রের সম্মান রক্ষার্থে সত্য-মিথ্যা বিচার না করে নিজেদের গোত্রীয় লোকদের অনুসরণ করতে থাকে। এর একটি প্রমাণ আমারা দেখতে পাই মুসাইলামার সাথে তার গোত্রের এক লোকের কথোপকথনের মাধ্যমে। লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো যে, তোমার কাছে কি এমন কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে যে তোমার অনুসরণ করব? মুসাইলামাহ তখন কিছু বানিয়ে বলল। লোকটি তখন বলল: ‘আমি জানি তুমি মিথ্যাবাদী। কিন্তু আমার নিকট রবী‘য়াহ গোত্রের মিথ্যাবাদী মুদ্বার গোত্রের সত্যবাদী থেকে প্রিয়। সুতরাং আমি তোমার অনুসরণ করলাম’ [প্রাগুক্ত, খ.৬, পৃ. ৩২৭।]।
কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঈমানের দৃঢ়তা আসার পর গোত্রীয় কৌলিন্যের জন্য নবুওয়তের দাবীদার খুব বেশী দেখা যায় না। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, নবুওয়াত কোন দাবীর বিষয় নয়। আল্লাহ তা‘আলা জানেন কে নবুওয়তের বেশী উপযুক্ত। সে হিসেবেই তিনি তার রহমত বন্টন করেন।
এটা ছিল একই গোত্রের দু অংশের গোড়ামী। তাছাড়া আরবে বহু গোত্র ছিল। তাদের কেউ কেউ মনে করত যে, তারা কুরাইশদের সমকক্ষ। সুতরাং তাদের নিজেদের মধ্য হতেও নবী হওয়া জরুরী। যেমন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ‘মুদ্বার’ এর বংশধর। যাদেরকে মুদ্বারীয় বলা হতো। অপরপক্ষে ছিল রাবী‘য়াহ ও আসাদ গোত্র। যখনই আরবে মুদ্বার থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব হলো তখনি রবী‘য়াহ ও আসাদ গোত্রের লোকেরা নবুওয়তের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। তারা এটাকে তাদের গোত্রের জন্য সম্মানের বিষয় বিবেচনা করতে থাকে। ফলে দেখা যায় পরবর্তীতে এ দু’গোত্র থেকেই নবুওয়তের মিথ্যা দাবীদারদের উত্থান বেশী হয়। মুসাইলামাহ ছিল রবী‘য়াহ গোত্রের আর তুলাইহা ছিল আসাদ গোত্রের। তারা নিজেদের গোত্রের সম্মান রক্ষার্থে সত্য-মিথ্যা বিচার না করে নিজেদের গোত্রীয় লোকদের অনুসরণ করতে থাকে। এর একটি প্রমাণ আমারা দেখতে পাই মুসাইলামার সাথে তার গোত্রের এক লোকের কথোপকথনের মাধ্যমে। লোকটি তাকে জিজ্ঞেস করলো যে, তোমার কাছে কি এমন কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে যে তোমার অনুসরণ করব? মুসাইলামাহ তখন কিছু বানিয়ে বলল। লোকটি তখন বলল: ‘আমি জানি তুমি মিথ্যাবাদী। কিন্তু আমার নিকট রবী‘য়াহ গোত্রের মিথ্যাবাদী মুদ্বার গোত্রের সত্যবাদী থেকে প্রিয়। সুতরাং আমি তোমার অনুসরণ করলাম’ [প্রাগুক্ত, খ.৬, পৃ. ৩২৭।]।
কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঈমানের দৃঢ়তা আসার পর গোত্রীয় কৌলিন্যের জন্য নবুওয়তের দাবীদার খুব বেশী দেখা যায় না। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল যে, নবুওয়াত কোন দাবীর বিষয় নয়। আল্লাহ তা‘আলা জানেন কে নবুওয়তের বেশী উপযুক্ত। সে হিসেবেই তিনি তার রহমত বন্টন করেন।