১
নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি
লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ২৯
৪.৪. চিন্তার বিকৃতি:
শীয়া এবং সুফী সম্প্রদায়ের মধ্যে চিন্তার যে বিস্তর বিকৃতি হয়েছিল তা-ই নবওয়তের মিথ্যা দাবীতে ইন্ধন যুগিয়েছিল। শীয়া সম্প্রদায় তাদের দ্বাদশ ইমামের আগমনের জন্য এতই ব্যস্ত থাকত যে, যে কেউ এ ধরনের দাবী করত তারা তার পিছনে ছুটে বেড়াত। পরবর্তীতে সে ব্যক্তি মানুষের অসতর্কতাকে কাজে লাগিয়ে নবুওয়তের দাবী করে বসত।
অনুরূপভাবে সুফী সম্প্রদায় তাদের অত্যধিক ইবাদত প্রবণতার কারণে ইসলামের সীমা ছড়িয়ে যেত। পরবর্তীতে তারা খুব বেশী ধারণাপ্রবণ হয়ে যায়। তাদের ধারণা হতো যে, তাদের কাছে কেউ অহী নিয়ে আসছে। এভাবে তাদের মধ্যে এক ধরণের বিকৃতি তৈরী হয়। যা থেকে নবুওয়তের দাবী করা তাদের জন্য সহজ হয়ে পড়ে।
আর এ জন্যই ইমাম ইবন্ হাযম রাহেমাহুল্লাহ বলেন: ‘‘মনে রাখবে যারাই এ ধরনের কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে তাদের মূল হলো হয় শীয়া সম্প্রদায় নতুবা সুফী শ্রেণীর লোকেরা’’ [ইবন্ হাযম, প্রাগুক্ত খ. ৪, পৃ. ১৮৮।]।
আমরা যদি নবুওয়তের দাবীদারদের প্রতি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব যে, নবুওয়তের দাবীদারদের একটি বড় অংশ শীয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। তারা প্রথমে ইমাম হওয়ার দাবী করত। যা শেষ পর্যন্ত নবুওয়তের দাবী পর্যন্ত গিয়ে ঠেকত। যেমন, মুগীরাহ ইবন্ সাঈদ আল-ইজলী, আবু মনসুর আল-ইজলী, আবুল খাতাব আল-আসাদী, আল-মুখতার ইবন আবি উবাইদ আল-কাযযাব এবং বয়ান ইবন সাম‘আন। অনুরূপভাবে শীয়াদের মধ্য থেকে নবওয়াতের দাবীদার অপর এক শ্রেণী নিজেদেরকে প্রথমে ইমাম মাহদী হওয়ার দাবী করেছিল যেমন, আলী ইবন্ ফাদ্ল আল হিমইয়ারী আল ইয়ামানী। সে শিয়াদের বার ইমামী বা ‘ইশনা আশারী’ উপদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারপর সেই শিয়াদের অপর উপদল ‘ইসমাইলী’ শিয়াদের প্ররোচনায় পড়ে এবং নিজেই মাহদী হওয়ার দাবী করে বসে। সবশেষে সে নিজকে নবী বলে দাবী করতে আরম্ভ করে।
তাছাড়া নবওয়তের দাবীদারদের দ্বিতীয় অংশের উপর সুফী প্রভাব লক্ষণীয়। যেমন, হারেস ইবন্ সা‘ঈদ। তার অবস্থা এমন ছিল যে, সে সময়ের সবাই তাকে সবচেয়ে বড় পরহেযগার মনে করত। কিন্তু শয়তান তাকে ধোকা দিয়ে পদস্খলিত করে এবং শেষ পর্যন্ত সে নিজেকে নবী বলে দাবী করে বসে। অনুরূপভাবে গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী জীবনের প্রথমে তাসাউফ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। সর্বেশ্বরবাদের প্রবক্তা সুফী ইবন্ আরাবীর গ্রন্থসমূহ থেকেও সে তথ্য সংগ্রহ করত। যা শেষ পর্যন্ত তাকে নবওয়তের দাবী করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল [আল-গামেদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৮-৩৪১।]।
অনুরূপভাবে সুফী সম্প্রদায় তাদের অত্যধিক ইবাদত প্রবণতার কারণে ইসলামের সীমা ছড়িয়ে যেত। পরবর্তীতে তারা খুব বেশী ধারণাপ্রবণ হয়ে যায়। তাদের ধারণা হতো যে, তাদের কাছে কেউ অহী নিয়ে আসছে। এভাবে তাদের মধ্যে এক ধরণের বিকৃতি তৈরী হয়। যা থেকে নবুওয়তের দাবী করা তাদের জন্য সহজ হয়ে পড়ে।
আর এ জন্যই ইমাম ইবন্ হাযম রাহেমাহুল্লাহ বলেন: ‘‘মনে রাখবে যারাই এ ধরনের কুফরীতে লিপ্ত হয়েছে তাদের মূল হলো হয় শীয়া সম্প্রদায় নতুবা সুফী শ্রেণীর লোকেরা’’ [ইবন্ হাযম, প্রাগুক্ত খ. ৪, পৃ. ১৮৮।]।
আমরা যদি নবুওয়তের দাবীদারদের প্রতি লক্ষ্য করি তাহলে দেখতে পাব যে, নবুওয়তের দাবীদারদের একটি বড় অংশ শীয়া সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। তারা প্রথমে ইমাম হওয়ার দাবী করত। যা শেষ পর্যন্ত নবুওয়তের দাবী পর্যন্ত গিয়ে ঠেকত। যেমন, মুগীরাহ ইবন্ সাঈদ আল-ইজলী, আবু মনসুর আল-ইজলী, আবুল খাতাব আল-আসাদী, আল-মুখতার ইবন আবি উবাইদ আল-কাযযাব এবং বয়ান ইবন সাম‘আন। অনুরূপভাবে শীয়াদের মধ্য থেকে নবওয়াতের দাবীদার অপর এক শ্রেণী নিজেদেরকে প্রথমে ইমাম মাহদী হওয়ার দাবী করেছিল যেমন, আলী ইবন্ ফাদ্ল আল হিমইয়ারী আল ইয়ামানী। সে শিয়াদের বার ইমামী বা ‘ইশনা আশারী’ উপদলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারপর সেই শিয়াদের অপর উপদল ‘ইসমাইলী’ শিয়াদের প্ররোচনায় পড়ে এবং নিজেই মাহদী হওয়ার দাবী করে বসে। সবশেষে সে নিজকে নবী বলে দাবী করতে আরম্ভ করে।
তাছাড়া নবওয়তের দাবীদারদের দ্বিতীয় অংশের উপর সুফী প্রভাব লক্ষণীয়। যেমন, হারেস ইবন্ সা‘ঈদ। তার অবস্থা এমন ছিল যে, সে সময়ের সবাই তাকে সবচেয়ে বড় পরহেযগার মনে করত। কিন্তু শয়তান তাকে ধোকা দিয়ে পদস্খলিত করে এবং শেষ পর্যন্ত সে নিজেকে নবী বলে দাবী করে বসে। অনুরূপভাবে গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী জীবনের প্রথমে তাসাউফ দ্বারা প্রভাবিত ছিল। সর্বেশ্বরবাদের প্রবক্তা সুফী ইবন্ আরাবীর গ্রন্থসমূহ থেকেও সে তথ্য সংগ্রহ করত। যা শেষ পর্যন্ত তাকে নবওয়তের দাবী করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল [আল-গামেদী, প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৮-৩৪১।]।