hadith book logo

নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি

লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৩

৩.২ হুসাইন আলী মাযন্দারানী আল-বাহা

বাহাঈ সম্প্রদায়ের প্রবর্তক হুসাইন আলী মাযান্দারানী ১৮১৭ খ্রীষ্টাব্দে ইরানের মাযান্দারান শহরে জন্ম গ্রহণ করে। তার শিক্ষা জীবনের শুরুতে তৎকালীন সময়ে তেহরানে প্রচলিত বিভিন্ন জ্ঞান আহরন করে। তারপর সুফীবাদে দীক্ষিত হয় এবং সুফীদের মধ্যে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।

আলী মুহাম্মাদ আলী মীর্যা বাবের মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা তৎকালীন ইরানের বাদশাহকে আক্রমন করার ফলে বাদশাহর সৈন্যরা তাকে এ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সে ছাড়া পায় এবং বাগদাদে পলায়ন করে। সেখানে আলী মুহাম্মাদ আলী মীর্যা বাবের অনুসারীগণ ধীরে ধীরে তার চারপাশে জড়ো হতে শুরু করে। এতে সে তার নিজের ব্যাপারে ভীত হয়ে সেখান থেকে কুর্দিস্তানে পলায়ন করে। সেখানে সুফী-দরবেশদের আখড়ায় অবস্থান করতে থাকে। পরবর্তীতে তার অনুসারীরা তাকে বাগদাদে ফিরে আসতে অনুরোধ করে। সে ফিরে আসার পর তারা সেখানে ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করে। এমতাবস্থায় তুর্কী খলীফা তাদেরকে ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। সেখানেও তারা অনুরূপ সমস্যা সৃষ্টি করলে খলীফা তাদেরকে ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দে ‘‘আদরানাহ’’ নামক স্থানে নির্বাসনে পাঠায়। সেখানে তারা তাদের গোপন দাওয়াত প্রসারিত করে। সেখানে সে নিজেকে পর্যায়ক্রমে মাহদী, মাসীহ , নবী এমনকি ইলাহ হওয়ারও দাবী করে। ১৮৯২ খ্রীষ্টাব্দে ৭৬ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয় [আল-ওয়াকীল, আব্দুর রাহমান, আল-বাহাইয়্যাহ, (কায়রো: মাতবায়াতুস সুন্নাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ), প্রথম সংস্করণ, ১৯৬২,পৃ.১৪৩-১৪৪।]।

অন্যান্য নবুওয়তের ভন্ড দাবীদারদের মত তার অনুসারীরা শেষ হয়ে যায়নি। কারণ উপনিবেশবাদীরা তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে ইসলামের বিরুদ্ধে বিষ-ফোঁড়া হিসেবে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। আজও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে [বাংলাদেশের ঢাকায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের পাশে বাহাঈ সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র অবস্থিত। তারা সেখানে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করছে।]।