১
নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি
লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৬
১.৩ নবী-রাসূল প্রেরণের ধারার পরিসমাপ্তি প্রমাণকারী সাহাবা, তাবেয়ীন ও ইমামগণের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ডঃ
সাহাবায়ে কিরামগণ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর নবুওয়তের দাবীদারদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করেছিলেন।
যে সমস্ত হাদীসে ‘খাতমে নবুওয়াত’ বা নবী-রাসূল প্রেরণের ধারার পরিসমাপ্তি সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলো সাহাবাগণই বর্ণনা করেছেন।
এ সমস্ত হাদীস অত্যন্ত অকাট্যভাবে এত অধিক হারে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না।
যে সমস্ত সাহাবা থেকে হাদীসে ‘খাতমে নবুওয়াত’ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাদের সংখ্যাঃ ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে [প্রাগুক্ত পৃ. ৬৭, আত-তাইয়্যেব, আস‘আদ মুহাম্মাদ, আল-মুতানাবিবয়ূন, নাশআতুহুম, উসুলুহুম ওয়া নিহায়াতুহুম, (বৈরুত, দারু ইবন্ হাযম), ১৪১৭হি. পৃ. ১৪.]।
তাছাড়া উম্মতের সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ এ ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, নিম্নে এর কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলোঃ
ইমাম আবু হানিফা রাহেমাহুল্লাহর সময়ে এক ব্যক্তি নবুওয়তের দাবী করল এবং তার দাবীর সমর্থনে দলীল-প্রমাণাদি উত্থাপনের সুযোগ চাইল। তখন ইমাম আবু হানিফা রাহেমাহুল্লাহ বলেছিলেনঃ ‘যে কেউ তার থেকে তার নবুওয়তের সমর্থনে কোন দলীল-প্রমাণ পেশ করতে বলবে সে কাফের হয়ে যাবে; কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার পরে কোন নবী নেই’ [আল-কারদারী, মানাকেবে আবু হানিফা, (বৈরুত, দারুল মা‘রিফাহ), ১৪১২ হি, খ.১, পৃ.১৬১।]’। অর্থাৎ, নবুওয়তের দাবীদারদেরকে তাদের দাবীর সমর্থনে কোন প্রমাণ বা যুক্তি-তর্ক পেশ করারও সুযোগ দেয়া যাবে না; কারণ এটা আমাদের কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বিপরীত কাজ।
ইমাম আবু ইউসুফ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘যদি কোন নবুওয়তের দাবীদার বের হয় এবং নবুওয়তের দাবী করে তখন যে কেউ তার কাছে তার দাবীর সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে বলবে, সে নিজেই কাফের হয়ে যাবে। কারণ, তখন সে সরাসরি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে অস্বীকার করেছে [আল-গামেদী, প্রাগুক্ত পৃ. ৭২।]’।
ইমাম তাহাভী রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের মধ্যে শেষ নবী, সমস্ত মুত্তাকীদের ইমাম এবং সমস্ত রাসূলদের নেতা। তাঁর পরে এ ধরনের যাবতীয় দাবী পথভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ [আত-তাহাভী, আবু জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবন্ সালামাহ আল-আযদী, আল-আকীদাতুত তাহাভীয়্যাহ, (রিয়াদ, ওযারাতুশ শুয়ুনুল ইসলামিয়্যাহ), সম্পাদনা: শায়খ আহমাদ শাকের, ১৪২২ হি. পৃ. ৯৫।]’।
যে সমস্ত হাদীসে ‘খাতমে নবুওয়াত’ বা নবী-রাসূল প্রেরণের ধারার পরিসমাপ্তি সাব্যস্ত হয়েছে সেগুলো সাহাবাগণই বর্ণনা করেছেন।
এ সমস্ত হাদীস অত্যন্ত অকাট্যভাবে এত অধিক হারে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না।
যে সমস্ত সাহাবা থেকে হাদীসে ‘খাতমে নবুওয়াত’ সংক্রান্ত হাদীস বর্ণিত হয়েছে তাদের সংখ্যাঃ ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে [প্রাগুক্ত পৃ. ৬৭, আত-তাইয়্যেব, আস‘আদ মুহাম্মাদ, আল-মুতানাবিবয়ূন, নাশআতুহুম, উসুলুহুম ওয়া নিহায়াতুহুম, (বৈরুত, দারু ইবন্ হাযম), ১৪১৭হি. পৃ. ১৪.]।
তাছাড়া উম্মতের সত্যনিষ্ঠ আলেমগণ এ ব্যাপারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, নিম্নে এর কয়েকটি উদ্ধৃত করা হলোঃ
ইমাম আবু হানিফা রাহেমাহুল্লাহর সময়ে এক ব্যক্তি নবুওয়তের দাবী করল এবং তার দাবীর সমর্থনে দলীল-প্রমাণাদি উত্থাপনের সুযোগ চাইল। তখন ইমাম আবু হানিফা রাহেমাহুল্লাহ বলেছিলেনঃ ‘যে কেউ তার থেকে তার নবুওয়তের সমর্থনে কোন দলীল-প্রমাণ পেশ করতে বলবে সে কাফের হয়ে যাবে; কেননা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘আমার পরে কোন নবী নেই’ [আল-কারদারী, মানাকেবে আবু হানিফা, (বৈরুত, দারুল মা‘রিফাহ), ১৪১২ হি, খ.১, পৃ.১৬১।]’। অর্থাৎ, নবুওয়তের দাবীদারদেরকে তাদের দাবীর সমর্থনে কোন প্রমাণ বা যুক্তি-তর্ক পেশ করারও সুযোগ দেয়া যাবে না; কারণ এটা আমাদের কুরআন ও হাদীসের সরাসরি বিপরীত কাজ।
ইমাম আবু ইউসুফ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘যদি কোন নবুওয়তের দাবীদার বের হয় এবং নবুওয়তের দাবী করে তখন যে কেউ তার কাছে তার দাবীর সমর্থনে প্রমাণ পেশ করতে বলবে, সে নিজেই কাফের হয়ে যাবে। কারণ, তখন সে সরাসরি কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে অস্বীকার করেছে [আল-গামেদী, প্রাগুক্ত পৃ. ৭২।]’।
ইমাম তাহাভী রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের মধ্যে শেষ নবী, সমস্ত মুত্তাকীদের ইমাম এবং সমস্ত রাসূলদের নেতা। তাঁর পরে এ ধরনের যাবতীয় দাবী পথভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তির অনুসরণ [আত-তাহাভী, আবু জা‘ফর মুহাম্মাদ ইবন্ সালামাহ আল-আযদী, আল-আকীদাতুত তাহাভীয়্যাহ, (রিয়াদ, ওযারাতুশ শুয়ুনুল ইসলামিয়্যাহ), সম্পাদনা: শায়খ আহমাদ শাকের, ১৪২২ হি. পৃ. ৯৫।]’।