hadith book logo

নবুওয়তের দাবীদারদের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক পরিণতি

লেখকঃ ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২৭

৪.২ জাতিগত গোঁড়ামী:

আরবদের মধ্যে যেমন গোত্রীয় গোঁড়ামী কাজ করত, তেমনিভাবে অনারবদের মধ্যে জাতিভেদ প্রথা সচল। ইসলামের বিজয়ের ফলে অনারবগণ প্রচুর পরিমানে আল্লাহ্র দীনে প্রবেশ করতে থাকে। তাদের মধ্যে দীনের খাদেম যেমন তৈরী হয়, তেমনি তাদের মধ্যে অনেকের মধ্যে জাতিগত গোঁড়ামীও কার্যকর থাকে। বিশেষ করে তখনকার দিনে সবচেয়ে বড় অনারব জাতি ছিল পারসিক জাতি। তাদের মধ্যে এ ধারনা প্রবল হলো যে, একসময় তারা শাসক ছিল এখন মুসলমান আরবদের অধীনে শাসিত হচ্ছে। সুতরাং তাদের মধ্যে এমন বহু সংখ্যক মুনাফিক চরিত্রের লোকের আবির্ভাব হলো যারা মুখে ইসলামের বাণী বলত, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্যই ছিল মুসলিম উম্মতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। ফলে তারা শীয়া, মু‘তাজিলা, খারেজী ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের ভিতকে দূর্বল করা। তাদের মত ছিল যে, যেভাবে আল্লাহ্ আরবদের থেকে নবী বানিয়েছেন সেভাবে অনারবদের থেকেও নবী বানাবেন। এ জন্য তারা নিজেদের জাতিগত চিন্তাধারাকে তাদের অনুসারীদের মধ্যে বপন করতে সক্ষম হয়। ফলে তাদের মধ্যে অনেক নবুওয়তের দাবীদারদের উত্থান হয় [ইবন্ হাযম, আবু মুহাম্মাদ আলী ইবন হায্ম, আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়ায়ি ওয়ান নিহাল, খ. ২, পৃ. ১১৫।]। উমাইয়া, আববাসী যুগ এবং পরবর্তী যুগের নবুওয়তের দাবীদার অধিকাংশই ছিল অনারব। এমনকি গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীও একই কথা তার বিভিন্ন বক্তৃতায় প্রকাশ করে বেড়াত [আত-তাইয়্যেব, প্রাগুক্ত পৃ. ৮১।]।