hadith book logo

ইসলামি আকিদা ও মানবপ্রকৃতি

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৭

ইসলামি আকিদা ও সমাজ:

আমরা আগে বলেছি ইসলামি আকিদা ব্যক্তি, সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্র সব কিছুকে সমন্বিত করে। এখানে বলতে চাই, ইসলামি আকিদা এসব বিষয়গুলো আলাদা করে বিবেচনা করে না। এমন নয়, ব্যক্তিকে এক মানদণ্ডে আর সমাজকে অন্য মানদণ্ডে পরিচালিত করে। বরং উভয়কে একই মানদণ্ডে পরিচালিত করে তবে উভয়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভিন্ন।

মানদণ্ড বলতে আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাকওয়া এবং তার নির্দেশিত বিধি-বিধান। এ মানদণ্ডের আওতায় কিছু দায়িত্ব সম্পাদন করে ব্যক্তি, আর কিছু দায়িত্ব সম্পাদন করে সমাজ। কিন্তু উভয়ে একমানদণ্ড-একদীক্ষায় পরিচালিত হয়। অতএব, আমরা বলতে পারি এ আকিদায় বিশ্বাসী বিভিন্ন জাতি-গোত্র বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্ন হলেও তাদের লক্ষ্য এক-অভিন্ন। ব্যক্তিতে-ব্যক্তিতে আলাদা হলেও তাদের উদ্দেশ্য এক। ব্যক্তি-সমাজ, রাজা-প্রজা, ধনী-গরীব কেউ কারো প্রতিপক্ষ কিংবা দুশমন নয়। যেমনটি হয়ে আছে জাহিলিয়্যাতপূর্ণ সমকালীন প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের দুই মেরু। একদিকে অত্যাচারী শাসক অন্যদিকে অত্যাচারিত জনতা কিংবা একদিকে সংঘবদ্ধ জনতা অন্যদিকে নিঃসঙ্গ জননেতা।

তদ্রূপ জাতি ও রাষ্ট্র এক নীতির শরণাপন্ন, এক আল্লাহর ইবাদত এবং তাঁর হুকুম অনুযায়ী সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে সকলেই বাধ্য ও পরিকরবদ্ধ। অধিকন্তু এ বিষয়টি আকিদার মেরুদণ্ডও বটে। অন্যথায় সে আকিদা হতে বহিস্কৃত, আল্লাহতে অবিশ্বাসী। [আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “যে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করে না, সে কাফের।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৪] যে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফয়সালা করে না সে যালিম।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৫] যে আল্লাহর বিধান মুতাবিক ফয়সালা করে না সে ফাসেক। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৭]]

আমর বিল মারুফ নাহি আনিল মুনকার তথা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধের ব্যাপারেও জাতি-রাষ্ট্র সকলেই সমান, সবারই দায়িত্ব। অধিকন্তু এ বিষয়টি আকিদার আবেদন, শ্রেষ্ঠ উম্মত হওয়ার সনদও বটে। [আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “তোমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। তোমাদেরকে মানবজাতির কল্যাণে প্রেরণ করা হয়েছে। তোমরা কল্যাণের আদেশ করবে, অকল্যাণ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০]] রাজা-প্রজা উভয়েই একে অপরের সহযোগী ও সহকর্মী। উভয়ের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন।