HADITH.One
HADITH.One
Bangla
System
এই সদাকা জারিয়ায় অংশীদার হোন
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।
সাপোর্ট করুন
ইসলামি আকিদা ও মানবপ্রকৃতি
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমাদ
৯
আকিদার ধারক:নাজমুদ্দিন বাগদাদি বলেন, জগৎ তিন প্রকার:
১. শুধু জ্ঞান ও বোধশক্তি সম্পন্ন জগৎ; যেমন ফিরিশতা।
২. শুধু প্রবৃত্তি ও কামুকতা সম্পন্ন জগৎ; যেমন পশু ও চতুষ্পদ প্রাণী।
৩. উভয়ের সমন্বয় তথা বোধশক্তি ও প্রবৃত্তি সম্পন্ন জগৎ; যেমন মানব ও জিন্ন।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীভুক্ত জগতের স্বীয় স্বার্থ ও অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। তারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কর্তব্য ও চাহিদা মেটাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় কিংবা দোদুল্যমন হয় না। শারীরিক চাহিদা পূরণে কোথাও বিবেক বাধা দেয় না। আবার বিবেকের কর্তব্য সাধনে শারীরিক প্রয়োজন পিছুটান দেয় না। কারণ, প্রথম শ্রেণিভুক্ত জগতের ভেতর জ্ঞান ও বোধের সাথে বিরোধ সাধে এমন কোনো প্রবৃত্তি নেই। দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত জগতের ভেতর প্রবৃত্তির সাথে বাধসাধে এমন কোনো অনুভূতি নেই। হ্যাঁ, টানাপোড়েন ও দ্বিমুখী দ্বন্দ্বের শিকার হয় মানব ও জিন্ন জাতি। প্রবৃত্তির স্বার্থে বার বার দংশন করে বিবেক; নিয়ন্ত্রিত হওয়ার উপদেশ দেয়, বৈধ-অবৈধ বিবেচনার দীক্ষা দেয়। কঠোরভাবে ধিক্কার জানায় স্বেচ্ছাচারিতাকে। আবার বিবেক তথা আত্মার কর্তব্য সাধনে বার বার প্রবৃত্তির চাহিদা ও প্রয়োজন উঁকি মারে, পিছু টান দেয়। বাধাগ্রস্ত করে তার একাগ্রতা ও নিরবচ্ছিন্নতা। উভয় প্রয়োজন-ই মানব মনে ও জিন্ন উপলব্ধিতে অঘোষিত, অযাচিত, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সৃষ্টি করে। কারণ, বিবেক ও প্রবৃত্তি বিপরীত মুখি গতি ও প্রকৃতিতে চলমান। জয়ী হয় কখনো প্রবৃত্তি কখনো বিবেক। একটি আরেকটির বিপরীত। বিবেক, বুদ্ধি ও বোধ এবং শারীরিক, জৈবিক ও পার্থিব চাহিদার মাঝে সমঝোতা, সমন্বয় ও প্রয়োজন যথাযথ মূল্যায়ন করে সামনে অগ্রসরমান ব্যক্তি-ই প্রকৃত বিশ্বাস তথা ইসলামি আকিদার যথাযোগ্য ও উপযুক্ত। এর বিপরীতে জৈবিক চাহিদা ও প্রবৃত্তির অনুসরণে অন্ধ ও পরিচালিত ব্যক্তি পশুবৎ, পার্থিব জগতের শান্তি সৃঙ্খলার জন্য হুমকি। যেমন, অধুনিক বিশ্বের পাশ্চাত্য জগৎ। আবার নিরেট আত্মার খোরাক ও বিবেচনায় মগ্ন ব্যক্তি অথর্ব, অপাংক্তেয় ও পৃথিবীর অযোগ্য। যেমন বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগীবৃন্দ। [[টিকা: আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ান, দেরাসাহ মুকারানা (ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম একটি তুলনামূলক গবেষণা): পৃ. ৯, ড. মুস্তফা হেলমি, ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রধান, দারুল উলুম কলেজ, কায়রো ইউনিভার্সিটি। প্রথম প্রকাশনা: ২০০৫ ইং ১৪২৬ হি. দার ইবন জাওযী, আল-কাহেরা।]]
আত্মা ও প্রবৃত্তির মাঝে সমন্বয়ে সক্ষম, প্রকৃতি দেখে ভালো-মন্দ বিবেচনা করার যোগ্য ও তা থেকে উপকৃত সত্তা তথা মানব ও জিন্ন জাতি-ই ইসলামি আকিদার ধারক হতে সক্ষম। ইসলামের লক্ষ্য এরাই। এরাই প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করার যোগ্যতা রাখে। আর তাই কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে বিবেকবান, বিশ্বাসী, আলেম, ঈমানদার, গবেষক ও উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে। [আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে বিবেকবানদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৪] “বিশ্বাসীদের জন্য।” [সূরা আল-জাছিয়া, আয়াত: ৪] “আলেমদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২২] “ঈমানদারদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৭] “গবেষকদের জন্য।” [সূরা আন-নাহাল: ১১] “উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১৩]] অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
﴿إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ ١٩٠ ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٩١﴾ [ ال عمران : ١٩٠، ١٩١ ]
“নিশ্চয় আসমান-জমিন সৃষ্টি ও রাত-দিন পরিবর্তনের ভেতর শিক্ষনীয় আলামত রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য, যারা বসতে, শুতে এবং কাতশুয়েও আল্লাহর স্মরণ করে, এসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে বলে উঠে, হে আমাদের প্রভু তুমি এ গুলো অযথা সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র, আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে পরিত্রান দান কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০–১৯১] আল্লাহ যাকে ইচ্ছে গবেষণার তাওফীক দেন, উপকৃত জ্ঞান দান করেন। [আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছে জ্ঞান দান করেন, আর যাকে জ্ঞান দান করা হয়, মূলত তাকে প্রচুর কল্যাণ প্রদান করা হয়। কারণ, একমাত্র জ্ঞানী ব্যক্তিরাই হিতোপদেশ গ্রহণ করে।” বাকারা: (২৬৯)]
১. শুধু জ্ঞান ও বোধশক্তি সম্পন্ন জগৎ; যেমন ফিরিশতা।
২. শুধু প্রবৃত্তি ও কামুকতা সম্পন্ন জগৎ; যেমন পশু ও চতুষ্পদ প্রাণী।
৩. উভয়ের সমন্বয় তথা বোধশক্তি ও প্রবৃত্তি সম্পন্ন জগৎ; যেমন মানব ও জিন্ন।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীভুক্ত জগতের স্বীয় স্বার্থ ও অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো ত্যাগ, কুরবানি ও পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। তারা নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কর্তব্য ও চাহিদা মেটাতে কিংকর্তব্যবিমূঢ় কিংবা দোদুল্যমন হয় না। শারীরিক চাহিদা পূরণে কোথাও বিবেক বাধা দেয় না। আবার বিবেকের কর্তব্য সাধনে শারীরিক প্রয়োজন পিছুটান দেয় না। কারণ, প্রথম শ্রেণিভুক্ত জগতের ভেতর জ্ঞান ও বোধের সাথে বিরোধ সাধে এমন কোনো প্রবৃত্তি নেই। দ্বিতীয় শ্রেণিভুক্ত জগতের ভেতর প্রবৃত্তির সাথে বাধসাধে এমন কোনো অনুভূতি নেই। হ্যাঁ, টানাপোড়েন ও দ্বিমুখী দ্বন্দ্বের শিকার হয় মানব ও জিন্ন জাতি। প্রবৃত্তির স্বার্থে বার বার দংশন করে বিবেক; নিয়ন্ত্রিত হওয়ার উপদেশ দেয়, বৈধ-অবৈধ বিবেচনার দীক্ষা দেয়। কঠোরভাবে ধিক্কার জানায় স্বেচ্ছাচারিতাকে। আবার বিবেক তথা আত্মার কর্তব্য সাধনে বার বার প্রবৃত্তির চাহিদা ও প্রয়োজন উঁকি মারে, পিছু টান দেয়। বাধাগ্রস্ত করে তার একাগ্রতা ও নিরবচ্ছিন্নতা। উভয় প্রয়োজন-ই মানব মনে ও জিন্ন উপলব্ধিতে অঘোষিত, অযাচিত, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সৃষ্টি করে। কারণ, বিবেক ও প্রবৃত্তি বিপরীত মুখি গতি ও প্রকৃতিতে চলমান। জয়ী হয় কখনো প্রবৃত্তি কখনো বিবেক। একটি আরেকটির বিপরীত। বিবেক, বুদ্ধি ও বোধ এবং শারীরিক, জৈবিক ও পার্থিব চাহিদার মাঝে সমঝোতা, সমন্বয় ও প্রয়োজন যথাযথ মূল্যায়ন করে সামনে অগ্রসরমান ব্যক্তি-ই প্রকৃত বিশ্বাস তথা ইসলামি আকিদার যথাযোগ্য ও উপযুক্ত। এর বিপরীতে জৈবিক চাহিদা ও প্রবৃত্তির অনুসরণে অন্ধ ও পরিচালিত ব্যক্তি পশুবৎ, পার্থিব জগতের শান্তি সৃঙ্খলার জন্য হুমকি। যেমন, অধুনিক বিশ্বের পাশ্চাত্য জগৎ। আবার নিরেট আত্মার খোরাক ও বিবেচনায় মগ্ন ব্যক্তি অথর্ব, অপাংক্তেয় ও পৃথিবীর অযোগ্য। যেমন বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগীবৃন্দ। [[টিকা: আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ান, দেরাসাহ মুকারানা (ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম একটি তুলনামূলক গবেষণা): পৃ. ৯, ড. মুস্তফা হেলমি, ইসলামি শিক্ষা বিভাগের প্রধান, দারুল উলুম কলেজ, কায়রো ইউনিভার্সিটি। প্রথম প্রকাশনা: ২০০৫ ইং ১৪২৬ হি. দার ইবন জাওযী, আল-কাহেরা।]]
আত্মা ও প্রবৃত্তির মাঝে সমন্বয়ে সক্ষম, প্রকৃতি দেখে ভালো-মন্দ বিবেচনা করার যোগ্য ও তা থেকে উপকৃত সত্তা তথা মানব ও জিন্ন জাতি-ই ইসলামি আকিদার ধারক হতে সক্ষম। ইসলামের লক্ষ্য এরাই। এরাই প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করার যোগ্যতা রাখে। আর তাই কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে বিবেকবান, বিশ্বাসী, আলেম, ঈমানদার, গবেষক ও উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে। [আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে বিবেকবানদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২৪] “বিশ্বাসীদের জন্য।” [সূরা আল-জাছিয়া, আয়াত: ৪] “আলেমদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ২২] “ঈমানদারদের জন্য।” [সূরা আর-রূম, আয়াত: ৩৭] “গবেষকদের জন্য।” [সূরা আন-নাহাল: ১১] “উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য।” [সূরা আন-নাহাল, আয়াত: ১৩]] অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
﴿إِنَّ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَٱخۡتِلَٰفِ ٱلَّيۡلِ وَٱلنَّهَارِ لَأٓيَٰتٖ لِّأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ ١٩٠ ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ ١٩١﴾ [ ال عمران : ١٩٠، ١٩١ ]
“নিশ্চয় আসমান-জমিন সৃষ্টি ও রাত-দিন পরিবর্তনের ভেতর শিক্ষনীয় আলামত রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য, যারা বসতে, শুতে এবং কাতশুয়েও আল্লাহর স্মরণ করে, এসব নিয়ে চিন্তা করতে করতে বলে উঠে, হে আমাদের প্রভু তুমি এ গুলো অযথা সৃষ্টি কর নি। তুমি পবিত্র, আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে পরিত্রান দান কর।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯০–১৯১] আল্লাহ যাকে ইচ্ছে গবেষণার তাওফীক দেন, উপকৃত জ্ঞান দান করেন। [আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছে জ্ঞান দান করেন, আর যাকে জ্ঞান দান করা হয়, মূলত তাকে প্রচুর কল্যাণ প্রদান করা হয়। কারণ, একমাত্র জ্ঞানী ব্যক্তিরাই হিতোপদেশ গ্রহণ করে।” বাকারা: (২৬৯)]
রিডিং সেটিংস
Bangla
System
আরবি ফন্ট নির্বাচন
Kfgq Hafs
অনুবাদ ফন্ট নির্বাচন
Kalpurush
22
17
সাধারণ সেটিংস
আরবি দেখান
অনুবাদ দেখান
রেফারেন্স দেখান
হাদিস পাশাপাশি দেখান
এই সদাকা জারিয়ায় অংশীদার হোন
মুসলিম উম্মাহর জন্য বিজ্ঞাপনমুক্ত মডার্ন ইসলামিক এপ্লিকেশন উপহার দিতে আমাদের সাহায্য করুন। আপনার এই দান সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে আমল নামায় যুক্ত হবে ইন শা আল্লাহ।
সাপোর্ট করুন