১
ইসলামি আকিদা ও মানবপ্রকৃতি
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৭
আকিদার সূচনা:
আল্লাহ বলেন,
﴿ سَنُرِيهِمۡ ءَايَٰتِنَا فِي ٱلۡأٓفَاقِ وَفِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمۡ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّۗ أَوَ لَمۡ يَكۡفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ ٥٣ أَلَآ إِنَّهُمۡ فِي مِرۡيَةٖ مِّن لِّقَآءِ رَبِّهِمۡۗ أَلَآ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَيۡءٖ مُّحِيطُۢ ٥٤ ﴾ [ فصلت : ٥٣، ٥٤ ]
“বিশ্বজগতের প্রান্তদেশে ও তাদের নিজেদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে এ বিশ্বাস ও আকিদা সুস্পষ্ট হয় যে, এ কুরআন সত্য; তোমার রবের জন্য এটাই যথেষ্ট নয় কি যে, তিনি সকল বিষয়ে সাক্ষী?” [সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ, আয়াত: ৫৩] মূলত পার্থিব জগত, এর চাহিদা ও প্রয়োজন-ই মানুষের ভেতর আকিদার জনক। প্রতিদিন সে নিজস্ব কর্ম ও কর্তব্য সাধনে আকিদার সম্মুখীন হয়। তার সমস্ত চেষ্টা, সকল সাধনা, সমূহ অভিপ্রায় উন্মুখ থাকে এক অদৃশ্য সত্তার কৃপার তরে। তার নিকট-ই সে স্বীয় কর্মের প্রতিদান কামনা করে। যেমন, ব্যবসায়ী মূলধন বিনিয়োগ করে লাভের জন্য, অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থতার জন্য, কৃষক বীজ বপন করে ফসলের জন্য এক অদৃশ্য সত্তার প্রতি ভরসা করে। তদ্রূপ সকল মুখাপেক্ষী ও পরনির্ভরশীল ব্যক্তি-ই আশা-ভরসার জন্য এক মহান সত্তা তথা আল্লাহর অনুগ্রহে বিশ্বাসী। কারণ, যা সে কামনা করে তা অর্জন করতে পারে না, আবার যার থেকে পলায়ন করে সেই তাকে আক্রমণ করে। [আল্লাহ বলেন, “মানুষ যা চায়, তা-কি সে পায়? (না-পায় না; জেনে রাখ) পূর্বাপর সমস্ত মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৪-২৫]]
মানুষের অক্ষমতার আরো উদাহরণ, মানুষ শান্তি, নিরাপদ ও পরস্পর মিল মহব্বতে বাস করতে চাইলেও পারে না, পাহাড় সম বাধা আর সমুদ্রের সারি সারি ঢেউয়ের ন্যায় জটিলতা এসে হাযির হয়। [আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর নি‘আমতরাজির কথা স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু; আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে মিলিয়ে দিয়েছেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]] মানুষের সবচেয়ে বড় অক্ষমতার প্রমাণ স্বীয় মন ও সত্তার সাথে বৈরিতা। [আল্লাহ বলেন, “জেনে রাখ, আল্লাহ বান্দা ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্দক সেজে যান।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪]] তবে আল্লাহ মুমিনদের ওপর খাস রহমত তথা শান্তি অবতীর্ণ করেন। [আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ করেছেন।” [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ২৬]] এসব ব্যাপার ও বিষয়বস্তু মানুষের ক্ষমতার বাইরে, সাধ্যের অতীত, আর এখানেই আল্লাহর পরিচয়। ফলে স্বভাবত মানুষ আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী। এটা-ই তার প্রকৃতিগত ও স্বভাবসিদ্ধ।
নৃবিজ্ঞান ও নৃতত্ত্ব বিদ্যা প্রমাণ করেছে, মানুষের জ্ঞান; আংশিক, সামান্য, সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী। তার জ্ঞান কষ্টার্জিত, অভিজ্ঞতালব্ধ। পূর্বে ছিল না, হালেও অনিশ্চিত, আজীবনও বিদ্যমান থাকবে না। যে কোনো দুর্ঘটনা ও বিপদে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যেমন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বিকলত্ব, স্মৃতি শক্তির লোপ, দূরত্ব ও সীমাবদ্ধতায় আংশিক কিংবা পূর্ণ জ্ঞান অর্জনে অক্ষমতা। দূরের জিনিস দেখা যায় না, দূরের শব্দ শুনা যায় না। আবার সামনে কিংবা শরীরযুক্ত না-হলেও দেখা যায় না। শরীর ও আকৃতির মাধ্যমে সামান্য জ্ঞান লাভ করা যায় মাত্র। [আল-ওশী‘আহ ফী নাকদি আকাইদিশ শী‘আহ, পৃ.১২-১৩, লাহোর, পাকিস্তান, ১৪০৩ হি. ১৯৮৩। অনুরূপ আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ান: দেরাসাহ মুকারানা: ৪৮, ড. মুস্তাফা হিলমি]
﴿ سَنُرِيهِمۡ ءَايَٰتِنَا فِي ٱلۡأٓفَاقِ وَفِيٓ أَنفُسِهِمۡ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَهُمۡ أَنَّهُ ٱلۡحَقُّۗ أَوَ لَمۡ يَكۡفِ بِرَبِّكَ أَنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ شَهِيدٌ ٥٣ أَلَآ إِنَّهُمۡ فِي مِرۡيَةٖ مِّن لِّقَآءِ رَبِّهِمۡۗ أَلَآ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَيۡءٖ مُّحِيطُۢ ٥٤ ﴾ [ فصلت : ٥٣، ٥٤ ]
“বিশ্বজগতের প্রান্তদেশে ও তাদের নিজেদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে এ বিশ্বাস ও আকিদা সুস্পষ্ট হয় যে, এ কুরআন সত্য; তোমার রবের জন্য এটাই যথেষ্ট নয় কি যে, তিনি সকল বিষয়ে সাক্ষী?” [সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ, আয়াত: ৫৩] মূলত পার্থিব জগত, এর চাহিদা ও প্রয়োজন-ই মানুষের ভেতর আকিদার জনক। প্রতিদিন সে নিজস্ব কর্ম ও কর্তব্য সাধনে আকিদার সম্মুখীন হয়। তার সমস্ত চেষ্টা, সকল সাধনা, সমূহ অভিপ্রায় উন্মুখ থাকে এক অদৃশ্য সত্তার কৃপার তরে। তার নিকট-ই সে স্বীয় কর্মের প্রতিদান কামনা করে। যেমন, ব্যবসায়ী মূলধন বিনিয়োগ করে লাভের জন্য, অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থতার জন্য, কৃষক বীজ বপন করে ফসলের জন্য এক অদৃশ্য সত্তার প্রতি ভরসা করে। তদ্রূপ সকল মুখাপেক্ষী ও পরনির্ভরশীল ব্যক্তি-ই আশা-ভরসার জন্য এক মহান সত্তা তথা আল্লাহর অনুগ্রহে বিশ্বাসী। কারণ, যা সে কামনা করে তা অর্জন করতে পারে না, আবার যার থেকে পলায়ন করে সেই তাকে আক্রমণ করে। [আল্লাহ বলেন, “মানুষ যা চায়, তা-কি সে পায়? (না-পায় না; জেনে রাখ) পূর্বাপর সমস্ত মঙ্গলই আল্লাহর হাতে।” [সূরা আন-নাজম, আয়াত: ২৪-২৫]]
মানুষের অক্ষমতার আরো উদাহরণ, মানুষ শান্তি, নিরাপদ ও পরস্পর মিল মহব্বতে বাস করতে চাইলেও পারে না, পাহাড় সম বাধা আর সমুদ্রের সারি সারি ঢেউয়ের ন্যায় জটিলতা এসে হাযির হয়। [আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর নি‘আমতরাজির কথা স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু; আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহকে মিলিয়ে দিয়েছেন।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩]] মানুষের সবচেয়ে বড় অক্ষমতার প্রমাণ স্বীয় মন ও সত্তার সাথে বৈরিতা। [আল্লাহ বলেন, “জেনে রাখ, আল্লাহ বান্দা ও তার অন্তরের মাঝে প্রতিবন্দক সেজে যান।” [সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২৪]] তবে আল্লাহ মুমিনদের ওপর খাস রহমত তথা শান্তি অবতীর্ণ করেন। [আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ স্বীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ করেছেন।” [সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ২৬]] এসব ব্যাপার ও বিষয়বস্তু মানুষের ক্ষমতার বাইরে, সাধ্যের অতীত, আর এখানেই আল্লাহর পরিচয়। ফলে স্বভাবত মানুষ আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী। এটা-ই তার প্রকৃতিগত ও স্বভাবসিদ্ধ।
নৃবিজ্ঞান ও নৃতত্ত্ব বিদ্যা প্রমাণ করেছে, মানুষের জ্ঞান; আংশিক, সামান্য, সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী। তার জ্ঞান কষ্টার্জিত, অভিজ্ঞতালব্ধ। পূর্বে ছিল না, হালেও অনিশ্চিত, আজীবনও বিদ্যমান থাকবে না। যে কোনো দুর্ঘটনা ও বিপদে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। যেমন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বিকলত্ব, স্মৃতি শক্তির লোপ, দূরত্ব ও সীমাবদ্ধতায় আংশিক কিংবা পূর্ণ জ্ঞান অর্জনে অক্ষমতা। দূরের জিনিস দেখা যায় না, দূরের শব্দ শুনা যায় না। আবার সামনে কিংবা শরীরযুক্ত না-হলেও দেখা যায় না। শরীর ও আকৃতির মাধ্যমে সামান্য জ্ঞান লাভ করা যায় মাত্র। [আল-ওশী‘আহ ফী নাকদি আকাইদিশ শী‘আহ, পৃ.১২-১৩, লাহোর, পাকিস্তান, ১৪০৩ হি. ১৯৮৩। অনুরূপ আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ান: দেরাসাহ মুকারানা: ৪৮, ড. মুস্তাফা হিলমি]