hadith book logo

ইসলামি আকিদা ও মানবপ্রকৃতি

লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২০

ইসলামি আকিদার মূল ভিত্তি তাওহীদ:

ঐতিহাসিক পর্যালোচনার প্রেক্ষিতে প্রমাণিত মানবীয় জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী একমাত্র আদর্শ তাওহীদ। শর্ত এর আলোকে মানসিক চিন্তাধারা, আবেগ-অনুভূতি ও আচরণবিধির সুষ্ঠু পরিচালন। এ আকিদায় পরিতৃপ্ত ব্যক্তি যে পরিমাণ ত্যাগ, যে পরিমাণ কষ্টসাধ্য কর্ম সম্পাদন করতে পারে, তা এ আকিদাশূন্য অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

ইসলাম তার প্রথম যুগের অনুসারীদের দ্বারা যে বিরল দৃষ্টান্ত পেশ করেছে, তা সমগ্র মানব ইতিহাসে অদ্বিতীয়। যা শুধু আবূ বকর, উমার, উসমান, আলী কিংবা ইতিহাসে জাজ্বল্যমান সীমিত কতক নামসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যদিও এ নামগুলোর মানব ইতিহাসে জুড়ি মেলা ভার। তদুপরি তাদের ভিন্ন হাজার হাজার ব্যক্তি ও উদাহরণ বিদ্যমান আছে, ইতিহাস যাদের লিপিবদ্ধ করতে অক্ষম-অসমর্থ, অসম্পূর্ণ-অপর্যাপ্ত। তাই তো আমরা লক্ষ্য করি, ঐতিহাসিকগণ এ জাতির সমৃদ্ধ-বিক্ষিপ্ত দেদীপ্যমান ইতিহাস আদ্যপান্ত লিপিবদ্ধ করার স্বীয় অসামর্থতা প্রত্যক্ষ করত শুধু ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে এক পর্বের শিরোনাম থেকে অন্য পর্বের শিরোনাম আবিস্কার করছে। কারণ তাদের দৃষ্টিতে এ আকিদার উর্বর ভূমি থেকে এ ধরনের দৃষ্টান্ত অঙ্কুরিত হওয়াই স্বাভাবিক।

উদাহরণত: আল্লাহর রাস্তায় জেহাদের জন্য উৎসর্গিত সে সৈনিকের ব্যাপারটি আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করবো? যে হাতে বিদ্যমান কয়েকটি খেজুর এ বলে নিক্ষেপ করেছিলো, এগুলো খাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাও দীর্ঘ হায়াত বৈকি? অতঃপর তা নিক্ষেপ করে শাহাদাতের অদম্য স্পৃহায় যুদ্ধের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ে, আর স্বর্গীয় সুধা পান করে সচল দেহ নিথর করে পার্থিব অধ্যায়ের ইতি টানে।

পারস্যের মোকাবেলায় সে যুদ্ধবাজ লড়াকুর মূল্যায়ন কীভাবে করবো, যে স্বীয় বর্ম পরিধান করলে সাথীরা তাতে ছিদ্র দেখে সাবধান করে দেয়, এবং পরিবর্তন করতে বলে। সে হেসে উত্তর দিল এ ছিদ্রজনিত আঘাতে মারা গেলে অবশ্যই আমি আল্লাহর কাছে সমাদৃত হব। কালক্ষেপন না করে ময়দানে ঝাপিয়ে পড়ে সে। অকস্মাৎ ছিদ্র দিয়ে আঘাত হানে একটি তীর, ফলে সহাস্য বদনে চক্ষুশীতলকারী শাহাদাত আলিঙ্গন করে সে। এ উপলব্ধি নিয়ে- আল্লাহর নিকট সম্মানিত সে, যেহেতু তার মন স্বতঃস্ফুর্ত সায় দিয়েছে শাহাদাতে।

কীভাবে মূল্যায়ন করবো তাদের নজিরবিহীন পরোপকারের মাহাত্ম্য? যারা সংগ্রহে রাখা সমস্ত খেজুর নিয়ে খেতে বসে, অতঃপর একজন মেহমান উপস্থিত হলে, বাতি নিভিয়ে দেয় এবং মেহমানের সামনে খেজুর পেশ করে, যাতে সে বুঝতে না পারে- এটুকুই তাদের সমস্ত খাদ্য, এবং যাতে খানা থেকে বিরত না হয়। [তাদের ব্যাপারেই অবতীর্ণ হয় “যারা মুহাজিরদের পূর্বে মদিনায় বসতি স্থাপন করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে, মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষাপোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম।” [সূরা আল-হাশর, আয়াত: ৯]]

প্রতিটি ব্যাপারে এ ধরনের হাজারো উদাহরণ বিদ্যমান আছে, আর প্রত্যেকটি উপমাই এমন স্তরের যা মানব কৃতিত্বের চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।

আমরা এখানে সীমিত কয়েকটি দফায় মুসলিম মিল্লাতের জীবনে এ আকিদার প্রভাব ও কার্যকারিতা নিয়ে আলোকপাত করবো। অতঃপর এ আকিদা প্রত্যাখ্যানকারীদের জীবনেও এর প্রভাব সম্পর্কে সামান্য আলোকপাত করবো।