১
ইসলামি আকিদা ও মানবপ্রকৃতি
লেখকঃ সানাউল্লাহ নজির আহমাদ • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৪
২. প্রকৃতি:
আল্লাহ কর্তৃক ভূ-মণ্ডল ও নভোমণ্ডলের নির্মাণ কৌশল এবং উভয়ের মধ্যস্থিত জড়জগৎ, উদ্ভিদ জগৎ ও প্রাণী জগতের নিরন্তর চলমানতার স্বাভাবিকতা ও চলমানতা-ই প্রকৃতি। আমাদের উপরস্থিত সুনিপুণ ও সুশোভিত আকাশ; তাতে নেই কোনো ত্রুটি, নেই কোনো ছিদ্র। আমাদের পদতলে বিস্তৃত ভুমি; এতে স্থাপিত হয়েছে পর্বতমালার ভার, এতেই উদ্গত হয় সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ। এ সবই আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতি; অনুরাগী ও কৃতজ্ঞ বান্দার জ্ঞান আহরণ ও আল্লাহকে স্মরণ করার মতো ধ্রুব উপজীব্য। [আল্লাহ বলেন, “তারা কি তাদের উপরে আসমানের দিকে তাকায় না, কীভাবে আমি তা বানিয়েছি এবং তা সুশোভিত করেছি? আর তাতে কোনো ফাটল নেই। আর আমি যমীনকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক প্রকারের সুদৃশ্য উদ্ভিদ উদ্গত করেছি। আল্লাহ অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশ হিসেবে।” [সূরা ক্বাফ, আয়াত: ৬-৮]] প্রভাত রশ্মি [আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ প্রভাত রশ্মির উন্মেষক।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ৯৬]] ভূ-মণ্ডলের বিভিন্ন শষ্যক্ষেত্র, যা পরস্পর মিলিত ও সংলগ্ন; আরো আছে আঙ্গুরের বাগান, শষ্য ও খর্জুর- পরস্পর মিলিত ও বিচ্ছিন্ন উভয় প্রকার। যা একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়। তার পরেও একটি অপরটির চেয়ে উৎকৃষ্ট, স্বাদে ভিন্ন। এসবই প্রকৃতি, স্বীয় স্রষ্টার নিদর্শন। [আল্লাহ বলেন, “আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভূখন্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর আমি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করে দিই, এতে রয়েছে নিদর্শন জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ৪]] আরো আছে আলোকময় উজ্জ্বল সূর্য, স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারী চন্দ্র। যা নির্ধারিত ও সুর্নিদিষ্ট কক্ষপথসমূহে ঘুর্ণায়মান। এর দ্বারা আমরা নির্ণয় করি বছরের হিসাব, মাসের সংখ্যা। অযথা সৃষ্ট করা হয় নি এ প্রকৃতি, এতে রয়েছে মহৎ উদ্দেশ্য, বাস্তবতার চাহিদা ও মানব প্রয়োজন। [আল্লাহ বলেন, “তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময় আর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল, যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।” [সূরা ইউনুস, আয়াত: ৫]] এ হলো এককভাবে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্ট প্রকৃতি। একমাত্র মানব ও মানুষের জন্যই। [আল্লাহ বলেন, “তিনিই একমাত্র তোমাদের জন্য এ দুনিয়ার সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৯]] ভাগ্যবান ও সফলকাম সে ব্যক্তি যে প্রকৃতি নিয়ে চিন্তা করে এর থেকে জ্ঞান আহরণে সচেষ্ট হয়।