১
সহীহ সুন্নাহ’র আলোকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য
লেখকঃ ওয়াহিদ ইবন আবদিস সালাম বালী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ১৮
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: জান্নাতবাসীদের পোষাক-পরিচ্ছদ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَلُؤۡلُؤٗاۖ وَلِبَاسُهُمۡ فِيهَا حَرِيرٞ ٢٣ ﴾ [ الحج : ٢٣ ]
“সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।” [সূরা আল-হাজ্জ: ২৩]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَيَلۡبَسُونَ ثِيَابًا خُضۡرٗا مِّن سُندُسٖ وَإِسۡتَبۡرَقٖ مُّتَّكِِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِۚ نِعۡمَ ٱلثَّوَابُ وحَسُنَتۡ مُرۡتَفَقٗا ٣١ ﴾ [ الكهف : ٣١ ]
“সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল!” [সূরা আল-কাহাফ: ৩১]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ عَٰلِيَهُمۡ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضۡرٞ وَإِسۡتَبۡرَقٞۖ وَحُلُّوٓاْ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٖ وَسَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ شَرَابٗا طَهُورًا ٢١ ﴾ [ الانسان : ٢١ ]
“তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।” [সূরা আল-ইনসান: ২১]
৬৪. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لاَ يَبْأَسُ , لاَ تَبْلَى ثِيَابُهُ , وَلاَ يَفْنَى شَبَابُهُ » . ( رواه مسلم ) .
“যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে ব্যক্তি শুধু সুখ-শান্তি উপভোগ করবে, কখনও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে না; তার পোষাক-পরিচ্ছদ পুরাতন হবে না এবং তার যৌবন কখনও বিনষ্ট হবে না।” [মুসলিম (১৭ / ৭৪ - নববী)।]
৬৫. আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أول زمرة يدخلون الجنة كأن وجوههم ضوء القمر ليلة البدر , والزمرة الثانية على لون أحسن كوكب درى فى السماء , لكل رجل منهم زوجتان من الحور العين , على كل زوجة سبعون حلة , يرى مخ سوقهما من وراء لحومهما وحللها كما يرى الشراب الأحمر فى الزجاجة البيضاء » . ( رواه الطبراني ) .
“সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মুখমণ্ডল মনে হবে যেন পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আলোর মত উজ্জ্বল। আর দ্বিতীয় দল হবে আকাশের সর্বাধিক দীপ্তিমান উজ্জ্বল তারকার মত সুন্দর বর্ণের। আর তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূরদের মধ্য থেকে দু’জন স্ত্রী থাকবে, প্রত্যেক স্ত্রী’র গায়ে থাকবে সত্তর সেট পোষাক, যার সৌন্দর্যের ফলে গোশত ও তার পোষাক ভেদ করে পায়ের নলার হাঁড়ের মজ্জা ঠিক তেমনিভাবে দেখা যাবে, যেমনিভাবে সাদা গ্লাসের মধ্যে লাল পানীয় দেখা যায়।” [তাবারানী হাদিসটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, যা হাফেয আল-মুনযেরী ‘আত-তারগীব’ ( الترغيب ) নামক গ্রন্থের মধ্যে (৬ / ৩০১) বলেছেন।]
৬৬. আবদুল্লা ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه و سلم , فقال : يا رسول الله ! أخبرنا عن ثياب أهل الجنة خلقا تخلق أم نسجا تنسج ؟ فضحك بعض القوم , فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : مم تضحكون ؟ ! من جاهل يسأل عالما ؟ ثم أكب رسول الله صلى الله عليه و سلم , ثم قال : أين السائل ؟ قال : هو ذا أنا يا رسول الله . قال : لا , بل تشقق عنها ثمر الجنة ثلاث مرات » . ( رواه أحمد ) .
“কোনো এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন করল, তারপর বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে জান্নাতবাসীদের কাপড় সম্পর্কে বলে দিন, তা কি সৃষ্টি করা হবে, নাকি বয়ন করা হবে? তখন কাওমের (সম্প্রদায়ের) কেউ কেউ হাসল, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা কেন হাসছ?! অজ্ঞ ব্যক্তি জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট প্রশ্ন করার কারণে? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রশ্নকর্তার বিষয়ে) মনোনিবেশ করলেন, তারপর বললেন: প্রশ্নকর্তা কোথায়? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এই তো আমি। তখন তার প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন: না; বরং (গাছ থেকে হবে) জান্নাতের ফলসমূহ থেকে তা ফেটে বেরিয়ে আসবে। (এই কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন)।” [ইমাম আহমদ র. হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; আর শাইখ আলবানীও তার ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহা’ ( السلسلة الصحيحة ) নামক গ্রন্থেরে মধ্যে (৪ / ৬৪০) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।]
﴿ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَلُؤۡلُؤٗاۖ وَلِبَاسُهُمۡ فِيهَا حَرِيرٞ ٢٣ ﴾ [ الحج : ٢٣ ]
“সেখানে তাদেরকে অলংকৃত করা হবে সোনার কাঁকন ও মুক্তা দ্বারা এবং সেখানে তাদের পোষাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের।” [সূরা আল-হাজ্জ: ২৩]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ يُحَلَّوۡنَ فِيهَا مِنۡ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٖ وَيَلۡبَسُونَ ثِيَابًا خُضۡرٗا مِّن سُندُسٖ وَإِسۡتَبۡرَقٖ مُّتَّكِِٔينَ فِيهَا عَلَى ٱلۡأَرَآئِكِۚ نِعۡمَ ٱلثَّوَابُ وحَسُنَتۡ مُرۡتَفَقٗا ٣١ ﴾ [ الكهف : ٣١ ]
“সেখানে তাদেরকে স্বর্ণ কংকনে অলংকৃত করা হবে, তারা পরবে সূক্ষ্ম ও পুরু রেশমের সবুজ বস্ত্র, আর তারা সেখানে থাকবে হেলান দিয়ে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর পুরস্কার ও উত্তম বিশ্রামস্থল!” [সূরা আল-কাহাফ: ৩১]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
﴿ عَٰلِيَهُمۡ ثِيَابُ سُندُسٍ خُضۡرٞ وَإِسۡتَبۡرَقٞۖ وَحُلُّوٓاْ أَسَاوِرَ مِن فِضَّةٖ وَسَقَىٰهُمۡ رَبُّهُمۡ شَرَابٗا طَهُورًا ٢١ ﴾ [ الانسان : ٢١ ]
“তাদের আবরণ হবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশম, আর তারা অলংকৃত হবে রৌপ্য নির্মিত কংকনে, আর তাদের রব তাদেরকে পান করাবেন পবিত্র পানীয়।” [সূরা আল-ইনসান: ২১]
৬৪. আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لاَ يَبْأَسُ , لاَ تَبْلَى ثِيَابُهُ , وَلاَ يَفْنَى شَبَابُهُ » . ( رواه مسلم ) .
“যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে ব্যক্তি শুধু সুখ-শান্তি উপভোগ করবে, কখনও দুঃখ-কষ্ট ভোগ করবে না; তার পোষাক-পরিচ্ছদ পুরাতন হবে না এবং তার যৌবন কখনও বিনষ্ট হবে না।” [মুসলিম (১৭ / ৭৪ - নববী)।]
৬৫. আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«أول زمرة يدخلون الجنة كأن وجوههم ضوء القمر ليلة البدر , والزمرة الثانية على لون أحسن كوكب درى فى السماء , لكل رجل منهم زوجتان من الحور العين , على كل زوجة سبعون حلة , يرى مخ سوقهما من وراء لحومهما وحللها كما يرى الشراب الأحمر فى الزجاجة البيضاء » . ( رواه الطبراني ) .
“সর্বপ্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের মুখমণ্ডল মনে হবে যেন পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আলোর মত উজ্জ্বল। আর দ্বিতীয় দল হবে আকাশের সর্বাধিক দীপ্তিমান উজ্জ্বল তারকার মত সুন্দর বর্ণের। আর তাদের প্রত্যেকের জন্য ডাগর চক্ষুবিশিষ্টা হূরদের মধ্য থেকে দু’জন স্ত্রী থাকবে, প্রত্যেক স্ত্রী’র গায়ে থাকবে সত্তর সেট পোষাক, যার সৌন্দর্যের ফলে গোশত ও তার পোষাক ভেদ করে পায়ের নলার হাঁড়ের মজ্জা ঠিক তেমনিভাবে দেখা যাবে, যেমনিভাবে সাদা গ্লাসের মধ্যে লাল পানীয় দেখা যায়।” [তাবারানী হাদিসটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন, যা হাফেয আল-মুনযেরী ‘আত-তারগীব’ ( الترغيب ) নামক গ্রন্থের মধ্যে (৬ / ৩০১) বলেছেন।]
৬৬. আবদুল্লা ইবন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
« جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه و سلم , فقال : يا رسول الله ! أخبرنا عن ثياب أهل الجنة خلقا تخلق أم نسجا تنسج ؟ فضحك بعض القوم , فقال رسول الله صلى الله عليه و سلم : مم تضحكون ؟ ! من جاهل يسأل عالما ؟ ثم أكب رسول الله صلى الله عليه و سلم , ثم قال : أين السائل ؟ قال : هو ذا أنا يا رسول الله . قال : لا , بل تشقق عنها ثمر الجنة ثلاث مرات » . ( رواه أحمد ) .
“কোনো এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন করল, তারপর বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদেরকে জান্নাতবাসীদের কাপড় সম্পর্কে বলে দিন, তা কি সৃষ্টি করা হবে, নাকি বয়ন করা হবে? তখন কাওমের (সম্প্রদায়ের) কেউ কেউ হাসল, তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমরা কেন হাসছ?! অজ্ঞ ব্যক্তি জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট প্রশ্ন করার কারণে? অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রশ্নকর্তার বিষয়ে) মনোনিবেশ করলেন, তারপর বললেন: প্রশ্নকর্তা কোথায়? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এই তো আমি। তখন তার প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন: না; বরং (গাছ থেকে হবে) জান্নাতের ফলসমূহ থেকে তা ফেটে বেরিয়ে আসবে। (এই কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন)।” [ইমাম আহমদ র. হাদিসটি বর্ণনা করেছেন; আর শাইখ আলবানীও তার ‘আস-সিলসিলাতুস সহীহা’ ( السلسلة الصحيحة ) নামক গ্রন্থেরে মধ্যে (৪ / ৬৪০) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।]