hadith book logo

সহীহ সুন্নাহ’র আলোকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য

লেখকঃ ওয়াহিদ ইবন আবদিস সালাম বালী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২

দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ; শান্তি বর্ষিত হউক তাঁর ঐসব বান্দাদের উপর, যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন; আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল। আর আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, পুনরুত্থান সত্য, কিয়ামত সত্য, সিরাত (পুলসিরাত) সত্য, হিসাব-নিকাশ সত্য এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা কিছু বলেছেন, তার সবকিছুই সত্য।

অতঃপর:

যখন " وصف الجنة و النار من صحيح الأخبار "(সহীহ হাদিসের আলোকে জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা) নামক গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি প্রকাশ পায়, তখন আমি দেখলাম যে, তার ব্যাপারে এবং তার বাইরে অন্যান্য গ্রন্থ ও পাণ্ডুলিপির ব্যাপারে মানুষের সবিশেষ আকর্ষণ, যেগুলোতে শুধু সহীহ হাদিসই সংকলিত হয়েছে এবং তার মধ্য থেকে এই বিশাল একটি সংখ্যা বিতরণ করা হয়ে গেছে; আর এটা বার্তা বহন করে নির্ভেজাল জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক জাগরণের; আমাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, একজনন সত্যিকার মুসলিম যুবক এমন নয় যে, তার নিকট প‍ঁচা ও মূল্যবান সবকিছু যাই পেশ করা হবে তা সমভাবে গ্রহণ করবে; বরং সে বাছাই ও পছন্দ করে গ্রহণ করবে; কারণ, জীবন সংক্ষিপ্ত, আর জ্ঞানের পরিধি অনেক ব্যাপক।

আর এ জন্যই আমি এই পুস্তিকার মধ্যে পুনরায় দৃষ্টি দিয়েছি; অতঃপর আমি প্রথম সংস্করণের মধ্যে হওয়া ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করে নিয়েছি এবং ২১ নং হাদিসটি বিলুপ্ত করে দিয়েছি; কারণ, তার সনদের উৎকৃষ্টতা ও বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আমি হাফেয আল-মুনযেরীকে অনুসরণ করেছিলাম, অতঃপর আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, এটা হয়েছিল তাঁর উদারত ও নমনীয়তার কারণে; অতঃপর আমি প্রত্যেকটি পরিচ্ছেদের শুরুতে প্রাসঙ্গিক আয়াতসমূহ প্রতিস্থাপন করেছি এবং কয়েকটি হাদিস অতিরিক্ত উল্লেখ করেছি, যা প্রথম সংস্করণের সাথে তুলনা করলে স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। পূর্বের সংস্করণে হাদীস সংখ্যা ছিল ৭৫টি; আর দ্বিতীয় সংস্করণে হাদিসের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬টিতে [প্রকৃতপক্ষে এই বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণে হাদিসের সংখ্যা হবে ৯৫টি; কেননা, হাদিসের ক্রমিক নং উল্লেখ করার সময় ৭১ এর পরে ৭২ না লিখে ৭৩ লিখেছেন। আর আমিও লেখক যেভাবে হাদিসের ক্রমিক সংখ্যা ব্যবহার করেছেন ঠিক সেভাবে ব্যবহার করেছি। - অনুবাদক।]।

অতঃপর আমি জানিয়ে দিতে চাই যে, এর মধ্যে যা বর্ণিত হয়েছে, তাকেই আমি চূড়ান্ত সংখ্যা বলে মনে করি না; বরং আমি বিষয়বস্তুর উপর তাকে সংক্ষিপ্ত উদ্দীপক হিসেবে উপস্থাপন করেছি; আর অনুরূপভাবে তথ্য পেশ ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করি নি; তবে পাঠকের সামনে হাদিসের মান সম্পর্কিত একেবারে কাছাকাছি ও সর্বজন প্রসিদ্ধ পদ্ধতিটি পেশ করেছি।

এই তো আমার কথা; আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা’র নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি যাতে তাঁর অনুগ্রহ ও করুনায় পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, আমাদেরকে উপকারী ও সঠিক জ্ঞান দান করেন এবং আমাদের জ্ঞানকে কিয়ামতের দিনে আমাদের জন্য দলিল-প্রমাণ বানিয়ে দেন।

হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসাসহ তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোনো হক্ক ইলাহ নেই, আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট তাওবা করছি।

লেখক:

আল্লাহ তা‘আলার দারস্থ এক ফকীর বান্দা

ওয়াহিদ ইবন আবদিস সালাম বালী

১৪ সাওয়াল ১৪১০ হি.