hadith book logo

সহীহ সুন্নাহ’র আলোকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য

লেখকঃ ওয়াহিদ ইবন আবদিস সালাম বালী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৯

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: জান্নাতের বিছানা

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

﴿ فِيهَا سُرُرٞ مَّرۡفُوعَةٞ ١٣ وَأَكۡوَابٞ مَّوۡضُوعَةٞ ١٤ وَنَمَارِقُ مَصۡفُوفَةٞ ١٥ وَزَرَابِيُّ مَبۡثُوثَةٌ ١٦ ﴾ [ الغاشية : ١٣، ١٦ ]

“সেখানে থাকবে উন্নত শয্যাসমূহ, আর প্রস্তুত থাকবে পানপাত্র, সারি সারি উপাধান এবং বিছানা গালিচা।” [সূরা আল-গাশিয়া: ১৩ - ১৬]

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ مُتَّكِ‍ِٔينَ عَلَىٰ فُرُشِۢ بَطَآئِنُهَا مِنۡ إِسۡتَبۡرَقٖۚ وَجَنَى ٱلۡجَنَّتَيۡنِ دَانٖ ٥٤ ﴾ [ الرحمن : ٥٤ ]

“সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে এমন ফরাশে যার অভ্যন্তরভাগ হবে পুরু রেশমের। আর দুই উদ্যানের ফল হবে কাছাকাছি।” [সূরা আর-রাহমান: ৫৪]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:

﴿ مُتَّكِ‍ِٔينَ عَلَىٰ رَفۡرَفٍ خُضۡرٖ وَعَبۡقَرِيٍّ حِسَانٖ ٧٦ ﴾ [ الرحمن : ٧٦ ]

“তারা হেলান দিয়ে বসবে সবুজ তাকিয়ায় ও সুন্দর গালিচার উপরে।” [সূরা আর-রাহমান: ৭৬]

৬৭. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿ وَفُرُشٖ مَّرۡفُوعَةٍ ٣٤ ﴾ [আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ] প্রসঙ্গে বলেছেন:

« ارتفاعها كما بين السماء والأرض , مسيرة ما بينها خمسمائة عام » . ( رواه ابن أبي الدنيا و الترمذي ) .

“তার (বিছানার) উচ্চতা হবে আসমান এবং যমীনের মধ্যকার উচ্চতার মত, তার মধ্যকার আয়তন হল পাঁচশত বছরের ভ্রমণপথের দূরেত্বের সমান।” [ইবনু আবিদ দুনিয়া; তিরমিযী (৪ / ৮৬), তিনি বলেছেন: “হাদিসটি হাসান গরীব, হাদিসটিকে আমরা শুধু রাশেদীন ইবন সা‘দ কর্তৃক বর্ণিত হাদিস হিসেবেই জানি।”আমি বলি: বরং ইবনু হিব্বান ও বায়হাকী র. এর মতে, ইবনু ওহাব এই হাদিসটির মত হাদিস বর্ণনা করেছেন, যেমনিভাবে হাফেয ইবনু কাছীর এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন (৪ / ৩১২)।অতঃপর আমি ইমাম আহমদ র. এর নিকট এই হাদিসটির অপর আরেকটি সনদ পেয়েছি, ইবনু কাছীর র. (৪ / ৩১২) ইবনু লাহি‘আ’র হাদিস হিসেবে উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি বলেছেন: আমাদেরকে দাররাজ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার ‘তাদলীস’ হওয়া সম্ভাবনাকে নাকচ করে দিয়েছেন; সুতরাং হাদিসটি উৎকৃষ্ট এবং তার সনদগুলো দ্বারা শক্তিশালী, আলহামদুলিল্লাহ।]

৬৮. আবদুল্লাহ ইবন মাস‘উদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার বাণী: ﴿ بَطَآئِنُهَا مِنۡ إِسۡتَبۡرَقٖۚ ﴾ [যার অভ্যন্তরভাগ হবে পুরু রেশমের] প্রসঙ্গে বলেছেন:

« قد أُخبرتم بالبطائن , فكيف بالظاهر ؟ !» . ( رواه البيهقي ) .

“তোমাদেরকে অভ্যন্তরভাগের ব্যাপারে জানানো হয়েছে, সুতরাং (ভেবে দেখ) তার বর্হিভাগের অবস্থা কেমন হতে পারে?! [ইমাম বায়হাকী র. হাদিসটি হাসান সনদে ‘মাওকুফ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা হাফেয আল-মুনযেরী ‘আত-তারগীব’ ( الترغيب ) নামক গ্রন্থের মধ্যে (৬ / ৩০৩) বলেছেন।]