১
সহীহ সুন্নাহ’র আলোকে জান্নাতের বৈশিষ্ট্য
লেখকঃ ওয়াহিদ ইবন আবদিস সালাম বালী • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১
পরিচ্ছেদঃ ৩০
সপ্তবিংশ পরিচ্ছেদ: জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَانَتۡ لَهُمۡ جَنَّٰتُ ٱلۡفِرۡدَوۡسِ نُزُلًا ١٠٧ خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يَبۡغُونَ عَنۡهَا حِوَلٗا ١٠٨ ﴾ [ الكهف : ١٠٧، ١٠٨ ]
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।” [সূরা আল-কাহাফ: ১০৭ - ১০৮]
৮৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ ؛ يُنَادِى مُنَادٍ : إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلاَ تَسْقَمُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلاَ تَمُوتُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلاَ تَهْرَمُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلاَ تَبْتَئِسُوا أَبَدًا » . فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ : ﴿وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ » . ( رواه مسلم ) .
“যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন এক ঘোষক এই বলে ঘোষণা করবে: নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য সুস্থতা রয়েছে, সুতরাং তোমরা আর কখনও অসুস্থ হবে না; আর তোমারা জীবিত, সুতরাং তোমরা কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; তোমরা নিশ্চয়ই যুবক হয়ে গেছ, সুতরাং তোমরা কখনও বৃদ্ধ হবে না; তোমাদের এখন সুখের জীবন, সুতরাং তোমরা আর কখনও দুঃখিত ও চিন্তিত হবে না। অতএব এটাই হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী’র চরম বাস্তবতা: ﴿وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ [আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এ জান্নাতের ওয়ারিস করা হয়েছে।’] [সূরা আল-আ‘রাফ: ৪৩]।” [মুসলিম (১৭ / ১৭৪ - নববী)।]
অর্থসহ হাদিসের বিশেষ শব্দ-তালিকা:
( لاَ تَبْتَئِسُوا ): তোমরা দুঃখ-কষ্ট অনুভব করবে না।
৮৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« يؤتى بالموت كهيئة كبش أملح , فينادي مناد : يا أهل الجنة ! فيشرئبون وينظرون , فيقول : هل تعرفون هذا ؟ فيقولون : نعم ؛ هذا الموت , وكلهم قد رآه . ثم ينادي : يا أهل النار ! فيشرئبون وينظرون , فيقول : هل تعرفون هذا ؟ فيقولون : نعم ؛ هذا الموت , وكلهم قد رآه , فيذبح . ثم يقول يا أهل الجنة ! خلود فلا موت , ويا أهل النار ! خلود فلا موت . ثم قرأ : ﴿ وأنذرهم يوم الحسرة إذ قضي الأمر وهم في غفلة وهؤلاء في غفلة أهل الدنيا وهم لا يؤمنون﴾ » . ( رواه البخاري و مسلم ) .
“কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে; তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিয়ে বলবে: হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে; তখন ঘোষক বলবে: তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে: হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কারণ, তারা প্রত্যেকেই একে দেখেছে। তারপর ঘোষণাকারী আবার ডাক দিয়ে বলবে: হে জাহান্নামবাসী! তখন তারা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে; তখন ঘোষক বলবে: তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে: হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা, তারা প্রত্যেকেই একে দেখেছে। তারপর (সেটি) যবেহ করা হবে। আর ঘোষক বলেবেন: হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক; তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক; তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: ﴿ وأنذرهم يوم الحسرة إذ قضي الأمر وهم في غفلة وهؤلاء في غفلة أهل الدنيا وهم لا يؤمنون﴾ [আর তাদেরকে সতর্ক করে দিন পরিতাপের দিন সম্বন্ধে, যখন সব সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। অথচ তারা রয়েছে গাফলতিতে নিমজ্জিত এবং তারা ঈমান আনছে না।] [সূরা মারইয়াম: ৩৯]।” [বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: তাফসীর ( كتاب التفسير ), পরিচ্ছেদ: সূরা মারইয়ামের তাফসীর ( باب تفسير سورة مريم ), হাদিস নং- ৪৪৫৩; মুসলিম (১৭ / ১৮৫ - নববী)।]
﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَانَتۡ لَهُمۡ جَنَّٰتُ ٱلۡفِرۡدَوۡسِ نُزُلًا ١٠٧ خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يَبۡغُونَ عَنۡهَا حِوَلٗا ١٠٨ ﴾ [ الكهف : ١٠٧، ١٠٨ ]
“নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে তারা স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।” [সূরা আল-কাহাফ: ১০৭ - ১০৮]
৮৮. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« إِذَا دَخَلَ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ ؛ يُنَادِى مُنَادٍ : إِنَّ لَكُمْ أَنْ تَصِحُّوا فَلاَ تَسْقَمُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَحْيَوْا فَلاَ تَمُوتُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَشِبُّوا فَلاَ تَهْرَمُوا أَبَدًا , وَإِنَّ لَكُمْ أَنْ تَنْعَمُوا فَلاَ تَبْتَئِسُوا أَبَدًا » . فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ : ﴿وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ » . ( رواه مسلم ) .
“যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন এক ঘোষক এই বলে ঘোষণা করবে: নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য সুস্থতা রয়েছে, সুতরাং তোমরা আর কখনও অসুস্থ হবে না; আর তোমারা জীবিত, সুতরাং তোমরা কখনও মৃত্যুবরণ করবে না; তোমরা নিশ্চয়ই যুবক হয়ে গেছ, সুতরাং তোমরা কখনও বৃদ্ধ হবে না; তোমাদের এখন সুখের জীবন, সুতরাং তোমরা আর কখনও দুঃখিত ও চিন্তিত হবে না। অতএব এটাই হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী’র চরম বাস্তবতা: ﴿وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ﴾ [আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এ জান্নাতের ওয়ারিস করা হয়েছে।’] [সূরা আল-আ‘রাফ: ৪৩]।” [মুসলিম (১৭ / ১৭৪ - নববী)।]
অর্থসহ হাদিসের বিশেষ শব্দ-তালিকা:
( لاَ تَبْتَئِسُوا ): তোমরা দুঃখ-কষ্ট অনুভব করবে না।
৮৯. আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
« يؤتى بالموت كهيئة كبش أملح , فينادي مناد : يا أهل الجنة ! فيشرئبون وينظرون , فيقول : هل تعرفون هذا ؟ فيقولون : نعم ؛ هذا الموت , وكلهم قد رآه . ثم ينادي : يا أهل النار ! فيشرئبون وينظرون , فيقول : هل تعرفون هذا ؟ فيقولون : نعم ؛ هذا الموت , وكلهم قد رآه , فيذبح . ثم يقول يا أهل الجنة ! خلود فلا موت , ويا أهل النار ! خلود فلا موت . ثم قرأ : ﴿ وأنذرهم يوم الحسرة إذ قضي الأمر وهم في غفلة وهؤلاء في غفلة أهل الدنيا وهم لا يؤمنون﴾ » . ( رواه البخاري و مسلم ) .
“কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকৃতিতে আনা হবে; তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিয়ে বলবে: হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড় মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে; তখন ঘোষক বলবে: তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে: হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কারণ, তারা প্রত্যেকেই একে দেখেছে। তারপর ঘোষণাকারী আবার ডাক দিয়ে বলবে: হে জাহান্নামবাসী! তখন তারা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে; তখন ঘোষক বলবে: তোমরা কি একে চিন? তারা বলবে: হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা, তারা প্রত্যেকেই একে দেখেছে। তারপর (সেটি) যবেহ করা হবে। আর ঘোষক বলেবেন: হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক; তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক; তোমাদের আর কোন মৃত্যু নেই। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: ﴿ وأنذرهم يوم الحسرة إذ قضي الأمر وهم في غفلة وهؤلاء في غفلة أهل الدنيا وهم لا يؤمنون﴾ [আর তাদেরকে সতর্ক করে দিন পরিতাপের দিন সম্বন্ধে, যখন সব সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। অথচ তারা রয়েছে গাফলতিতে নিমজ্জিত এবং তারা ঈমান আনছে না।] [সূরা মারইয়াম: ৩৯]।” [বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায়: তাফসীর ( كتاب التفسير ), পরিচ্ছেদ: সূরা মারইয়ামের তাফসীর ( باب تفسير سورة مريم ), হাদিস নং- ৪৪৫৩; মুসলিম (১৭ / ১৮৫ - নববী)।]