hadith book logo

সাহাবীদের পেয়েছি, কিন্তু আহলে-বাইতকে হারাই নি

লেখকঃ আবু খলিফা আলি ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-কুদাইবি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ১৩

সাহেবুজ জামানের উপাধি আমাকে নাড়া দিল!

সাহেবুজ জমানের একটি উপাধি আমাকে অবাক ও ব্যথিত করেছে। আল্লামা আন-নুরি ও আত-তাবরাসি বিখ্যাত গ্রন্থ [আন-নাজমুস সাকেব ফি আহওয়ালিল ইমামিল হুজাজ্জাতিল গায়েব] এ যার উল্লেখ করেছেন।

আল্লামা আত-তাবরাসিকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন নেই, এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, শায়খ “আব্বাস আল-কুম্মি”, শায়খ “আগা বুজরুক তেহরানি”, শায়খ “মুহাম্মদ হুসাইন আলে কাশেফুল গেতা”, “সাইয়্যেদ আব্দুল মুহসিন শারফুদ্দিন আল-মুসুবি” প্রমুখ মূল গ্রন্থ প্রণেতাগণ তার ছাত্র।

তিনি উল্লেখ করেছেন সাহেবুজ জমানের এক উপাধি “খসরু মাজুস”, [আন-নাজমুস সাকেব: (পৃ.১/১৮৫)] এটা ইমামের সাত চল্লিশতম উপাধি!

আমার নিকট যা ছিল বড় আশ্চর্য ও অবাক কাণ্ড!

আমাদের ইমামকে কিভাবে “খসরু মাজুস” [অগ্নি পূজক] বলা হয়?! সাহেবুজ জমানের সাথে মাজুসের কি সম্পর্ক?!

সাহেবুজ জমানের আগমন হবে আহলে বাইতের শত্রুদের থেকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য, বিশেষ করে আবু বকর ও ওমর... আমরা এভাবেই শিখেছি। ওমর ইব্‌ন খাত্তাব ইসলামের খলিফা, যার যুগে ইরান বিজয় হয় ও ইরান ইসলামের পতাকা তলে প্রবেশ করে। ইতিহাসে প্রথমবারের মত তার যুগে ইরানে আযান ও সালাত কায়েম হয়। আমি ওমরের অবদান ও ইসলামের দাবিদার ইরানীদের সাথে তার শত্রুতার সম্পর্ক খুঁজছিলাম।

আপনি চাইলে আল্লামা মাজলিসির লেখা বিহারুল আনওয়ার গ্রন্থের নিম্নের বর্ণনা দেখুন, আপনিও আমার ন্যায় আহত ও হতবাক হবেন।

মাজলিসি বর্ণনা করেন, আন-নাওশেযান ইব্‌ন আল-বুদমুরদান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: পারস্যরা যখন কাদিসিয়া থেকে হটে গেল, রুস্তমের পরাজয় ও আরবদের বিজয়ী হওয়ার সংবাদ যখন ইয়াজদাজার ইব্‌ন শাহরিয়ার নিকট পৌঁছল, তিনি মনে করলেন রুস্তম ও পারস্যরা সবাই ধ্বংস হয়ে গেছে। মুবাদির এসে তাকে কাদিসিয়ার ঘটনা, পঞ্চাশ হাজার সৈন্য নিহত হওয়া ও সেখান থেকে তাদের পলায়নের সংবাদ দিল। এ সংবাদ শুনে ইয়াজদাজার পরিবারসহ পলায়ন করল ও ইওয়ানের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। তিনি বললেন: আসসালামু আলাইকা হে ইওয়ানবাসী! আমি তোমার থেকে চলে যাচ্ছি, অতিসত্বর আমি অথবা আমার সন্তানের কেউ তোমার নিকট ফিরে আসবে, যার সময় এখনো হয়নি।

সুলাইমান আদ-দাইলামি বলেন: আমি আলি আবু আব্দুল্লাহ ‘আলাইহিস সালামের নিকট জিজ্ঞাসা করি: “অথবা আমার সন্তানের কোন ব্যক্তি” এ কথার অর্থ কি? তিনি বললেন: তিনি তোমাদের প্রত্যাশিত লোক “কায়েম বি আম-রিল্লাহ”, আমার ষষ্ঠ সন্তান। ইয়াজদার তাকে জন্ম দিয়েছে, সেই তার সন্তান... [বিহারুল আনওয়ার: (৫২/১৬৩-১৬৪)]

নিশ্চয় তা হবে প্রতিশোধ গ্রহণের দিন!

সাহেবুজ জমান ইব্‌ন ইয়াজদার ইরানে ইসলামের ঝাণ্ডা উড়ানো মুসলিমদের থেকে তার পূর্বপুরুষ অগ্নিপুজকদের বদলা নিবেন! তাদের বর্ণনা এরূপ। “খসরু মাজুস” উপাধি থেকেও এরূপ বুঝে আসে!

আল্লাহু আকবার..! এ বাস্তবতা থেকে আমি কোথায় ছিলাম?!

যদিও আমার নিকট এর চেয়ে অবাক কাণ্ড ও অধিক আশ্চর্যের বিষয় রয়েছে..!

মুহাম্মদ ইব্‌ন ইবরাহিম আন-নুমানি লিখিত “আল-গায়বাহ” গ্রন্থে রয়েছে, আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “যখন আল-কায়েম বের হবেন, তখন আরব, কুরাইশ ও তার মাঝে শুধু তলোয়ারই থাকবে। তিনি তাদের কাউকে গ্রহণ করবেন না, তবে তলোয়ার যাকে গ্রহণ করে”। [আল-গায়বাহ: (পৃ.২৩৪)]

লক্ষ্য করুন শিয়াদের সকল বিদ্বেষের কেন্দ্র আরব, বিশেষ করে কুরাইশদের ওপর তাদের ক্ষোভ প্রচণ্ড?!

তাদের বর্ণনা থেকে আরো প্রমাণ হয় যে, আল-কায়েম “আরবের শত্তুরটি বংশ হত্যা করে সমূলে ধ্বংস করে দিবেন”। [দেখুন: বিহারুল আনওয়ার: (৫২/৩৩৩), টিকা নং: (১)]

এ বর্ণনার সাথে সাহেবুজ জমানের উপাধি “খসরু মাজুস” যোগ করুন। সাহেবুজ জামানের পূর্বপুরুষ ইয়াজদার তার সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করে গেছে, কারণ মুসলিমরা তাকে ও তার দলবলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে!!

এসব ঘটনা সচেতন ব্যক্তিকে বজ্রের ন্যায় আঘাত করে..!