hadith book logo

সাহাবীদের পেয়েছি, কিন্তু আহলে-বাইতকে হারাই নি

লেখকঃ আবু খলিফা আলি ইব্‌ন মুহাম্মদ আল-কুদাইবি • পরিচ্ছেদ সংখাঃ ১

পরিচ্ছেদঃ ২২

পরিশিষ্টি

আমার পরিবার ও প্রতিবেশীর নিকট—

তাদের প্রতি, যাদেরকে আমি মহব্বত করি এবং যারা আমাকে মহব্বত করেন—

তাদের প্রতি যারা আহলে বাইতকে মহব্বত করেন ও তাদের অনুসরণ করার ইচ্ছা রাখেন—

তার প্রতি যিনি সত্য ও দোদীপ্যমান জ্যোতির আশা করেন—

প্রত্যেক চিন্তাশীল ও সত্যান্বেষণকারীর প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান—

প্রত্যেককে মনুষ্য স্বভাবের ডাকে সাড়া দেয়ার আহ্বান, যার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ فَأَقِمۡ وَجۡهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفٗاۚ فِطۡرَتَ ٱللَّهِ ٱلَّتِي فَطَرَ ٱلنَّاسَ عَلَيۡهَاۚ لَا تَبۡدِيلَ لِخَلۡقِ ٱللَّهِۚ ذَٰلِكَ ٱلدِّينُ ٱلۡقَيِّمُ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَعۡلَمُونَ ٣٠ ﴾ [ الروم : ٣٠ ]

“অতএব তুমি একনিষ্ঠ হয়ে দীনের জন্য নিজকে প্রতিষ্ঠিত রাখ। আল্লাহর প্রকৃতি, যে প্রকৃতির উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না”। [সূরা রূম: (৩০)]—

নিশ্চয় আল্লাহ বিবেক দ্বারা মানব জাতিকে সম্মানিত করেছেন, তাকে অন্য সকল মখলুক থেকে অনন্য বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন। অতএব মানুষের উচিত আল্লাহর দেয়া নিয়ামতের শোকর আদায় করা। কেন সে এ নিয়ামতের শোকর আদায় করবে না, অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:

﴿ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ ٥٠ ﴾ [ الانعام : ٥٠ ]

“অতএব তোমরা কি চিন্তা করবে না”। [সূরা আনআম: (৫০)]

﴿ أَفَلَا تَعۡقِلُونَ ٤٤ ﴾ [ البقرة : ٤٤ ]

“তোমরা কি বুঝ না”। [সূরা বাকারা: (৪৪)]

﴿ أَفَلَا تُبۡصِرُونَ ٧٢ ﴾ [ القصص : ٧٢ ]

“তোমরা কি দেখবে না”। [সূরা আল-কাসাস: (৭২)]

এসব আয়াত চিন্তার প্রতি আহ্বান করে, গবেষণার প্রতি আহ্বান করে, বিবেককে অন্ধ অনুকরণ থেকে মুক্ত করার প্রতি আহ্বান করে?!

প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তির প্রবৃত্তির অন্ধকার ও অন্ধ অনুকরণ থেকে সতর্ক থাকা উচিত, যা অনিষ্ট ব্যতীত মানুষের জন্য কিছু বয়ে আনে না। যেন সে তাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়, যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:

﴿ فَإِن لَّمۡ يَسۡتَجِيبُواْ لَكَ فَٱعۡلَمۡ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهۡوَآءَهُمۡۚ وَمَنۡ أَضَلُّ مِمَّنِ ٱتَّبَعَ هَوَىٰهُ بِغَيۡرِ هُدٗى مِّنَ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ ٥٠ ﴾ [ القصص : ٥٠ ]

“অতঃপর তারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজেদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহে যালিম কওমকে হিদায়াত করেন না”। [সূরা কাসাস: (৫০)]

অতএব আহলে বাইতের জন্য আমাদের মহব্বত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের ঘনিষ্ঠতার কারণে। এ কারণে তাদের মর্যাদা। অনুরূপ সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচার্য থেকে মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন। আহলে বাইত ও সাহাবীদের মাঝে যোগসূত্র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এক পক্ষ তার আত্মীয় অপর পক্ষ তার সাথী। তাদেরকে যারা মহব্বত করল, মূলত তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতের জন্যই মহব্বত করল।

এ সত্য বুঝার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয় ও সাথীত্বকে গ্রহণ করে সবাইকে জানিয়ে এ ঘোষণা দিতে কোন দ্বিধা নেই: “সাহাবীদের লাভ করেছি, কিন্তু আহলে বাইতকে হারাইনি”।

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين إلى يوم الدين .